Arpita Sarkar : 'ওই মেয়েটা বোরখা পরে থাকত'... মেয়ের জ*ঙ্গিযোগ নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, কার দিকে আঙুল অর্পিতার বাবার
ধৃত অর্পিতা সরকারের জেঠুর মুখেও আবার শোনা গেল, অর্পিতার এক বন্ধুর প্রসঙ্গ, যে প্রায়শই বাংলাদেশের কথা বলত বলে তাঁদের দাবি।

ময়ূখঠাকুর চক্রবর্তী, কমলকৃষ্ণ দে, সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : হানি ট্র্যাপে ফেলে অপহরণের ছক। বর্ধমানের জিম থেকে হামিমের গ্রেফতারির পরে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে পুলিশের জালে পড়েন তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার। STF সূত্রে দাবি, হামিমের সঙ্গে যেমন পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী ও সে-দেশের গুপ্তচর সংস্থার ISI-এর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, তেমনি জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টি ও ISI-এর থেকে অ্যাসাইনমেন্ট আসত অর্পিতার কাছে। কে এই অর্পিতা?
কলেজছাত্রী অর্পিতা সরকারকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মেয়ে যে এমন সাঙ্ঘাতিক চক্রে জড়িয়ে পড়েছে, ভাবতে পারছেন না পরিবারের লোকজন। অর্পিতার বাবার কথায়, দাবি, অর্পিতা নিজে পরিকল্পনা করে কিছু করেনি, বরং ধীরে ধীরে একটি চক্রের জড়িয়ে পড়ে। অর্পিতার বাবা সুজিতকুমার সরকারের দাবি, মেয়ের এক বান্ধবীর মাধ্যমেই এই যোগাযোগের সূত্রপাত। সেই বান্ধবীর বাড়ি মালদায়। অর্পিতার বাবার দাবি, মালদহের ওই বান্ধবী প্রায়ই বলত, ‘আমাদের ওপর অত্যাচার হয়।’ সেই মেয়েটি সবসময় বোরখা পরে থাকত বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর কীভাবে অর্পিতা ওই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল, তা এখনও তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। ধৃত অর্পিতা সরকারের জেঠুর মুখেও আবার শোনা গেল, অর্পিতার এক বন্ধুর প্রসঙ্গ, যে প্রায়শই বাংলাদেশের কথা বলত বলে তাঁদের দাবি।
অন্যদিকে অর্পিতার দিদিও ধোঁয়াশায়, এতবড় ফাঁদে কীভাবে পড়লেন তাঁর বোন। নিশা সরকারের অভিযোগ, ধৃত হামিম মণ্ডলই তাঁর বোনকে ব্যবহার করেছে। সেই তার কথার জালে ফাঁসিয়েছে বোনকে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইনস্টাগ্রাম-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলত জঙ্গি-নেটওয়ার্কটি । অর্পিতার প্রোফাইলে বাইক রাইড, ফটোগ্রাফি, লাইফস্টাইল-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও নিয়মিত পোস্ট করা হত। তদন্তকারীদের অনুমান, এই সব আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও দেখেই অনেকে আকৃষ্ট হতেন। তারপর অর্পিতার জালে জড়িয়ে যেতেন। নিজের অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একাধিক ভুয়ো প্রোফাইলও ব্যবহার করত অর্পিতা। সেই সূত্রেই সম্ভাব্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ। আর তারপর ধীরে ধীরে তাদের মগজ - ধোলাই করে নিজেদের পথে নিয়ে আসা !
এসটিএফ এর দাবি, হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের ভূমিকা ছিল এই নেটওয়ার্টে আরও সদস্য জোগাড় করা । তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল, পশ্চিমবঙ্গ বা অন্য কোনও রাজ্য থেকে আরও কাউকে এই চক্রে যুক্ত করা হয়েছিল কি না, এবং সেই সম্ভাব্য সদস্যরা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন —তার উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী অফিসাররা।























