Humayun Kabir: ২৪ঘণ্টা সময় লাগত না শায়েস্তা করতে, অনুব্রতর পর এবার পুলিশকে আক্রমণে হুমায়ুন, পরে সুরবদল
পুলিশকে শায়েস্তা করার কথা বলেছিলেন আর আজ পুলিশ সুপারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন হুমায়ুন কবীর ।

অনির্বাণ বাগচী, রাজীব চৌধুরী, মুর্শিদাবাদ: অনুব্রত ও বিক্রমজিতের মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি, তাতে এবার নতুন সংযোজন হুমায়ুনের মন্তব্যে। বহরমপুরের একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে পুলিশকে বেলাগাম আক্রমণ করলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে থাকা তার কাছে নতুন কিছু নয়। তবে এবার রাত পেরিয়ে সকাল হতেই ভোল পাল্টে ফেললেন হুমায়ুন। যিনি আগের রাতে বলেছিলেন, 'পুলিশের চমকানিকে ভয় করবেন না...আমি যদি বিরোধী আসনে থাকতাম, ২৪ ঘণ্টা সময় লাগত না এইসব শায়েস্তা করতে। ' তিনিই রাত পেরতে বলছেন, 'যে কথা বলেছিলাম, সেটা প্রকাশ্যে বলা আমার মোটেই উচিত হয়নি, ঠিক হয়নি।'
অনুব্রত মণ্ডল, টিএমসিপি নেতা বিক্রমজিত সাউয়ের পথে হেঁটে রবিবারই পুলিশকে বেলাগাম আক্রমণ করেছিলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বহরমপুরের একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে থানার নাম ধরে ধরে পুলিশকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, 'মুর্শিদাবাদের বেশকিছু থানা, যেমন ওই ঘটনাটা ঘটেছে সামশেরগঞ্জ থানায়, এখনও লালগোলা থানা, বড়ঞা থানা, আমার ভরতপুর থানায় এমন কিছু কিছু কর্মকাণ্ড চলে, আমি যদি বিরোধী আসনে থাকতাম, ২৪ ঘণ্টা সময় লাগত না এইসব শায়েস্তা করতে। কিন্তু আমার হাত, পায়ে বেড়ি দেওয়া আছে, সেইজন্য এইসব থানাগুলো যে ঔদ্ধত্য বা সাধারণ মানুষের উপরে যে জুলুম, অত্যাচার করে। ' তিনি আরও বলেন, 'পুলিশের চমকানিকে ভয় করবেন না। পুলিশ যদি অন্যায়ভাবে আপনাদের পরিবারকে বিরক্ত করে, আমাকে খবর দেবেন, আমি আপনাদের পাশে আছি।'
কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবেই ঠিক পরদিনই সোমবার একেবারে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন তিনি বললেন, 'প্রকাশ্যে বলা আমার মোটেই উচিত হয়নি, ঠিক হয়নি।' তিনি জানান, 'যেহেতু আমি একটি দলের বিধায়ক, আমি রাজ্য প্রশাসনের একটা অঙ্গ...মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। কিছু মানুষ, লালগোলা, বড়ঞা, ভরতপুর, কিছু মানুষ স্থানীয় থানার কিছু পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল।' হুমায়ুন বর্তমান পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন বলেও জানান।
সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসি-কে কুৎসিত , নোংরা ভাষায় আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই অশ্লীল আক্রমণ ঘিরে উত্তাল বঙ্গরাজনীতি। ঘরে বাইরে চাপে অনুব্রত। যদি তিনি আছেন পুরনো মেজাজেই। পুলিশের তলব সত্ত্বেও তিনি সাড়া দেননি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বাড়ি থেকেই বের হননি। অনুূব্রতর হয়ে সুর চড়িয়ে বিতর্কে জড়ান টিএমসিপি নেতা বিক্রমজিৎ সাউও। ৬ বছরের জন্য তাঁকে সাসপেন্ড করে দিয়েছে দল। এবার সেই একই পথে হেঁটে হুমায়ুনকেও কি চাপি রেখেছে দল? নাকি ভোল পাল্টে পুলিশের প্রশংসা করা সব দোষ মাফ হয়ে যাবে হুমায়ুনের?






















