El Nino : স্বস্তি নেই ! গত কয়েকবছরের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হতে পারে এবার, 'এল-নিনো' নিয়ে ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস
জুন মাস থেকেই দুর্বল অবস্থায় এল নিনোর প্রভাব শুরু হতে পারে। জুলাই-আগস্টে তা মাঝারি শক্তি অর্জন করবে এবং সেপ্টেম্বর নাগাদ পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছে ভারতের আবহাওয়ায় বড় প্রভাব ফেলবে।

কলকাতা : প্রাক বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজছে পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু বর্ষা নিয়ে এবার খুব একটা আশাব্যাঞ্জক বার্তা দিচ্ছে না আবহাওয়া দফতর। বরং গত কয়েক বছরের মধ্যে সবথেকে কম বৃষ্টি হতে পারে এই বছর। কারণ ‘এল নিনো’। কারও কারও কথায় সুপার ‘এল নিনো’। চলতি বছরের বর্ষায় ‘এল নিনো’ প্রভাব নিশ্চিত ! এমনটা এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন IMD-র ডিরেক্টর জেনারেল ডঃ মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। তাঁর আশঙ্কা, এর জেরে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টি দেখতে পারে ভারত। India Today কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে IMD প্রধান জানিয়েছেন, জুন মাস থেকেই দুর্বল অবস্থায় এল নিনোর প্রভাব শুরু হতে পারে। জুলাই-আগস্টে তা মাঝারি শক্তি অর্জন করবে এবং সেপ্টেম্বর নাগাদ পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছে ভারতের আবহাওয়ায় বড় প্রভাব ফেলবে।
কী এই এল নিনো? কেন এত উদ্বেগ?
এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের (Pacific Ocean) জলের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। এই উষ্ণতা এশিয়ার আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে ভারতের বর্ষা, তাপপ্রবাহ, কৃষি এবং জলসম্পদের উপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। আবহাবিদদের মতে, এল নিনো সক্রিয় হলে সাধারণত ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত কমে যায়। একই সঙ্গে বাড়ে তাপপ্রবাহের আশঙ্কাও। ফলে কৃষিক্ষেত্র, পানীয় জলের জোগান এবং বিদ্যুতের চাহিদায় চাপ তৈরি হয়।
জুনেই শুরু, সেপ্টেম্বরেই সবচেয়ে বড় প্রভাব
ডঃ মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, জুন মাসে এল নিনো দুর্বল অবস্থায় তৈরি হলেও জুলাই এবং অগাস্টে তার প্রভাব আরও বাড়বে। সেপ্টেম্বর মাসে এল নিনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে IMD ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, এ বছরের মনসুনে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
NASA-র স্যাটেলাইটেও ধরা পড়েছে বড় সংকেত
উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলির পূর্বাভাস। অস্ট্রেলিয়ার Bureau of Meteorology (BOM) জানিয়েছে, জুন থেকেই এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে চিনের National Climate Centre-ও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ইতিমধ্যেই এল নিনো পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী মাসগুলিতে তা আরও শক্তিশালী হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে NASA-র স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ থেকে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে বিশাল উষ্ণ জলের স্তর তৈরি হচ্ছে। এই ‘subsurface heat reservoir’-কেই এল নিনো তৈরির অন্যতম প্রধান সংকেত হিসেবে দেখা হয়।
ভারতের জন্য কতটা বিপজ্জনক?
ভারতে এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে বর্ষার উপর। এর ফলে -
- কমে যেতে পারে মৌসুমি বৃষ্টিপাত
- বাড়তে পারে তাপপ্রবাহ
- চাপে পড়তে পারে কৃষি উৎপাদন
- জলসংকটের আশঙ্কা বাড়তে পারে
- বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পশ্চিম ভারত, মধ্য ভারত এবং কিছু দক্ষিণের রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি বেশি দেখা যেতে পারে।
কেন ভারতে এই ঋতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের প্রায় ৫০ শতাংশ কৃষিজমি এখনও বর্ষার বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। ফলে বর্ষা দুর্বল হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে খাদ্য উৎপাদন, মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে। এই পরিস্থিতিতে ‘এল নিনো’র সম্ভাবনা কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই আবহাওয়া ও কৃষি দফতর পরিস্থিতির উপর নজরদারি শুরু করেছে। বিশ্বের একাধিক আবহাওয়া সংস্থা এখন প্রায় একইরকম পূর্বাভাস দিচ্ছে। ফলে ‘এল নিনো’ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতার পরিবর্তনই ঠিক করবে ভারতের বর্ষা কতটা দুর্বল হবে।






















