Murshidabad Chaos: হিন্দু প্রতিবেশীর বাড়ি আগলে রাখলেন মুসলিম প্রতিবেশী, রানিপুরে সম্প্রীতির নজির
Waqf Protest: হিংসা-হানাহানিতে বিধ্বস্ত মুর্শিদাবাদে শুধুমাত্র হৃদয়ের কথা শুনেছেন তাঁরা। রানিপুরের মানিক দাস আর সানাউল শেখের গল্প যেন হার মানাবে রূপকথাকেও।

আবির দত্ত, মুর্শিদাবাদ: অশান্তির আবহেই মুর্শিদাবাদের (Murshidabad Chaos) রানিপুরে গড়ল সম্প্রীতির নজির। শুক্রবার যখন সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে অশান্তির আগুনে পুড়ছে মুর্শিদাবাদ তখন হিন্দু প্রতিবেশীর বাড়ি আগলে রাখলেন মুসলিম প্রতিবেশী।
রানিপুরে গড়ল সম্প্রীতির নজির: হিংসা-হানাহানিতে বিধ্বস্ত মুর্শিদাবাদে শুধুমাত্র হৃদয়ের কথা শুনেছেন তাঁরা। রানিপুরের মানিক দাস আর সানাউল শেখের গল্প যেন হার মানাবে রূপকথাকেও। সানাউল শেখ ও তাঁর ভাই উকিল শেখের বাড়ির উল্টোদিকেই মানিক দাসের বাড়ি। শুক্রবার সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে অশান্তির আগুনে যখন পুড়ছে মুর্শিদাবাদ, তার আঁচ এসে পড়ে মানিকের দুয়ারে। কিন্তু সেই আঁচ মানিকের চৌকাঠ পেরোতে দেননি সানাউল, উকিলরা। কারণ, হিন্দু-মুসলিম ভেবে তো তাঁরা কখনও একসঙ্গে থাকেননি, তাঁদের পরিচয়, তাঁরা প্রতিবেশী। তাই আগাগোড়া প্রাণ দিয়ে বনধু মানিকের পাশে থেকেছেন সানাউলরা। মানিক জানাচ্ছেন, "আমার বাড়িতে হামলা করতে আসে ও আটকে দেয়।''
দিনকয়েক আগে অশান্তির মাঝেই মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে দেখা গেছিল সম্প্রীতির নজির। মুসলিম প্রতিবেশীদের বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন হিন্দু প্রতিবেশীরা। আর এবার সঙ্কটের মুহূর্তে হিন্দু বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন মুসলিম বন্ধুরা। এই কঠিন সময়েও যেন সানাউল, উকিল, স্বপন, বংশীলালরা সঙ্কল্প নিচ্ছেন। মানিকের বাড়ি বাঁচাতে প্রাণের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধাবোধ করেননি সানাউল ও তাঁর ভাই। সানাউল শেখ বলেন, "সরানোর পর অস্ত্র নিয়ে আসে। শান্ত থাকতে দে। আমরা হিন্দু মুসলমান যুদ্ধ চাইছি না। ওদের বাড়ির তরকারি আমরা খাই। ওদেরটা আমরা খাই। বারবার তাড়াচ্ছি তাও চলে আসছিল।''
এদিকে ওয়াকফ-মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্টে ফের শুনানি রয়েছে। অন্তর্বর্তী রায়ে ৩টি নির্দেশ দিতে পারে সর্বোচ্চ আদালত। এক, যে সমস্ত সম্পত্তি ইতিমধ্যেই ওয়াকফ সম্পত্তি বলে আদালত ঘোষণা করেছে, সেগুলিকে আর ওয়াকফ সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। দুই, যে সব ক্ষেত্রে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, সেখানে জেলাশাসক নিজের প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলেও তাঁর সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। তিন, ওয়াকফ বোর্ড ও ওয়াকফ পরিষদে পদাধিকার বলে কোনও সদস্যকে নিয়োগ করা যাবে। তাঁরা অ-মুসলিম হতে পারলেও, বাকি সদস্যরা মুসলিম সমাজের প্রতিনিধি হতে হবে। দুপুর ২টোয় প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি KV বিশ্বনাথনের বেঞ্চে ওয়াকফ-মামলার শুনানি হওয়ার কথা।






















