Fake Currency: ফেরিঘাট থেকে উদ্ধার ৯ কোটি টাকার জাল নোট ! বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির পরিকল্পনা, সন্দেহ পুলিশের
Fake Note: প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, বড় কোনও অপরাধ সংগঠিত করার জন্যেই এই প্রত্যন্ত এলাকায় এত পরিমাণ জাল নোট নিয়ে জড়ো হয়েছিল দুষ্কৃতীরা।

সমীরণ পাল, সন্দেশখালি : সন্দেশখালি থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৯ কোটি টাকার জাল নোট। ধামাখালি ফেরিঘাট থেকে উদ্ধার হয়েছে এই বিপুল পরিমাণ জাল নোট। জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ২ জনকে। ধৃতদের নাম সিরাজউদ্দিন মোল্লা ও দেবব্রত চক্রবর্তী। বড় ধরনের অপরাধ সংগঠিত করার উদ্দেশেই জড়ো হয়েছিল ধৃতরা, অনুমান পুলিশের।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, বড় কোনও অপরাধ সংগঠিত করার জন্যেই এই প্রত্যন্ত এলাকায় এত পরিমাণ জাল নোট নিয়ে জড়ো হয়েছিল দুষ্কৃতীরা। গতকাল রাতে সন্দেশখালি থানা এলাকার ধামাখালি ফেরিঘাটের কাছে রয়্যাল গেস্ট হাউসে উঠেছিল ধৃত ২ ব্যক্তি। স্থানীয় দোকানে জিনিস কিনতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। টাকার নোট দেখে জাল বলে সন্দেহ হয় দোকানদারের। তৎক্ষণাৎ তিনি খবর দেন পুলিশে। এরপর পুলিশ এসে এই ২ ব্যক্তিকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই ২ ব্যক্তির কাছ থেকে নেপালি মুদ্রাও উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে টাকা পাঞ্চ করার মতো পাঞ্চিং মেশিনও পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জাল নোটের সঙ্গে আসল টাকাও রয়েছে কিছুটা পরিমাণে। এর পাশাপাশি পুলিশ এও জানিয়েছে, জাল নোটের পরিমাণ বাড়তে পারে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কী উদ্দেশ্যে তারা রয়্যাল গেস্ট হাউসে উঠেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। আজ ধৃতদের আদালতে বসিরহাট আদালতে পেশ করা হবে। এই জাল নোড় চক্রের পিছনে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের মধ্যে দেবব্রত চক্রবর্তীর বাড়ি মহেশতলায়। আর সিরাজউদ্দিন মোল্লার বাড়ি ক্যানিংয়ের জীবনতলা থানা এলাকায়। পুলিশ গতকাল রাতেই নদী পেরিয়ে এসে এই ২ ব্যক্তিকে প্রথমে আটক করে নিয়ে যায় সন্দেশখালি থানায়। রাতভর চলে জিজ্ঞাসাবাদ। তারপর গ্রেফতার করা হয় এই ২ জনকে। সিরাজউদ্দিনের থেকে ২টো আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই আধার কার্ড দিয়ে কী করার উদ্দেশ্য ছিল তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এই ২ জনের অন্যান্য সঙ্গীরা রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে বলে অনুমান পুলিশ। আদালতে পেশের পর এই ২ জনকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। কারণ তদন্তের স্বার্থে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ টাকা কেন এই প্রত্যন্ত এলাকায় আনা হয়েছিল তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। বসিরহাট পুলিশের একটি বিশেষ দল এই তদন্তের সূত্রের রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ধামাখালি এমন একটি জায়গা যেখান থেকে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে কলকাতায় যাওয়া যায়। সেখানে কারওর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল কিনা এই ২ জনের, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এছাড়াও ধামাখালি থেকে নদীপথে কাছেই (১৫-২০ কিলোমিটার) বাংলাদেশ সীমানা। ধৃতদের জাল নোট নিয়ে বাংলাদেশে পালানোর ছক ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ছক ছিল ধৃতদের, প্রাথমিক তদন্তে এমনই অনুমান পুলিশের। কেন সিরাজউদ্দিনের কাছে ২টো আধার কার্ড রয়েছে, দেবব্রতর কাছে কোনও নথি আছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।






















