কলকাতা: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা। মঙ্গলবার রাত ৯টার কিছু পর, হঠাৎই দুলে উঠল মাটি। রাত ৯টা বেজে ৭ মিনিটে কেঁপে ওঠে মাটি। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ উদ্বেগজনক। এখনও পর্যন্ত যা খবর, এদিন রাতে বাংলাদেশের মাটিও কেঁপে ওঠে। মাটি কেঁপেছে ইন্দোনেশিয়ারও। তবে ভূমিকম্পের উৎসস্থল মায়ানমার ছিল বলে জানা যাচ্ছে। সেখানে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬। (Earthquake in Kolkata)
কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। প্রাণহানির খবরও মেলেনি। তবে ঘন ঘন শহর কলকাতার মাটি কেঁপে ওঠায় অশনি সঙ্কেত দেখছেন অনেকেই। কারণ সাম্প্রতিক কালে এই নিয়ে পর পর কেঁপে উঠল শহরের মাটি। (Kolkata Earthquake)
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে মঙ্গলবার রাতে মায়ানমারে তীব্র ভূমিকম্প হয়। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬। মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরতা থেকে ছড়িয়ে পড়ে কম্পন। মায়ানমারের ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশেও। এদিন ভোরেও সেখানে মাটি কেঁপে ওঠে। সেই সময় কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১। ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশেই, ঢাকা থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দূরের সাতক্ষীরার কলারোয়াতে।
এর আগে, গত ২১ নভেম্বরও ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কলকাতা। সেবার কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.৭। কম্পনের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের নরসিংদি। তেব বাংলাদেশে বেশ কয়েক জন মারা গেলেও কলকাতায় সেবার ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিন্তু ওই তীব্রতায় ভূমিকম্প হলে কলকাতা ধসে যেতে পারত বলে সেই সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি ছিল, বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মাঝে রয়েছে ইছামতী নদী। কম্পন নদী পেরিয়ে আসাতেই তীব্রতা কমে গিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার জানান, ভবিষ্যতে, নিয়ম মেনে নগরোন্নয়ন ও জলাভূমি রক্ষার ওপর জোর না দিলে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়ে যাবে।
কলকাতায় বড় মাপের ভূমিকা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, হিমালয় পাদদেশ থেকে দূরত্বের নিরিখে এমনিতেই শহর কলকাতা ভূমিকম্প বা মৃদু ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। তার উপর কলকাতা নরম কাদামাটির উপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই অবস্থায় মাটির নীচে তোলপাড় হলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। বিশেষ করে ঘিঞ্জি এলাকাগুলিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, বাড়ি ঘর হেলে পড়তে পারে যেমন, তেমনই প্রাণহানির ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পুরনো বাড়িগুলি একেবারে ধসে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।
পূর্ব কলকাতার জলাভূমি যেভাবে বেআইনি নির্মাণে ভরে গিয়েছে, তা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টও। বিপদ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মতে, জলাজমিতে তৈরি বাড়িগুলির বিপদ সবচেয়ে বেশি। প্রশাসনের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। ভূমিকম্প প্রতিরোধ সংক্রান্ত নিয়ম কানুন মেনে বাড়ি তৈরি হচ্ছে কি না নজর রাখা জরুরি।