Kalyan-Abhishek Controversy: 'নিজের পপুলারিটি দেখানোর জন্য আমায় ৭ মিনিট দাঁড় করিয়ে..', ঠিক কী হয়েছিল ২১ জুলাই? কেন তর্কাতর্কি? প্রকাশ্যে আনলেন কল্যাণ
Kalyan Banerjee on Abhishek Banerjee: 'নিজের পপুলারিটি দেখানোর জন্য আমায় ৭ মিনিট দাঁড় করিয়ে..', ২১ জুলাই মমতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা নিয়ে অভিষেককেই দুষলেন কল্যাণ!

কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাকবিতণ্ডা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে কি এবার তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও? বুধের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেন ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি! সরাসরি নিশানায় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বার্তা মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেও। মঙ্গলবার ক্যাথিড্রাল রোডে 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর শহিদ দিবসের সভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মাঝেই মঞ্চে ওঠেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মী-সমর্থকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে চিৎকার শুরু করলে, মাঝপথেই বক্তব্য থামিয়ে দেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন মঞ্চের এক কোণা থেকে অপর কোণায় পৌঁছে যাচ্ছেন! মানুষের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন। কখনও হাঁটু গেড়ে বসে উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের প্রণাম করছেন। আর পোডিয়ামে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে তখন অপেক্ষা করছেন বর্ষীয়াণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত বিরক্তিও প্রকাশ করেন।
অভিষেকের বিরুদ্ধে বারে বারেই মুখ খুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
এই ঘটনা যে তিনি ভালভাবে নেননি, তা এদিন পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও বর্ষীয়ান সাংসদ। এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, '১২টা ৪৫। তখন আমাকে বক্তৃতা দেওয়া করাল। এবার আমি শুরু করার পরেই কিছুক্ষণ পর অভিষেক এল। তা অভিষেক আসার পর সারা মঞ্চ ঘুরে বেড়াল। হাততালি কুড়োল। তা আমাকে তো ৭ মিনিট তো আটকে থাকতে হয়েছে। ৫-৭ মিনিট। একটা বক্তৃতা দেওয়ার সময় ওভাবে ঘুরতেও নেই সেটাও একটা নর্মাল সৌজন্যতা। বক্তৃতাটা শেষ হয়ে গেলে ঘুরুক না। একটা যখন কেও বক্তৃতা দিচ্ছে তার বক্তব্য়ের মধ্য়ে ডিস্টার্বেন্স যেন না হয়। আমার পপুলারিটি কতটা সেটা দেখানোর জন্য, সেই জায়গাটা তখন নয়। একটু পরে দেখাতে পারত। ৭ মিনিট আমি থেমে গেলাম।'
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ উগরে দেওয়া অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'ক্যামাক স্ট্রিটটা শেষ করে দিল আমাদের দলটাকে। আজ যারা বড় বড় বক্তৃতা দিচ্ছে অভিষেকের বিরুদ্ধে বলছে, ২০২২-এ যখন আমি বলেছিলাম, তখন তো এরাই আমার বিরোধিতা করেছিল। তোমরাই তো আইপ্যাককে মাথায় তুলেছ। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ সুমিত যদি দুবার কথা বলে তো জীবন ধন্য হয়ে গেছে তোমাদের। আইপ্যাক তোমাদের সঙ্গে কথা বললে, তোমরা বলেছ জীবন ধন্য হয়ে গেছে। আজ তোমরা সব বেনিফিট নিয়েছ, আইপ্যাকের বেনিফিট নিয়েছ, ক্যামাক স্ট্রিটের বেনিফিট নিয়েছ, নিজেদের নেতা বলে প্রতিষ্ঠিত করেছ, অভিষেকের লোক বলে চাপ সৃষ্টি করেছ।'
এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'হারের জন্য় তো ওই তো সবচেয়ে বেশি দায়ী। লোকে কী বলছে! আমার মতো সৎ রাজনীতিবিদ ক'জন আছে? আমি বলছি তোমাকে...দাবি করছি আমি। কিন্তু আমাকেও তো চোর চোর শুনতে হয়েছে ওর জন্য়। ২০২২-এই তো আমি বলেছিলাম, একে.. হবে না এর দ্বারা। দল থাকবে না। তাঁর (অভিষেক) অভব্য আচরণ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। সব কিছুতে সে বুঝিয়ে দেয়, সে রাজা। এমনকী, এই খারাপ দিনেও। এই খারাপ দিনেও আমি যখন দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে দাঁড়াচ্ছি।+এখন দিদিকে ঠিক করতে হবে যে কী করতে হবে? মমতাদিকে আগে ঠিক করতে হবে যে, তিনি দলে অভিষেককে ছাড়া এগোতে পারবেন না, তাহলে আমি সেখানে নেই।'























