Kaligunj Incident: 'মেয়েটার বুকের মধ্যে মেরে দিল... এইখানে কিচ্ছু ছিল না... শেষবার যে মা বলে ডাকবে...' ডুকরে কাঁদছেন তামান্নার মা
Tamanna Khatun Death: 'মেয়ে ওদিকে পড়ে আছে। ওই ধোঁয়া, অন্ধকার আজও চোখের সামনে ভাসে, কান থেকে যাচ্ছে না। মেয়েকে ডাকছি বেটা ও বেটা, রক্তে ভেসে যাচ্ছে, মেয়ের কিছুই নেই, শেষবার যে মা বলে ডাকবে...'

কালীগঞ্জ, নদিয়া : বাড়ির দেওয়ালে আঁকা তামান্নার হাতের ছবি। মেঝেতে চুপ করে বসে রয়েছেন তামান্নার বাবা। পাশে মা সাবিনা ইয়াসমিন। জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারকে দেখে প্রথমে ঘটনার দিনের কথা শান্ত ভাবেই বলছিলেন তিনি। শেষে আর ধরে রাখতে পারেননি আবেগ। বাধ মানেনি চোখের জল আর বুকফাটা আর্তনাদ। বেশ কয়েকজন সন্তানের মৃত্যুর পর সাবিনার কোল আলো করে এসেছিল ফুটফুটে মেয়েটা। সাধ করে নাম রেখেছিলেন তামান্না। পরিযায়ী শ্রমিক বাবা বেশ কষ্ট করেই মেয়েকে পড়াচ্ছিলেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। মা-বাবার চোখে ছিল একরাশ স্বপ্ন। তামান্নাকে পড়াশোনা করবেন, যতদূর যে পড়তে চায়, যা হতে চাই- সবেতে মেয়ের পাশে থাকবেন। আর সেই মেয়েকেই ভোট-হিংসার বলি হতে হয়েছে। শাসক দলের জয়োল্লাসে বাড়ির উঠোনেই নিমেষে শেষ হয়ে গিয়েছে একরত্তির তাজা প্রাণ।
এদিন অর্চনা মজুমদারের সঙ্গে কথা বলার সময় তামান্নার মায়ের মুখে বারবার উঠে এসেছে মেয়ের ফুলগাছের শখের কথা। ঘটনার দিনও মা-মেয়ে বসে ফুল গাছ লাগাচ্ছিলেন। তারপর মেয়েকে সাঁতার শেখাবেন বলে নিয়ে যাচ্ছিলেন কাছের একটি পুকুর ঘাটে। সাবিনা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই পটকা ফাটার শব্দ কানে এসেছিল তাঁর। তবে তাতে ভয় পাননি তিনি। বিন্দুমাত্র আন্দাজ করতে পারেননি যে এমন অঘটন ঘটবে। সাবিনার কথায়, মেয়েকে নিয়ে যখন তিনি যাচ্ছিলেন উল্টো দিক থেকে আসছিল 'দুষ্কৃতীরা'। বেশ কয়েকজন ছিল (যাঁদের নাম এফআইআর- এ উল্লেখ রয়েছে)। একজনের হাতে ছিল ব্যাগ। কিন্তু সেই ব্যাগে যে বোমা রয়েছে, আর তা তামান্নাকে লক্ষ্য করে মারা হবে, দুঃস্বপ্নেও এমনটা কল্পনা করেননি সাবিনা। তিনি বলেছেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়েই বোমা মারা হয় তাঁকে এবং মেয়েকে লক্ষ্য করে। ডুকরে কেঁদে সাবিনা বলেন, 'এইখানে, বুকের মধ্যে মেরে দিল'। চোখের সামনে বোমার আঘাতে মেয়েকে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে দেখতে হয়েছে সাবিনাকে।
সাবিনা বলেছেন, 'গাওয়াল বলল মার, আর কালু একেবারে মেরে দিল।' মেয়ে ছিল তাঁর হাতেই। বোমার আঘাতে মা-মেয়ে দু'দিকে ছিটকে পড়ে যান। সাবিনা বলছেন, 'আমি উঠে বলছি বেটা দেখ তো আমার কানে কী হয়েছে? পিঠে জ্বালা করছে? মেয়ে ওদিকে পড়ে আছে। ওই ধোঁয়া, অন্ধকার আজও চোখের সামনে ভাসে, কান থেকে যাচ্ছে না। মেয়েকে ডাকছি বেটা ও বেটা... রক্তে ভেসে যাচ্ছে, মেয়ের কিছুই নেই, শেষবার যে মা বলে ডাকবে, সেটুকুও নেই, মেয়েকে বারবার ডাকছি বেটা ওঠো, মা ওঠো, ভয় পেয়েছ... সবাইকে ডাকছি, বলছি বেটাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। মেয়ের কিছু নেই, জামার হাতাও নেই। সবাই বলছে ও আর নেই, কাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। মেয়ে আমার নেই। খুব আস্তে একবার শ্বাস নিয়ে... সামনের দাঁত থেকে শ্বাসনালী কিছুই নেই... কিছুই নেই... সবাই বলছে পুলিশ এলে তুলবে, এখন হাত দেওয়া যাবে না, বেঁচে নেই। আমি বলেছি পুলিশ আসবে না। এলেও অনেক পরে আসবে। আমি আমার মেয়েকে আর বাঁচাতে পারব না। আমার মেয়েটা পরে রইল। আমার মা পড়ে রইল। আর কেউ নেই আমার।'






















