Falta Repoll: 'বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসত', আজ ফলতায় ভয়হীন ভোট, 'রানা'-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ তাও কমছে না
Falta Repoll News: ফলতার পুনর্নিবাচনের ঠিক আগেই ভোট থেকে সরে দাঁড়ান তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। আর তারপরই জাহাঙ্গিরের অত্যাচারের অসংখ্য নিদর্শন সামনে আসতে শুরু করেছে।

আবির দত্ত, ফলতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : আজ ফলতায় ভোট হয়েছে সুষ্ঠু ভাবে। বাসিন্দারা প্রায় সকলেই বলেছেন, গত ১৫ বছর জাহাঙ্গির খানের ভয়ে তাঁরা ভোটই দিতে পারেননি। এবার মনের ইচ্ছে মতো, ভয়ডরহীন হয়ে ভোট দিয়েছেন। গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচন হয়েছিল ফলতায়। কিন্তু সেই সময় কারচুপির এত অভিযোগ এসেছিল ফলতার বিভিন্ন বুথ থেকে যে, নির্বাচন কমিশন ভোট বাতিল করে দেয়। আজ ২১ মে বৃহস্পতিবার ফের ভোট হয়েছে ফলতায়। সকাল থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তা। মোতায়েন ছিল প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ। ছিল বুলেট প্রুফ সাঁজোয়া গাড়িও। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ভোটারদের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ফলতার পুনর্নিবাচনের ঠিক আগেই ভোট থেকে সরে দাঁড়ান তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। আর তারপরই জাহাঙ্গিরের অত্যাচারের অসংখ্য নিদর্শন সামনে আসতে শুরু করেছে। সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে বিএলও। গ্রামের মহিলারা ভয় না পেয়ে মুখ খুলেছেন। ভোটের সময় জাহাঙ্গির এবং তাঁর দলবল ঠিক কী কী করত, তার অনেক ঘটনাই ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। এবার শোনা গেল তৃণমূল নেতা রানা মণ্ডলের নাম। রাজ্য়ে সরকার বদলে গেছে। মানুষের ভয় ভেঙে গেছে। ফলতাতেও সেই বদলের প্রভাব পড়েছে। এতদিন যাদের তৃণমূলের শাসানি সহ্য় করতে হয়েছে, তাঁরা এবার সামনে এসে মুখ খুলছেন। আর যাঁরা শাসাতেন, সেই তৃণমূল নেতার ক্ষোভের মুখে পালানোর পথ খুঁজছেন।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফলতায় ভোট পড়ল ৮৬.১১%, ময়দানে নেই তৃণমূলের 'পুষ্পা', ভয়মুক্ত ভোট দিচ্ছে ফলতা
ভয় ভেঙে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন মুখ খুলছে। আর একসময়ে যারা চোখ রাঙাত, সেই তৃণমূল নেতারা এখন পালানোর পথ খুঁজছে। বৃহস্পতিবার ফলতার পুনর্নির্বাচনে দেখাই মেলেনি তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের। তবে দেখা মিলল আরেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এদের দাপটেই ২০২১-এর বিধাসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি অনেকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে দেখতে পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। কেউ বলেছেন, ১৫ বছর ভোট দিতে পারেনি। জাহাঙ্গির এবং তাঁর শাগরেদরা ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে দিত না। রানা মণ্ডলকে আজ সকালে বুথের বাইরে কার্যত ধাওয়া করে ধরেন ভোটাররা। পিছন থেকে তাঁকে 'চোর', 'গুণ্ডা' বলে ক্ষোভ উগরে দিতে থাকেন গ্রামবাসীরা। রানা মণ্ডল অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নাকি কোনও হুমকিও দেননি।
এক মহিলা ভোটারের অভিযোগ, এতদিন ভোট দিতে গেলে বুথের ভিতরেই বলা হতো, আমাদের দেখিয়ে ভোট দিন। ইভিএম মেশিনে আতর লাগিয়ে রাখার অভিযোগও করেছেন ভোটাররা। বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া থেকে শুরু করে টাকা তোলা, বাদ নেই কিছুই। ভোটের আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বলা হত ভোট দিতে যাবে না, বাড়িতে সাদা শাড়ি পাঠাব, স্বামীদের শেষ করে দেব। আজ অবশ্য সকলেই বলেছেন মন খুলে ভোট দিতে পেরেছেন তাঁরা। স্থানীয়রা এও অভিযোগ করেছেন, এর আগে ২৯ এপ্রিল যে ভোট হয়েছিল ফলতায়, তখন ভোটারদের হুমকি দিয়েছিল এই রানা মণ্ডল। তারপর রাজ্যে পালাবদলের পর কিছুদিন ঘরছাড়া ছিল যে। আজ ফের ভোটের দিন বুথের আশপাশে রানাকে দেখা যেতেই, তাঁকে ধাওয়া করেন ভোটাররা। প্রকাশ্যে বলতে থাকেন জাহাঙ্গির খানের এই শাগরেদের নানা কুকীর্তির কথা।




















