Kolkata Hotel Fire: বড়বাজারে ভয়াবহ আগুনে মৃত্যুমিছিল, কীভাবে চলছে মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা হোটেলগুলি?
Rituraj Hotel Fire: বড়বাজারের হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পর, সামনে এসেছে নিয়মভঙ্গের গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ।

সন্দীপ সরকার ও ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা: নিউমার্কেট থেকে শিয়ালদা চত্বর, কীভাবে চলছে মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা হোটেলগুলি (Kolkata Hotel Fire)? এবিপি আনন্দের ক্যামেরায় ধরা পড়ল কলকাতার অতিথিশালাগুলিতে একাধিক অনিয়মের ছবি। কোথাও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকলেও, কাজ করছে না সেগুলো! কোনও হোটেলে আবার, ঢোকা-বেরনোর একটাই দরজা, নেই কোনও বিকল্প পথ।
বড়বাজারের হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পর, সামনে এসেছে নিয়মভঙ্গের গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ। অভিযোগের দীর্ঘ তালিকার মধ্যে রয়েছে বেআইনিভাবে পানশালা তৈরি থেকে ২০২২-এর পর NOC রিনিউ না করা। চারতলা অবধি নির্মাণের অনুমতি থাকলেও, অবৈধভাবে ছ'তলা অবধি নির্মাণ। যথাযথ অনুমতি ছাড়া হোটেলের এক একটা ঘর ভেঙে একাধিক ঘর তৈরি, অকেজো অগ্নিনির্বাপন ব্য়বস্থা, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বেরনোর মতো বিকল্প রাস্তা না থাকা। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কলকাতাজুড়ে যে শয়ে শয়ে হোটেল চলছে, সেই সব জায়গায় কি নিয়ম মানা হচ্ছে? তা দেখতেই কলকাতার একের পর এক হোটেলে পৌঁছে গেছিল এবিপি আনন্দ। আর এবিপি আনন্দের ক্য়ামেরায় যে ছবি উঠে এসেছে, তা ভয় ধরানোর মতো। অনেক জায়গায় তো অতিথিদের প্রাণ নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা চলছে।
যেমন, মল্লিকবাজারে এজিসি বোস রোডের ওপর শান গেস্ট হাউস। ভিতরে সরু করিডর, বড়জোড় দু'হাত চওড়া! তার দু'পাশে সারি দিয়ে ঘর। অতিথিশালার ঘরে উঁকি মেরে দেখা গেল, AC আছে তবে নেই কোনও জানলা। দুর্ঘটনাবশত কখনও আগুন লাগলে দমবন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে বাধ্য়। হোটেলের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাতেও দেখা গেল চরম গাফিলতি। প্রায় একই রকম অবস্থা রিপন স্ট্রিটের 'হোটেল এস আর রয়্যাল'-এ। এই বহুতলের পাঁচতলায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে হোটেলটি। এখানেও বহুতলের জানলাগুলি ইটের গাঁথনি দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কোনওভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে, ধোঁয়া বেরনোর জায়গা পর্যন্ত নেই!
পাঁচতলায় যেখানে হোটেলটি চলছে, সেখানে পৌঁছনোর সিঁড়িতে ঠাসা বোতল, পুরনো আসবাব-সহ বাতিল জিনিস। হোটেলের রান্নার জায়গাও সিঁড়িরই একাংশ জুড়ে।রান্নাঘরের পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে এন্ট্রি নিতে হবে হোটেলের ঘরে। নেই কোনও বিকল্প সিড়ি, এমনকী নেই এমার্জেন্সি এক্সিট।
মির্জা গালিব স্ট্রিট থেকে সদর স্ট্রিট, শয়ে শয়ে হোটেল, একটার ঘাড়ে যেন উঠে পড়ছে আরেকটা। মাঝখান থেকে আকাশ প্রায় দেখাই যায় না। হোটেল গ্রিনস্টার, হাবিব হোটেল, মিলন গেস্টহাউস, হোটেল আফ্রা, প্রায় ঘেঁষাঘেঁষি ৪ হোটেলে একাধিক অনিয়ম। কোথাও আশেপাশে তারের জঙ্গল, কোথাও আবার হোটেলে ঢোকার রাস্তাজুড়ে প্লাস্টিকের বালতি-ড্রাম থেকে বাতিল টায়ারের পাহাড়! নিরাপত্তা শিকেয়! শিয়ালদা চত্বরেই ফুটপাত সংলগ্ন সরু গলি দিয়ে গেলে 'হোটেল আশালতা'। যেখানে ঢোকার জায়গা থাকলেও, নেই এমার্জেন্সি এক্সিট। আগুন লাগলে ছাদ থেকে লাফ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।
শিয়ালদা মৌলালি-এজেসি বোস রোডে চত্বরে রাজদূত রেসিডেন্সি হোটেল।দুদিকে হকার, অপরিসর গলি। হোটেল কর্তৃপক্ষ এমার্জেন্সি এক্সিট দেখালেও, সেটা তালাবন্ধ, বাইরে আবর্জনার স্তূপ। শিয়ালদা স্টেশন থেকে বেরিয়ে যারা আশেপাশের হোটেলগুলিতে ওঠেন, তাঁরাও কার্যত প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ওঠেন। একদিকে স্টেশন, উল্টোদিকে মহাত্মা গান্ধী রোডে পরপর হোটেল, যেখানে রাস্তা কার্যত দখল করে সারি দেওয়া দোকান।
চারপাশে বহু দাহ্য পদার্থ থেকে তারের কুণ্ডলী।





















