Kolkata News :পরপর পথচারীদের ধাক্কা গাড়ির, মৃত ১ ! জখম ৫, ঠাকুরপুকুরে গাড়ি দুর্ঘটনায় গ্রেফতার পরিচালক..
Thakurpukur Accident Director Arrested: 'মত্ত' পরিচালকের হাতে ছিল স্টিয়ারিং, গাড়িতে ছিলেন আরও ১ জন, ঠাকুরপুকুরে বাজারে ঢুকে পথচারীকে পিষে মারল বেপরোয়া গাড়ি..

কলকাতা: ঠাকুরপুকুরে গাড়ি দুর্ঘটনায় গ্রেফতার সিরিয়ালের পরিচালক সিদ্ধান্ত দাস। 'মত্ত' পরিচালকের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন এক পথচারী। ঠাকুরপুকুরে বাজারে ঢুকে পথচারীকে পিষে মারল বেপরোয়া গাড়ি।
'মত্ত' পরিচালকের হাতে ছিল স্টিয়ারিং, গাড়িতে ছিলেন আরও ১ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাগানবাড়িতে রাতভর পার্টির পর সকালে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা। পরপর পথচারীদের ধাক্কা গাড়ির, মৃত ১, জখম ৫। ধৃত পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় মামলা রুজু। কিছু বছর আগে, এমনই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। সেবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল এক মডেলের।
আরও পড়ুন, কাল চাকরিহারাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে মুখ্যমন্ত্রীর, 'গন্ডোগোল'-র আশঙ্কা কুণালের !
দুর্ঘটনাকাণ্ডে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ভোলবদল ধরা পড়েছিল অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের। বলেছিলেন, ঘটনার দিন মদ্যপান করলেও, তিনি বেসামাল ছিলেন না। যদিও এর আগে সাংবাদিক বৈঠকে বিক্রম মদ্যপানের কথা অস্বীকার করেন। জামিন পেয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, দুর্ঘটনার রাতে তিনি মদ্যপান করেননি। কিন্তু পুলিশের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সেই বিক্রমের গলাতেই শোনা গিয়েছিল অন্য সুর!
পুলিশ সূত্রে দাবি ছিল, রাতে বিক্রমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গাড়ি চালানোর সময় আপনি কি মদ খেয়েছিলেন? বিক্রম বলেছিলেন, হ্যাঁ আমি মদ খেয়েছিলাম। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, পানশালায় উপস্থিত সনিকার বান্ধবীরা আগেই দাবি করেছিলেন, তাঁরা সেই রাতে দেখেছিলেন, বিক্রম মদ্যপান করেছিলেন! অভিশপ্ত রাতে বিক্রম-সনিকার বেশ কয়েকজন সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, তাঁরাও পুলিশকে একই কথা জানিয়েছিলেন!
পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার রাতে একাধিক পানশালায় গিয়েছিলেন বিক্রম ও তাঁর সঙ্গীরা। এর মধ্যে একটি পানশালার বিল বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। সেখানে ৪ পেগ মদ অর্ডার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, বিক্রমরা যে যে পানশালায় গিয়েছিলেন, প্রত্যেক জায়গার বিল ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছিল পুলিশ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সব পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমাণ এবং সাক্ষীদের বক্তব্য শোনার পর, বিক্রম বুঝে গিয়েছিলেন, তাঁর মদ না খাওয়ার যুক্তি ধোপে টিকবে না! তাই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মদ খাওয়ার কথা কবুল করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি!তবে পুলিশ সূত্রে খবর, রাতে জিজ্ঞাসাবাদের সময়, বিক্রম দাবি করেছিলেন, মদ খেলেও, তিনি মত্ত হয়ে যাননি। গাড়ি চালানোর মতো অবস্থায় ছিলেন! মদ খেয়ে বিক্রম বেসামাল হয়েছিলেন কিনা তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছিল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও দাবি ছিল, রাতে বিক্রমকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাঁর গাড়ির কি ব্রেক ফেল করেছিল? অভিনেতা বলেছিলেন, না। পুলিশ জানতে চায়, তাহলে কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল? বিক্রম দাবি করেছিলেন, তিনি মনে করতে পারছেন না! বলেন, সম্ভবত ট্রাম লাইনে চাকা পিছলে গিয়েছিল! এরপর তদন্তকারীরা জানতে চান, সেই সময় কত জোরে গাড়ি চলছিল? পুলিশ সূত্রে খবর, বিক্রম দাবি করেছিলেন, একশোর ওপরে গাড়ি চালাইনি। গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিমি। যদিও পুলিশ সূত্রে দাবি, বিক্রমের এই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ছিল তদন্তকারীদের মনে। তাঁরা মনে করছিলেন, সত্যিই যদি ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলত, তাহলে এই পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হত না! এদিকে এবারেও সেই ছায়াই ফিরল ফের টলিউডে।






















