Delhi Murder Case :দিল্লিতে বাঙালি অধ্যাপিকা ‘খুনে’ চাঞ্চল্যকর তথ্য, গ্রেফতার এরাজ্যের দম্পতি, ঘটনার দিন কী হয়েছিল ?
Delhi Murder Case Update : দিল্লিতে বাঙালি অধ্যাপিকা খুনে বড় আপডেট, যে ছবি এল প্রকাশ্যে..

কমলকৃষ্ণ দে, বর্ধমান: দিল্লিতে বাঙালি অধ্যাপিকা খুন, গ্রেফতার বর্ধমানের দম্পতি রামপ্রসাদ ও বনশ্রী দাস। মূলত ৪ জুন দিল্লির ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধারকরা হয়েছিল সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের দেহ। অধ্যাপিকা খুনে দিল্লিতে পুলিশের জালে বর্ধমানের দম্পতি। পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত অধ্যাপিকার দাদুর বাড়িতেই ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। সম্পত্তি বিবাদের জেরেই অধ্যাপিকাকে খুন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন, আরও বিধায়ক তৃণমূল ছাড়ছেন ? মুখ খুললেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা, এবার কারা ?
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর,নিহত অধ্যাপিকার দাদুর বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন অভিযুক্ত এই দম্পতি। একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে।রবিবার, যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ নিয়ে বর্ধমানে আসে দিল্লি পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল।বাদামতলার এই বাড়ির সামনে হাজার ডাকাডাকিতেও সাড়া না দেওয়ায়,পাঁচিল টপকিয়ে, ভিতরে ঢোকে পুলিশ।দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় ওই দম্পতিকে।
বর্ধমানের প্রতারিত ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন দে বলেন,আমি কিছুদিন আগে থানায় শুনেছি, একজনের থেকে ৩ লাখ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে নিয়েছে। আমার সঙ্গে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। দোকান দেব বলে আর দেয়নি। তার পর থেকে ফেরার। সেই থেকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমাকে বলা হয়েছে এটা আমার নিজের বাড়ি, ওপরে আমার দিদি থাকে।ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ওইদিন, দিল্লিতে নিজের ফ্ল্যাট থেকে পেশায় সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে সেখানকার পুলিশ।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, ওইদিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ, দিল্লির নিউ অশোকনগর থানায়, ফোন করে নিহত অধ্যাপিকার দিদি অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে খুন করা হয়েছে। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর দেহ।পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন দেবস্মিতা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল ফ্ল্যাট। খুনের আগে শেষবার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন দেবস্মিতা। কিন্তু, তারপর থেকে বারবার ফোন করেও কোনও সাড়া না মেলায় সন্দেহ জাগে। পরে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে অধ্যাপিকার দেহ উদ্ধার করা হয়।কিন্তু কারা খুন করল ওই মহিলাকে? আর কেনই বা খুন করা হল?
স্থানীয় সূত্রে খবর,বছর দুয়েক আগে, এই বাড়িরই নীচের তলা ভাড়া নেয় ওই অভিযুক্ত দম্পতি। প্রায় ৬টি ঘর নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন তাঁরা। সম্প্রতি সেই ঘর ছেড়ে দিতে বলেন দেবস্মিতা ও তাঁর মা অঞ্জলি পাল। কিন্তু, তা ছাড়তে রাজি ছিলেন না রামপ্রসাদ-বনশ্রী। এরই মধ্যে, নাবালক ছেলেকে নিয়ে সটান দিল্লিতে চলে যান তাঁরা। আবার ফিরেও আসেন বর্ধমানে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার, দিল্লির ফ্ল্যাট থেকে ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় অধ্যাপিকার।
পুলিশ সূত্রে খবর,খুনের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে, দেবস্মিতার ফ্ল্যাট চত্বরের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে ওই দুই ভাড়াটিয়াকে। ঢোকার সময়ে পরনে এক ধরনের পোশাক থাকলেও, বেরনোর সময় অন্য পোশাকে দেখা যায় তাদেরকে। আর তারপরই, রবিবার বর্ধমান থেকে পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা। তবে কি সম্পত্তিগত কারণে খুন? নাকি নেপথ্যে অন্য কারণ? সবটা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।





















