East Burdwan News : ১২ বছর ধরে স্কুলে নেই অঙ্কের শিক্ষিকা ! অন্য স্কুলে থেকে আসে প্রশ্ন, দেখা হয় উত্তরপত্রও !
Maths Teacher Scarcity : নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়। এই পরিস্থিতিতে কবে মিলবে শূন্যস্থান পূরণের অঙ্কটা ? অপেক্ষায় পাটুলি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

রানা দাস, পূর্ব বর্ধমাান : পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত অঙ্কের ক্লাস নেন অন্য বিষয়ের শিক্ষিকারা। অষ্টম থেকে দশমের রুটিনে অঙ্কের ক্লাসই নেই। কারণ ? পূর্ব বর্ধমানের (Purba Burdwan) পাটুলি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ১২ বছর ধরে নেই অঙ্কের শিক্ষিকা (No Maths Teacher in School)। পরীক্ষার প্রশ্ন করা থেকে খাতা দেখেন অন্য স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। খবর সামনে আসতেই শোরগোল, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা স্কুল পরিদর্শক।
নেই শিক্ষিকা, এইট থেকে টেনের রুটিনেই নেই অঙ্ক !
এক যুগ পার, কিন্তু এখনও 'অঙ্ক' মিলল না পাটুলি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের। পূর্বস্থলী ২নম্বর ব্লকের পাটুলি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা ৫০২। শিক্ষিকার পদ ১৭টি। আছেন মাত্র ৭ জন শিক্ষিকা। তাঁরাই সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত অঙ্ক সহ সব বিষয় পড়ান। অন্যান্য ক্লাস ঠিকঠাক হলেও অষ্টম থেকে দশমের অঙ্ক ক্লাস মানেই আতঙ্ক। না, কঠিন সিঁড়িভাঙা অঙ্কের আতঙ্ক নয়, কে ক্লাস নেবে? আতঙ্ক এটাই !
স্কুল সূত্রে খবর, অঙ্কের শিক্ষক নেই ১২ বছর। তাই অষ্টম, নবম দশম শ্রেণিতে অংকের ক্লাসই হয় না। পড়ুয়াদের অঙ্ক শেখার ভরসা প্রাইভেট টিউশন। পরের বছর মাধ্যমিকে বসবে প্রায় ৭০ জন ছাত্রী। অঙ্ক নিয়ে চিন্তায় অভিভাবকরা। পরীক্ষার সময় প্রশ্ন তৈরি করে দেন় অন্য স্কুলের শিক্ষক। এমন কী খাতাও দেখে দেন অন্য স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পাটুলি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষিকা হাসনা খাতুন বলেছেন, 'আমরা খাতাগুলো অন্যদের দিয়ে পরীক্ষা করাই। অনেকে করতে চায় না। বার বার ডিআইকে জানিয়েছি, কিছু হয়নি'। আর পাটুলি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুরভি মাণ্ডি বলেছেন, 'অঙ্কের টিচার নেই, বাইরের টিচার দিয়ে প্রশ্ন করাতে হয়'।
কোথায় সমস্যা ?
স্কুলসূত্রে খবর, অঙ্কের একমাত্র শিক্ষিকা বদলি হন, ২০১১ সালে। তারপর আর কোনও শিক্ষিকা যোগ দেননি ওই পদে। বার বার ডিআইকে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলে অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের। যদিও জেলা স্কুল পরিদর্শক জানিয়েছেন, বিষয়টি জানাই নেই। খোঁজ নিয়ে জানাব। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়। আদালতের নির্দেশে, চাকরি যাচ্ছে অযোগ্যদের, আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে কবে মিলবে শূন্যস্থান পূরণের অঙ্কটা ? অপেক্ষায় পাটুলি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
আরও পড়ুন- 'চাকরি-বিক্রিতে জড়িত দলের অনেক নেতাই' বিস্ফোরক অভিযোগ বাঁকুড়ার ওন্দার তৃণমূল নেতা
Before You Go
Humayun Kabir : 'শক্তিপুর থানার ওসি-র আচরণ, তাঁর ঔদ্ধত্যের জন্যই হাজিরা দেব না', বললেন হুমায়ুন






















