Duttabad News: নিউটাউনের ফ্ল্যাটেই মারধর স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ! দত্তাবাদের অপহরণ-খুন কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য
Gold Businessman Murder: স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ-খুন কাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার ২ বিডিও ঘনিষ্ঠ। পুলিশের জালে বিডিওর কলকাতার গাড়ির চালক ও উত্তরবঙ্গের এক ঠিকাদার।

ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, দত্তাবাদ : দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ-খুন কাণ্ডে পুলিশের হাতে ফের উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের জায়গা নিশ্চিত করা হয়েছে, খবর পুলিশ সূত্রে। নিউটাউনের ফ্ল্যাটের দোতলাতেই দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশ সূত্রে। মারধরের জেরে ফ্ল্যাটের দোতলাতেই মৃত্যু হয় ওই ব্যবসায়ীর। এরপর নীলবাতি লাগানো গাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে দেহ লোপাটের চেষ্টা হয় বলেও জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।
খুনের জায়গা নিশ্চিত হওয়ার পর নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটের দোতলার ঘর সিল করে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, নমুনা সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যাবে ফরেন্সিক টিম। স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ-খুন কাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ২ জন বিডিও ঘনিষ্ঠকে। পুলিশের জালে ধরা পড়েছে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের কলকাতার গাড়ির চালক রাজু ঢালি এবং উত্তরবঙ্গের এক ঠিকাদার তুষার থাপা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে এই বিডিও- র। যদিও তাঁর দাবি, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, সোনা চুরি করেছেন বলে স্বীকার করেছিলেন যে ব্যক্তি, তাঁকে ও স্বপন কামিল্যাকে নিয়ে আসা হয় নিউটাউনের এই ফ্ল্যাটে। সেখানে দোতলার ঘরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। কোনওভাবে মাথায় আঘাত লাগতেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর দেহ লোপাট করা হয় তাঁর। অন্যদিকে, দেহ লোপাট করতে যে নীলবাতি লাগানো গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, তারও খোঁজ করছে পুলিশ। দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপরহরণ-খুনের ঘটনায় জড়িত ৬ জন। পরের দিন সবাই গা ঢাকা দেয়। অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করে বিমানবন্দরে গিয়েছিল ধৃত তুফান থাপা এবং আরও একজন। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জেরা করে পাওয়া গিয়েছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তুফানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তি কে? উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পিটিয়ে খুন করার পর, নীল বাতি লাগানো গাড়িতে করে ফেলা হয়েছিল ব্যবসায়ীর দেহ। পরের দিন অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করে বিমানবন্দরে গিয়েছিল ধৃত তুফান থাপা এবং আরও একজন। পুলিশ সূত্রে খবর, দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপরহরণ-খুনের অভিযোগের তদন্তে ধৃতদের জেরা করে পাওয়া গিয়েছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিন্তু অ্যাপক্যাবে তুফানের সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়ে বাগডোগরাগামী উড়ানে উঠেছিলেন কে? খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, ঘটনার সময় ছিল ৬জন। ধৃত গাড়িচালক ছাড়া বাকি ৫ জনই উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গত মঙ্গলবার দত্তাবাদের সোনার দোকান থেকে তুলে আনার পর স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে বেল্ট, লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একজন বাঁশ জাতীয় কিছু দিয়ে মাথায় পিছনে আঘাত করলে, সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন ব্যবসায়ী এবং মারা যান। এরপর, নীলবাতি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যবসায়ীর দেহ। ফেলা হয় যাত্রাগাছিতে খালের ধারে। জেরায় ধৃত ২ জন জানিয়েছে, খুনের পরের দিন, বুধবার তুফান সহ ২ জন বাগডোগরা চলে যায়। বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয় যাত্রাগাছি খালের ধার থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের বাসিন্দা ছিলেন নিহত ব্যবসায়ী। দত্তবাদে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সোনার ব্যবসা করতেন। তাঁকে অপহরণ এবং খুনের মতো অভিযোগে নাম জড়িয়েছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের BDO প্রশান্ত বর্মনের।






















