New Market Fire:বাজেনি ফায়ার অ্য়ালার্ম, বন্ধ লিফ্ট, মেলেনি সাহায্য, এখনও আতঙ্ক তাড়া করছে একাংশের
Mirza Ghalib Street: আসাম থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন' এই হোটেলেই। কিন্তু এমন ভয়াবহ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে হবে, কে জানত।

কলকাতা: চারিদিকে ধোঁয়া ধোঁয়া, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের তেজ আরও বাড়ছিল। দ্রুত বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু লিফট বন্ধ, শেষে সিড়ি দিয়েই নেমে আসতে থাকেন। বাইরে বেরিয়ে প্রাণ হাতে বেঁচে ফেরার স্বস্তির সঙ্গে তখনও আতঙ্ক তাড়া করছিল। বুধবার সকালে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনওমত বেঁচে ফেরা এক প্রত্যক্ষদর্শী এবিপি আনন্দকে জানালেন তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। উল্লেখ্য, ইতিমধ্য়েই এই ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হল ৯ জন হোটেল আবাসিকের। যাদের মধ্য়ে রয়েছেন মহিলা ও শিশুও।
আসাম থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন' এই হোটেলেই। কিন্তু এমন ভয়াবহ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে হবে, কে জানত। এবিপি আনন্দকে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিতে গিয়ে সেই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, 'আচমকা সকালে ঘরের মধ্য়েই ছিলাম, তখন দেখলাম যে আগুন লেগেছে। কেউ আমাদের ডাকেনি। ফায়ার অ্য়ালার্মও বাজেনি। সিড়ির কাছেই আগুন লেগেছিল। লিফ্টের কাছে গিয়ে দেখলাম যে লিফ্টও বন্ধ ছিল। হোটেলের কোনও কর্মীকে দেখতে পাইনি। তাঁদের থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। আমরা পুরোপুরি আতঙ্কিত।
ইতিমধ্য়েই জানা গিয়েছে যে মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে খবর। অসুস্থ অবস্থায় অন্তত ৬ জনকে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকল, কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। মাঝরাতে রাত প্রায় ২টো নাগাদ আচমকা হোটেলের ৩ তলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়। হোটেল থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তার কাছেই দাউদাউ আগুন দেখা যায়। দমবন্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ এপ্রিল, বড়বাজারের ঋতুরাজ হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে শেষ হয়ে যায় ১৪টা তাজা প্রাণ! প্রাণ বাঁচাতে কেউ নেমে আসেন কার্নিসে। কেউবা আগুন থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেন হোটেলের ছাদে। কারও মৃতদেহ মেলে হোটেলের ঘর থেকে। কারও শৌচাগার থেকে। এক্ষেত্রেও, পিছনের দিকে একটি সিড়ি থাকলেও তা বন্ধ ছিল। তাই অনেকেই নীচে নামতে পারেননি। কেউ হোটেলের ঘরেই আটকে পড়েন। পরিস্থিতি এমন হয় যে, প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কার্নিশ দিয়ে, পাইপ ধরে নীচে নামার চেষ্টা করেন। পাইপ বেয়ে নামার সময়, পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় হোটেলের কর্মী মনোজকুমার পাসওয়ানের। কেউ দমবন্ধ হয়ে, কেউ ঘুমের মধ্য়ে...কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঢলে পড়েন মৃত্য়ুর কোলে।






















