Kolkata Weather : শহরের কোথাও কোথাও আকাশভাঙা বৃষ্টি, মুহূর্তে হাঁটুজল ! এমন বিচ্ছিন্ন বাঁধভাঙা বৃষ্টির কী কারণ?
মাত্র ৪০ মিনিট - ৬০ মিনিট বৃষ্টিতেই হাঁটু জল কোথাও কোথাও। কিন্তু কেন ? কেন এমন microburst দেখা যায় ? জানালেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।

কলকাতা : হঠাৎই ঝমঝম করে বৃষ্টি। এতটাই তীব্রতা, মনে হবে যেন মেঘ ভেঙে বৃষ্টি হচ্ছে। গত বছর থেকেই বর্ষা ও বছরের অন্যান্য সময়ে এক-একটি এলাকায় হঠাৎ এমন আকাশ ভাঙা বৃষ্টি দেখেছে শহর বাসী। এই যেমন আজ। কলকাতার কয়েকটি জায়গায় হুজডমুড়িয়ে নামে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে কড়কড় করে বাজ পড়া। মাত্র ৪০ মিনিট - ৬০ মিনিট বৃষ্টিতেই হাঁটু জল কোথাও কোথাও। কিন্তু কেন ? কেন এমন microburst দেখা যায় ? জানালেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।
বিশেষজ্ঞ জানালেন, প্রাক -বর্ষার মরশুমে মূলত স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ হল স্বল্প সময়ের মধ্যে মাটি থেকে অতিরিক্ত তাপ বিকিরণ। এর ফলে বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের জলাশয় থেকে আসা আর্দ্রতা দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবল বৃষ্টি নামাতে সক্ষম। এটা কিন্তু প্রাক বর্ষার বৃষ্টিই।
শনিবার কলকাতার ক্ষেত্রে শহরতলি এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতার কেন্দ্রীয় অংশ ও সংলগ্ন মধ্য হাওড়া এলাকায় খুব হালকা বৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় ‘ভিরগা’ দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ, ভিরগা (Virga) হলো মেঘ থেকে পড়া এমন এক ধরনের বৃষ্টিপাত, যা মাটিতে পৌঁছানোর আগেই বাতাসে পুরোপুরি বাষ্পীভূত হয়ে যায়। মেঘের নিচে থাকা উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুর স্তর এই বাষ্পীভবনের মূল কারণ। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ভূমিগত তাপের কারণে বৃষ্টির জল মাটিতে পৌঁছানোর আগেই মাঝ আকাশে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। ফলে বহু এলাকায় মূলত দমকা হাওয়া ও মেঘলা আবহাওয়াই বজায় ছিল। ‘পলিউশন বাবল’-এর প্রভাবও এই আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কোথাও কোথাওই ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। গরম এবং অস্বস্তি থাকবে। বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে স্বস্তি।
দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার কোথাও বা ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড়ো বাতাস বইতে পারে।
কলকাতার আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আংশিক মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বিক্ষিপ্তভাবে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। তবে ঝড় বৃষ্টি না হলে গরম এবং অস্বস্তি থাকবে। বুধবার থেকে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.০ ডিগ্রি। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.১ ডিগ্রি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৯ থেকে ৯৮ শতাংশ। বৃষ্টি হয়েছে সামান্য।






















