Murshidabad News : 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাই' চিৎকার করে উঠলেন মুর্শিদাবাদে হিংসা-বিধ্বস্তরা
জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের সামনে হাত জোড় করে বললেন, ' লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাই...'।

রুমা পাল, অনির্বাণ বিশ্বাস, আবির দত্ত, মুর্শিদাবাদ: দাঙ্গা-বিধ্বস্ত মুর্শিদাবাদে এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠল। জাতীয় মহিলা কমিশনের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মহিলারা।একই দিনে আজ মুর্শিদাবাদে রাজ্যপাল ও জাতীয় মহিলা কমিশন। হিংসা-বিধ্বস্ত মুর্শিদাবাদে গিয়ে মর্মান্তিক অবস্থা চাক্ষুষ করলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরা। প্রতিনিধিদের জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মহিলারা। আছাড়ি-পিছাড়ি খেয়ে করলেন হাহাকার। চাইলেন একটা চিরস্থায়ী সমাধান। ঘর গিয়েছে, গিয়েছে অর্থ, কারও গৃহপালিক পশু,....নিঃস্ব করে লুটেপুটে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। আতঙ্ক কাটেনি। বিএফএফ চলে গেলে কী হবে ? এই আতঙ্কেই ঠকঠক করে কাঁপছেন মেয়েরা। জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের সামনে হাত জোড় করে বলছেন, ' লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাই...'। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ধুলিয়ান থেকে শুরু করে জাফরাবাদের বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে আগে আসা উচিত ছিল, দাবি স্থানীয়দের।
জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে নিপীড়িত গ্রামবাসীদের অনুরোধ, 'স্থায়ী BSF ক্যাম্প চাই....NIA তদন্ত চাই' । জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদের গাড়ি আটকে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানান। তাঁদের অভিযোগ, হামলার দিন ৪ ঘণ্টা ধরে ফোন করা হলেও, পুলিশ আসেনি। তাঁরা আতঙ্কিত। ঘটনার NIA তদন্ত ও নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী BSF ক্যাম্পের দাবি জানান ধুলিয়ানের বাসিন্দারা। ধুলিয়ান হয়ে বেতবোনা গ্রামে যান জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা।সেখানেও একই ছবি। মাটিতে শুয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলারা। এরপর জাফরাবাদে যান তাঁরা।
অন্যদিকে জাফরাবাদে রাজ্যপালের কাছেও একই অভিযোগ জানান এলাকার বাসিন্দারা। ' পুলিশকে ৪ ঘণ্টা ফোন করার পরে, লাশ পড়ে আছে, এত গ্রামের লোক, বলছে আমরা গিয়ে কি ওখানে প্রাণ দেব! তো তোমাদের আমরা পুষছি কেন! তোমাদের আমরা কর দিয়ে রেখেছি কেন! ' রাজ্যপালও তাঁদের আশ্বাস দেন 'আমি দিল্লিতে যাব, আলোচনা করব এবং আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। ' ত্রস্ত গ্রামবাসীদের রাজভবনের পিস রুমের নম্বর দেন সিভি আনন্দ বোস। এদিনই সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে নিহত হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলের বাড়িতে যান সিভি আনন্দ বোস।
অন্যদিকে রাজ্যপালের কনভয়কে দাঁড়াতে না দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বেতবোনা অঞ্চলের মানুষ। রাজ্যপালের গাড়ি চলে যেতেই কনভয়ের বাকি গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। রাস্তায় বসে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মধ্যেই এলাকায় ঢোকে পুলিশ।


















