Kolkata News: বিধ্বংসী আগুন, ৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি আনন্দপুরের ২ গোডাউনের নিখোঁজ ৬ কর্মীর
Kolkata Fire: ডেকরেটার্সের গোডাউন থেকেই আগুন ছড়িয়ে খাবার ডেলিভারি সংস্থার গোডাউনে। বিস্ফোরণ হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারেরও। তার জেরেই পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে গিয়েছে।

সৌভিক মজুমদার, হিন্দোল দে, কলকাতা : আনন্দপুরের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন। ৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। এখনও বেশ কিছু জায়গা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যাচ্ছে। তবে আগের তুলনায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে দমকলের তরফে। যদিও যে ৬ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে শোনা গিয়েছে, তাঁদের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। কোথায় গেলেন তাঁরা? এখনও কি তাঁরা গোডাউনের ভিতরেই আটকে রয়েছেন? তাঁরা কি আদৌ জীবিত রয়েছেন? উঠছে অনেক প্রশ্ন। এখনও দমকলের ১২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে কাজ করছে। নিখোঁজ ৬ কর্মীর খোঁজ চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। প্রজাতন্ত্র দিবসে এ হেন ভয়াভ অগ্নিকাণ্ডে স্বভাবতই আতঙ্ক রয়েছে আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদ এলাকায়। ডেকরেটার্সের গোডাউন থেকেই আগুন ছড়িয়ে খাবার ডেলিভারি সংস্থার গোডাউনে। বিস্ফোরণ হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারেরও। তার জেরেই পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে গিয়েছে।
সোমবার ভোররাতে, আনুমানিক ৩টে নাগাদ, আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদের দুটি গুদামে আগুন লেগেছিল। ৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। আগুন লাগার পর থেকে ২টি গোডাউনের ৬ জন কর্মচারীর খোঁজ মিলছে না। এক নিখোঁজ ব্যক্তির নাম পঙ্কজ হালদার। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি গোডাউন থেকে ফোন করেছিলেন পঙ্কজ। জানিয়েছিলেন আগুন লাগার খবর। ফোনে প্রাণ বাঁচানোর জন্য আর্তিও করেছিলেন তিনি। আগুন লাগার পর ভয় পেয়ে ভিতর থেকে ফোন করেছিলেন আটকে পড়া পঙ্কজ হালদার, দাবি গোডাউনের নিখোঁজ কর্মচারী পঙ্কজ হালদারের আত্মীয়ের। ফোনে পঙ্কজ জানিয়েছিলেন তাঁদের না বাঁচালে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে মারা যাবেন। পঙ্কজ হালদারের ওই আত্মীয় জানিয়েছেন, সম্ভবত পঙ্কজের সঙ্গে ছিলেন আরও ৩ জন। স্থানীয়রাই ভোররাতের আগুন প্রথম দেখতে পান। পঙ্কজের ফোন এখন বন্ধ রয়েছে। পড়ে রয়েছে বাইক। ফোনের তিনি বলেছিলেন, 'আমায় বাঁচাও। আর বেশিক্ষণ বাঁচতে পারব না', দাবি পঙ্কজের এক আত্মীয়ের।
একটি অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার গোডাউনে আগুন লেগেছে। যে ২ গোডাউনে আগুন লেগেছে সেখানে প্রচুর পরিমাণে নরম পানীয় এবং খাদ্য সামগ্রী মজুত ছিল বলে জানা গেছে। এছাড়াও ছিল ভোজ্য তেল, দাহ্য পদার্থ, গ্যাস সিলিন্ডার। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গোডাউনের পাশের মেস ও একটি বাড়ি খালি করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। ২টি গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। একটি গোডাউন ছিল ডেকরেটার্সের। অন্যটি খাবার সংস্থার। ২টি গোডাউনেই আগুন ছড়িয়েছে। বেশিরভাগ অংশ কার্যত ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে উপরের শেডের টিন। মূলত আগুনের গ্রাসে ভস্মীভূত হয়েছে খাবার প্রস্তুতকারী সংস্থার গুদাম। নিখোঁজ ৬ কর্মীর খোঁজে চলছে অভিযান।
দমকলের তরফে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি যে ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কিনা। দমকলের তরফে এও জানানো হয়েছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে এখানে আসার পর স্থানীয়দের অনেকেই তাদের জানিয়েছিলেন যে গোডাউনের ভিতরে কয়েকজন আটকে রয়েছেন। কিন্তু এতক্ষণ পর্যন্ত ভিতরে কারও থাকার হদিশ পাননি দমকলকর্মীরা। আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে পুরোটা নেভেনি। গ্যাস কাটার নিয়ে দমকলকর্মীরা ভিতরে ঢুকছেন। ক্রমশ শুরু হচ্ছে উদ্ধারকাজ। দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ এগোলে তাঁরা জানতে পারবেন ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কিনা। তবে এখনও পর্যন্ত কারও আটকে থাকার কিংবা হতাহতের কোনও খবর দমকলের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।























