Sayani Das: তৃণমূল বিধায়ক অনুমতি দেননি, সায়নীকে ডেকে কালনা স্য়ুইমিংপুলের দরজা খুলে দিলেন বিজেপি বিধায়ক
Swimmer Sayani Das: কালনার মেয়ে সায়নী দাস ইতিমধ্যেই ইংলিশ চ্যানেল সহ ছ'টি চ্যানেল পার করেছে। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও।

রানা দাস, পূর্ব বর্ধমান: সমুদ্রে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। বাংলার সাঁতারে অন্যতম নাম সায়নী দাস। এই প্রতিভাবানের ইতিমধ্য়েই ৬টি চ্যানেল পার করে ফেলেছেন। কিন্তু সেই সায়নীর অনুশীলনের জন্য এতদিন কালনায় স্যুইমিং পুলের দরজা বন্ধ ছিল। কারণটা জানলে অবাক হবে। আসলে সায়নীর বাবা সিপিএম সমর্থক। তাই সায়নীকে কালনা স্যুইমিং পুলে অনুশীলন করার অনুমতি দেননি তৃণমূল বিধায়ক। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলেছে। বিজেপি বিধায়ক এবার সায়নীকেই কালনা স্যুইমিং পুলে সাঁতারের অনুশীলন করার জন্য আহ্বান জানালেন।
কালনার মেয়ে সায়নী দাস ইতিমধ্যেই ইংলিশ চ্যানেল সহ ছ'টি চ্যানেল পার করেছে। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও। সেই সায়নীরই ২০১৫ সালের পর থেকে কালনা শহরের পুরসভার একমাত্র স্যুইমিংপুলে ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তাই বাধ্য হয়েই সায়নীকে কালনা শহরের বিভিন্ন পুকুরে গিয়ে এখনও প্র্যাকটিস করতে হত। সায়নী অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি রাজনীতির শিকার। বাবা কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা কর্মী হতেই পারে, কিন্তু তিনি দেশের হয়ে প্রতিযোগিতায় নামছেন। তিনি কোনও রাজনীতি করেন না। তবু তাঁকে রাজনীতির মধ্য়ে জড়িয়ে স্যুইমিং পুল ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি, এমনটাই জানিয়েছেন সায়নী।
সায়নীর বাবা পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাধেশ্যাম দাস। তিনিই জানিয়েছেন যে, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ সায়নীকে স্যুইমিং পুলে ঢুকতে বাধা দিত। তাই সায়নীর মতো প্রতিভাবান সাঁতারুকে পুকুরে সাঁতার কাটতে বাধ্য হয় হয়েছে।
কালনার বিজেপির বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার সুইমিং পুলে সায়নীর নিষেধাজ্ঞার খবর পেয়েই ছুটে যান তাঁর বাড়িতে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয় পুরসভার স্যুইমিংপুলের সামনে। সেখানেই দেখা যায় বিজেপি বিধায়ক স্যুইমিং পুলের গেট খুলে সায়নীকে আবার নতুন করে প্র্যাকটিস করার জন্য অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য, সায়নী দাস মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইংলিশ চ্যানেল সফলভাবে সাঁতরে পার হয়েছিলেন। যা তাঁকে আন্তর্জাতিক স্তরে বড় পরিচিতি দেয়। এরপর ২০১৯ সালে রোবেন আইল্য়ান্ড ও ২০২২ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটালিনা চ্যানেল জয় করেন। এরপর ২০২৩ সালে মোলকাই চ্যানেল পার করেন সায়নী। অসম্ভব স্রোত, বড় বড় হাঙরের ভয় ও প্রতিকূল আবহাওয়া সামলে এই চ্যানেল জয় করা প্রথম এশীয় নারী সাঁতারু হন। ইতিমধ্য়েই ছয়টি চ্যানেল পার করলেও সাত নম্বর চ্যানেল পার করতে পারেননি কালনার এই সাঁতারু। গত মাসে সুগারু প্রণালী ১৫ কিলোমিটার সাঁতার কাটার পরেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি।























