Md Salim : 'পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হলে আসুন আমরা একসঙ্গে হই, দ্রুত কংগ্রেসকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে', আহ্বান সেলিমের
West Bengal Assembly Election 2026 : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য় রাজনীতির আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা জোট-জল্পনা।

রাজীব চৌধুরী : নৌশাদ সিদ্দিকি ও হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্য়েই পরস্পরের জন্য় দরজা খোলা রেখে, সিপিএম-কংগ্রেসের উদ্দেশে জোট-বার্তা দিয়েছেন। এবার এককাট্টা লড়াইয়ের কথা শোনা গেল সিপিএমের রাজ্য় সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের মুখে। এখন প্রশ্ন হল, কংগ্রেস কী করবে ?
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য় রাজনীতির আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা জোট-জল্পনা। পরস্পরের জন্য় জোটের দরজা খুলে দিয়েছেন দুই মুসলিম বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি ও হুমায়ুন কবীর। সেই সঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা লড়াইয়ের ডাক দিয়ে সিপিএম-কংগ্রেসের উদ্দেশেও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। এই আবহে এককাট্টা লড়াইয়ের কথা শোনা গেল সিপিএমের রাজ্য় সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের মুখেও। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবীরের জেলা মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে, কৌশলে তিনি বল ঠেললেন কংগ্রেসের কোর্টে।
মহম্মদ সেলিম বলেন, "পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হলে আসুন আমরা একসঙ্গে হই। আমরা ইতিমধ্য়ে কথাবার্তা শুরু করেছি। যারা যারা কথাবার্তা বলছে, তাদের সঙ্গে ইতিবাচক হয়েছে। মালদা, মুর্শিদাবাদে, বীরভূমে কংগ্রেসকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মানুষের এই ঐক্য়ের ভাবনাকে মর্যাদা দিতে হবে। দ্রুত কংগ্রেসকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এ রাজ্য়ে জোট বেঁধে লড়াই করেছিল সিপিএম, কংগ্রেস। ব্রিগেডের মঞ্চে তিন দল একসঙ্গে থাকলেও, কংগ্রেস ISF-এর থেকে দূরত্বই বজায় রেখেছিল। শেষ অবধি সিপিএমের সমর্থনে জিতেছিলেন ISF প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই নৌশাদ সিদ্দিকি এবং সদ্য় নতুন দল গড়ে ময়দানে নামা হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্য়েই সিপিএম-কংগ্রেসের জন্য় দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন। নৌশাদ বলেছেন, "বিজেপি এবং তৃণমূলকে হারানোর জন্য, সহজে যাতে হারানো যায় তার জন্য, কষ্ট কম যাতে করে বেশি ফল পাওয়া যায় তার জন্য জাতীয় কংগ্রেস, বামফ্রন্ট আরও যে সমস্ত সেকুলার ফ্রন্টগুলো আছে তাদেরকে আমরা জানিয়েছি।"
অন্যদিকে সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা ও জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, "সেলিম সাহেবরা বসুন,সুজন বাবুরা বসুন, নৌশাদ সাহেব বসুন, আব্বাস ভাইজান বসুন, কংগ্রেসের অধীর বাবু আর ঈশা খান...।"
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের দিকে বল ঠেললেন মহম্মদ সেলিম। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, "আমরা আলোচনার মধ্যে দিয়েই আগামীদিনে ঠিক করব। ঐক্যবদ্ধ লড়াই মানে আদর্শগত দিক থেকে, নীতিগত দিক থেকে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যেটা রাস্তাই রাস্তা দেখায়,সেই পথকে অবলম্বন করতে হবে।"
শেষ অবধি বাম-কংগ্রেস-ISF এবং হুমায়ুন কবীর একসঙ্গে ভোটে নামলে কি তৃণমূলের চাপ বাড়তে পারে ? তাদের মুসলিম ভোটব্য়াঙ্কে ভাঙন ধরতে পারে? এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, "এবার ধর্মের নামে ভাঙাতে চাইছে। এমন দু'-চারজন মুখোশধারীকে দিয়ে পুতুল নাচের সুতোর মতো লাফালাফি করাচ্ছে, দেখলে মনে হচ্ছে বিজেপি-বিরোধী, কিন্তু তারা প্রকৃতপক্ষে বিজেপি-বিরোধী ভোট কেটে বিজেপিরই সুবিধা করে দেবে। ওরা সেই খেলায় গেছে।" আর মাত্র কয়েকমাস পরই বিধানসভা ভোট। শেষ অবধি কে কার হাত ধরবে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্য়েই।
Before You Go
Liver Foundation | ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করল লিভার ফাউন্ডেশন ওয়েস্ট বেঙ্গল






















