Dengue Vaccine : ভারতে প্রথমবার ডেঙ্গির ভ্যাকসিন, কারা পাবেন? কারা পাবেন না? কতটা নিরাপদ?
ভারতে প্রথমবার ডেঙ্গি ভ্যাকসিন Qdenga-এর বাণিজ্যিক বিক্রির অনুমোদন দিল DCGI। ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের জন্য এই ভ্যাকসিন, প্রি-স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজন নেই।

নয়াদিল্লি: ডেঙ্গি। বর্ষা পড়তে না পড়তেই আতঙ্কের আরেক নাম। এখন তো সারা বছরই এডিস-বাহিত এই রোগের দাপট। শীতেও ছাড়ে না ডেঙ্গির ত্রাস। প্রতি বছরই প্রাণও কাড়ে ডেঙ্গি। কিন্তু অ্যাদ্দিন ডেঙ্গি সংক্রমণ থেকে বাঁচার কোনও উপায় ছিল না। ছিল না কোনও ঢাল। এবার ভারতে প্রথমবার ডেঙ্গি প্রতিরোধের টিকা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদন মিলল। ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI) জাপানের টাকেডা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস-এর তৈরি Qdenga (কিউডেঙ্গা) ভ্যাকসিনের বাণিজ্যিক বিক্রিতে অনুমোদন দিয়েছে।
সূত্রের খবর, ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সি ব্যক্তিদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে প্রি-ভ্যাকসিনেশন স্ক্রিনিং বা আগে কখনও ডেঙ্গি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। টাকিডা বায়ো ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি এই ভ্যাকসিন পেতে পারেন বহু মানুষ। সংস্থার দাবি, এই ভ্যাকসিন নিতে গেলে প্রি ভ্যাকশিনেশন স্ক্রিনিং অর্থাৎ আগে কখনও ডেঙ্গি হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। এর আগে ৪৩টা দেশে অনুমোদন পেয়েছে এই ভ্যাকসিন।
টাকেডার দাবি, Qdenga ডেঙ্গি ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৮ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর উপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে এই ভ্যাকসিনের ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও সম্পন্ন হয়েছে।বর্তমানে ৪৩টি দেশে Qdenga ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে। এবার ভারতের অনুমোদনের ফলে দেশের ডেঙ্গি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন গ্রহণ করাই শ্রেয়।
ডেঙ্গি আক্রান্ত মশার কামড়ের ৪ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সাধারণত উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলি ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
ডেঙ্গির সাধারণ লক্ষণ
হঠাৎ ১০৪°F (৪০°C) পর্যন্ত উচ্চ জ্বর
তীব্র মাথাব্যথা
চোখের পিছনে ব্যথা
পেশি ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা (যাকে অনেক সময় Breakbone Fever বলা হয়)
বমিভাব বা বমি
খিদে চলে যাওয়া
ত্বকে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি
বেশিরভাগ রোগী এক সপ্তাহের মধ্যেই সেরে ওঠেন। তবে এই সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
কখনই অবহেলা করবেন না: গুরুতর ডেঙ্গির সতর্কবার্তা
প্রায় ২০ জনে ১ জনের ক্ষেত্রে ডেঙ্গি গুরুতর আকার নিতে পারে। সাধারণত জ্বর কমে যাওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। নিচের উপসর্গগুলির কোনওটি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। খেয়াল রাখুন।
তীব্র পেটব্যথা হচ্ছে কি ?
বারবার বমি?
শ্বাসকষ্ট ?
নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত ?
বমি বা মলে রক্ত?
অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঘুমঘুম ভাব ?
ত্বক ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া ?
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ডেঙ্গির উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথার ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।























