Konnagar News: 'আধমরা করে তারপরে ওকে ছেড়েছে', কোন্নগরে আম পাড়তে যাওয়া নাবালককে নির্মম নির্যাতন
পরিবারের দাবি, নাবালকের চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চোখের নীচের হাড়ে চিড় ধরেছে। মাথায় জমাট বেঁধেছে রক্ত।

হিন্দোল দে এবং সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, কোন্নগর: আম পাড়তে যাওয়ার আনন্দ ছেলেবেলারই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মফস্বল কিংবা গ্রামে। কিন্তু সেই আনন্দই পরিণত হল দু:স্বপ্নে। আম পাড়তে যাওয়াই কাল হল হুগলির কোন্নগরের ১৪ বছরের কিশোরের। অভিযোগ, অন্যের গাছ থেকে আম পাড়ার জন্য নৃশংস অত্যাচার চালানো হল নাবালকের ওপরে। পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে মারধর, চোখে-মুখে ঘুষি মারার অভিযোগও উঠল নাবালককে।
মহেশতলা, কালনা পর এবার নাবালকের ওপর অকথ্য অত্যাচারের অভিযোগ উঠল কোন্নগরে। ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সন্ধেয়। উত্তরপাড়া থানার অন্তর্গত কোন্নগর পুরসভা এলাকার বাসিন্দা, ১৪ বছরের এক কিশোর, বন্ধুর সঙ্গে এলাকারই একজনের বাড়ির গাছ থেকে আম পাড়তে গেছিল। অভিযোগ, সেইসময় এক টোটোওয়ালা ওই কিশোরকে ধরে বেধড়ক মারধর করে।
পরিবারের দাবি, নাবালকের চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চোখের নীচের হাড়ে চিড় ধরেছে। মাথায় জমাট বেঁধেছে রক্ত। নির্যাতিত নাবালকের মা এর অভিযোগ, 'ওকে পুরো আধমরা করে তারপরে ওকে ছেড়েছে। পেরেকওয়ালা লাঠি দিয়ে ওকে মেরে, পুরো ছিলে গেছে চামড়া।'
বৃহস্পতিবার নৃশংস অত্যাচারের পর নাবালককে রাস্তাতেই ফেলে দেওয়া হয়। নির্যাতিত নাবালকের মা বলেন, পেরেক লাঠি দিয়ে ওকে এভাবে মার মেরেছে যে আধমরা হয়ে গেছে। পুরো অজ্ঞান হয়ে গেছে।ওর চোখটায় যেভাবে মেরেছে, একটা হাড় ভেঙে গেছে। এভাবে মারা উচিত নয়। আমার ছেলে যদি আমই পাড়ল তো ওর ঘরের অভিভাবককে তো জানাবে।'
প্রথমে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় নাবালককে। শুক্রবার সকালে তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। নির্যাতিত নাবালকের দাদু বলেন, 'আম পাড়তে গেছে, ও ভয়ে নীচে পড়ে গেছে। পড়ে যাওয়ার পরে ওকে মারধর করেছে বাড়িওয়ালা, যার আম গাছ। তারপরে ওঁকে মারতে মারতে বাইরে নিয়ে গেছে।'
উত্তরপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে নাবালকের পরিবার। এদিন সকালে ওই আমগাছের মালিক মৃণালকান্তি দত্তগুপ্তর বাড়তে যায় পুলিশ। কথা বলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
এদিকে, অভিযুক্ত বাগান মালিক বলেন, 'এখান থেকে চেঁচাল, কে রে কে রে। একটা ছেলে পালিয়ে গেল। তারপরে আমরা শুনছি যে, ওখানে মোড়ে ওই ছেলেরা যারা বরফ দিয়ে ওকে সুশ্রষা করছিল, সেই ছেলেটা ওখানে নাকি পড়ে ছিল। বড়বাবু তদন্ত করেছে পুরো এবং আমাদের সব ফটো তুলে নিয়ে ওর কাছে দেখিয়েছে। যে এরা মেরেছে কি? এরা মেরেছে কি? বলছে না না না। ৩ জনের অবস্থা দেখল আমাদের, যে এরা মারতেই পারে না।'
তাহলে এই নাবালকের ওপর নৃশংস অত্যাচার চালাল কে? কে এই নাবালকের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।






















