Pabitra Sarkar : 'এটা শুনে শিক্ষক হয়েছিলাম বলে লজ্জা হচ্ছে', বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় মন্তব্য পবিত্র সরকারের
Remuneration Controversy : এই বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়-ই কয়েকদিন আগে অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক ঝাড়ুদারের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তাঁর বেতন হচ্ছে- মাসে ৫ হাজার টাকা।

কলকাতা : বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (Bankura University) বিজ্ঞপ্তি ঘিরে শোরগোল। সম্প্রতি এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, ঝাডুদারের থেকে কম সাম্মানিক পাবেন অধ্যাপক ! যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। এবার সরব হলেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার (Educationist Pabitra Sarkar)। 'এটা শুনে সত্যি সত্যি শিক্ষক হয়েছিলাম বলে লজ্জা হচ্ছে', বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তি ঘিরে শোরগোল-
বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি একটি আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তারা পদার্থবিদ্যায় বিশেষ লেকচারার পদে নিয়োগ করতে চায়। তাতে ন্যূনতম যোগ্যতা ধরা হয়েছে, পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর, সঙ্গে নেট কিংবা পিএইচডি। অর্থাৎ সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এখানে ধরা হয়েছে। এখানে সাম্মানিক হিসাবে বলা হয়েছে, ক্লাসপিছু ৩০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ৩০০ টাকার বিনিময়ে একজন নেট কিংবা পিএইচডি, পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে পড়াতে যাবেন। এই সিদ্ধান্তে হইচই পড়ে গেছে। অনেকে বলছেন, যেখানে ইউজিসি বলছে ক্লাসপিছু দেড় হাজার টাকা করে দিতে হবে, সেখানে ক্লাসপিছু কেন একজন অধ্যাপকের ৩০০ টাকা করে বেতন হবে ? সপ্তাহে তিনি সর্বোচ্চ চারটি করে ক্লাস নিতে পারবেন। অর্থাৎ যোগ্যতার ভিত্তিতে যিনি চাকরি পাবেন, সবকিছু ধরলে তিনি মাসে ৪৮০০ টাকা করে সাম্মানিক হিসাবে পাবেন।
অথচ এই বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়-ই কয়েকদিন আগে অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক ঝাড়ুদারের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তাঁর বেতন হচ্ছে- মাসে ৫ হাজার টাকা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাড়ুদারের বেতন একজন অধ্যাপকের থেকেও বেশি হবে ? অধ্যাপকের বেতন ঝাড়ুদারের থেকেও কম হবে ? গোটা বিষয়টি রাজ্যে শোরগোল পড়ে গেছে।
এনিয়ে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, "এটা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁরা কি ভাবেননি যে বিষয়টা সবাই জানতে পারবেন এবং লজ্জিত হতে হবে ? এটা ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত এবং লোকের কাছে মুখ দেখানো দায় হওয়া উচিত। কারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানি না। উচ্চতম কর্তৃপক্ষই হয়তো নিয়েছেন। কিন্তু, এই ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার পক্ষে লজ্জাকর। এই সরকার কীভাবে শিক্ষাকে অবমূল্যায়ন করছে, তার একটা প্রমাণ হিসাবে যদি বলি আমি কি মিথ্যা কথা বলব ? এটা শুনে সত্যি সত্যি শিক্ষক হয়েছিলাম বলে লজ্জা হচ্ছে। "
প্রসঙ্গত, এই জেলাতেই বাঁকুড়া পুলিশের এক সিদ্ধান্ত নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা রাজ্যে। সেখানে প্রাথমিক স্কুলে সিভিক ভলান্টিয়ারদের পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। প্রবল বিতর্কের মুখে শেষমেশ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল রাজ্য সরকার। সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। তারপর সেই বাঁকুড়া জেলাতেই বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যেখানে নিয়োগ দুর্নীতিতে একের পর এক ঘটনা উঠে আসছে প্রতিদিন, সেখানে অধ্যাপনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত হতে চলেছেন, তাঁদের বেতন হবে দৈনিক ৩০০ টাকা ? এনিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও চড়েছে। সুকান্ত মজুমদার এনিয়ে ট্যুইটারে সরব হয়েছেন।
আরও পড়ুন ; ঝাড়ুদারের থেকেও কম বেতন অধ্যাপকের ! বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে রাজ্যজুড়ে শোরগোল






















