Halisahar TMC Worker Death Mystery: 'হাত-পা বেঁধে পেরেক মারা হয়েছে, গরম জলে রাখা হয়েছিল', মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিহত TMC কর্মীর স্ত্রীর
Halisahar TMC Worker Death Mystery: পুলিশের ডিজি-সিপি আপনাকে বিচার দেবে, ভরসা রাখছেন ? সাংবাদিকদের মুখোমুখি মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া অভিযোগ পত্রে কী লিখলেন ?

কলকাতা: আজ হালিশহরে মৃত তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী । এদিকে গতকাল হালিশহরে ওই স্থানে যেতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। যা নিয়ে আজ প্রতিবাদে নামছে কালীঘাট তৃণমূল। যদিও এদিন তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গোটা ঘটনার পর এই মুহূর্তে শিরোণামে হালিশহর। নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী।এদিন মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,“এখনও ৩ বছর হয়নি ছেলের, মেয়েটা ৮, আমি তাঁদের নিয়ে কীভাবে চলব ভবিষ্যতে ?” যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, "উনি আমাদের বাচ্চাদের জন্য বলেছেন যে, যাতে আমি বাচ্চাদেরকে নিয়ে থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা উনি করে দেবেন। "
আরও পড়ুন, মমতার গাড়িতে ‘হামলা’, 'তীব্র নিন্দা' কুণালের, আজ রাস্তায় নামছে কালীঘাট-তৃণমূল শিবির
এবিপি আনন্দ: আপনি তৃণমূল করেন। এবং মুখ্যমন্ত্রী আজকে আপনার কাছে এলেন। আপনার কী বক্তব্য ছিল তাঁর কাছে প্রথমেই ?
মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী: আমি তৃণমূল কর্মী ছিলাম, আমি একজন কাউন্সিলারও ছিলাম। কাঁচড়াপাড়া পৌরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর…. থাকা সত্ত্বেও উনি এসেছেন। আমি তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। যেহেতু আমি অন্য পার্টি করতাম, বিরোধী দল করতাম, আর উনি এখন বর্তমান সরকারে আছেন, উনি আমার জন্য এসেছেন, আমি তার জন্য ওনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। শুধু এই যে, আমার বিচারটা সবার আগে চাই।
এবিপি আনন্দ: আপনি ভরসা রাখছেন, মানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী, তার উপর তৃণমূল কর্মী আপনি..
মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী: এখন তো বলতে গেলে, উনি এখন বিজেপি নন। উনি এখন জনসাধারণের মুখ্যমন্ত্রী। তো সেক্ষেত্রে আমিও এখন বর্তমানে কাউন্সিলর নই। আমি এখন বিরোধী পার্টি নই। কারণ যেটা চলে গেছে, সেটা তখন আমি ছিলাম কাউন্সিলর, এখন আমি সাধারণ মানুষ। তো সেদিক থেকে আমি বিচার পাব, আমি আশাবাদী।
এবিপি আনন্দ: আপনাদের একটা চাকরির কথা বলেছেন (মুখ্যমন্ত্রী), আপনি কি সেটা গ্রহণ করছেন ?
মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী: দেখুন আগে আমার বিচার চাই। আজ বললেই যে, কাল আমার বিচার হচ্ছে, বা কালই আমি বিচার করতে চলে যাচ্ছি, ব্যাপারটা তো এমন নয়। সেক্ষেত্রে এটা লেনদি প্রসেস। সেক্ষেত্রে আমার বিচার চাই। তারপর আমার বাচ্চাদের ভবিষ্যত নিয়ে..।
এবিপি আনন্দ: আপনার কী সন্দেহ হচ্ছে, পুরো ঘটনা নিয়ে আপনার কী বক্তব্য ? মুখ্যমন্ত্রীকে একটা অভিযোগপত্র লিখেছেন, কী আছে ওর ভিতরে ?
মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী: অভিযোগপত্রতে লেখা আছে যে, আমার হাজব্যান্ডকে ওরা কীভাবে মেরেছে ? কোথায় কোথায় ক্ষত আছে, ওর হাতদুটোকে বেঁধে মারা হয়েছে। হাতে দড়ির দাগ রয়েছে। পায়েও বেধে মারা হয়েছে। পায়ের নীচে কালো কালো হয়ে গিয়েছে। সম্ভবত, গরম জলের উপর ওর পা-টা রাখা হয়েছিল, পেরেক দিয়ে মারা হয়েছে, ঠিক এই অংশে দুটো ফুঁটো আছে (বলে পায়ের অংশে দেখিয়েছেন), পেরেক যেমন ঢুকে গেলে ফুটো হয়, ওরকম দুদিকে ওখান থেকেও ব্লিডিং হচ্ছে। আর কানে..পশ্চাদ অংশে পুরো জমাট বেধে গিয়েছিল (রক্ত)।
এবিপি আনন্দ: ওনাকে যে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তার পিছনে কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল ?
মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী: রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, না ছিল, এফআইআর-এর কোনও নাম নেই।আমাদের সাথে পুলিশ কর্তৃপক্ষ থেকে, কোনওরকম কোনও যোগাযোগ কিন্তু করা হয়নি।যেহেতু আমার হাজব্যান্ড ভোটের পরে বাড়ি ছিল না, আমরা যেহেতু তৃণমূল করতাম।ওইখান থেকে ওকে তুলে আনা হয়। আমাদেরকে পুলিশ প্রশাসন থেকে কোনওরকমভাবে, ওই তুলে আনা থেকে শুরু করে, হাসপাতালে ফেলে রাখা অবধি, এই অবধি আমার সাথে বা আমার পরিবারের সাথে কোনওরকম কোনও যোগাযোগ করেনি পুলিশ প্রশাসন।যা করেছি আমরা নিজে।
এবিপি আনন্দ: এই পুলিশের ডিজি, এবং সিপি ,তাঁরা আপনাকে বিচার দেবে, এটা আপনি ভরসা রাখছেন ?
মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী: পুলিশ প্রশাসনে যারা আছেন,..আমি তো বলছি না, সব পুলিশই খারাপ, সেটা কোনওদিনই হতে পারে না। সেক্ষেত্রে আমি হালিশহরের যে পুলিশ প্রশাসন আছে, তাঁদের উপর দোষটা দিচ্ছি। তা বলে তো সব পুলিশ খারাপ হতে পারে না। তো সেইক্ষেত্রে এই পুলিশের উপর আমরা সাধারণ মানুষ ভরসা না রাখি, তাহলে আমরা বিচার কী করে পাব ? আমাকে তো ভরসা রাখতেই হবে।
এবিপি আনন্দ: কালকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন।আপনার সঙ্গে কোনও কথা হয়েছে ?
মৃত তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী: না । দেখুন প্রত্যেকটা বাড়িরই কিছু রীতিনীতি থাকে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে… বারো ঘণ্টা নির্জলা উপোস রেখেছিলাম। তো সেক্ষেত্রে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমি ..রিটার্ন পাবো না।






















