Lakshmir Bhandar: হাজার থেকে দেড় হাজার, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ায় সাধারণ মানুষ খুশি না অখুশি?
Lakshmir Bhandar Reaction: এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে 'জেনারেল কাস্টে'র মহিলারা মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন। এবার তা ৫০০ টাকা করে বাড়ল

অরিত্রিক ভট্টাচার্য, মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, ঐশী মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: ভোটমুখী বাজেটে কার্যত কল্পতরু রাজ্য সরকার। আশা কর্মী, ICDS কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে প্যারা টিচার, সকলের সাম্মানিক বাড়ানো হয়েছে। মাধ্যমিক পাশ করলেই বেকারদের জন্য ভাতা ঘোষণা হয়েছে। জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারেও বরাদ্দ বেড়েছে।
এই ভোট অন অ্যাকাউন্টসে সন্তুষ্ট হাতিবাগানের দত্ত পরিবার। মোনালিসা দত্ত পেশায় আশা কর্মী। এতদিন ৫ হাজার ২৫০ টাকা মাসিক ভাতার পাশাপাশি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ১ হাজার টাকা পেতেন তিনি। এবার আশা কর্মীদের সাম্মানিক বেড়ে হবে ৬ হাজার ২৫০ টাকা, এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পাবেন দেড় হাজার টাকা। অর্থাৎ দেড় হাজার টাকা বাড়তি পাওনা হবে তাঁর। ছেলে রোহিত দত্ত, এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। 'বাংলার যুব সাথী' প্রকল্পে ৫ বছরের জন্য প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা পাবেন তিনি। হাতিবাগানের বাসিন্দা রোহিত দত্ত বলছেন, 'যে অ্যামাউন্টটা ঢুকছে, ওতে আমরা কিছু হলেও ব্যবহার করতে পারব। যেমন আমরা বই কিনতে পারব। খুব ভাল লাগছে। মায়ের থেকে তো সবসময় চাওয়া যেতে পারে না! আর আমরাও বড় হচ্ছি। কলেজের বইপত্রগুলো আমরা ওই টাকায় কিনতে পারব। আমাদের এটাও সুবিধা হবে।'
এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে 'জেনারেল কাস্টে'র মহিলারা মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন। এবার তা ৫০০ টাকা করে বাড়ল। অর্থাৎ এখন থেকে 'জেনারেল কাস্টে'র মহিলারা মাসে দেড় হাজার টাকা করে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের ভাতা পাবেন। তফশিলি জাতি ও উপজাতি মহিলারা মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা করে ভাতা পেতেন। সেখানেও বাড়ছে ৫০০ টাকা। কিন্তু তাতে মহিলারা কি সন্তুষ্ট?
দুর্গাপুরের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা ও বাসিন্দা বাবলি শর্মা বলছেন, 'আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অ্যাপ্লাই করিনি এবং পাইও না বা নিতেও চাই না। সবাই সুস্থভাবে চাকরি পেতে পারে, আমার মনে হয় সেটার দিকে নজর দেওয়া উচিত।' রাসবিহারীর বাসিন্দা অঞ্জু সিংহ বলছেন, 'হাজার, দেড় হাজার টাকায় কিছু হয় নাকি?' দুর্গাপুরের শিলা মণ্ডলরা আবার দেড় হাজারেই ভীষণ উপকৃত। দুর্গাপুরের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা ও বাসিন্দা শিলা মণ্ডল বলছেন, 'আরও ভাল লাগছে। হাজার টাকাতেই ভাল উপকার পেয়েছি। দেড় হাজার টাকা হওয়াতে আমি আরও উপকার পাব।'
শুক্রবার থেকেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্ধিত টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এক সদস্য বলছেন, 'উনি হয়তো ভুলে গেছেন আমরাও মানুষ। উনি বললেন আজ থেকে টাকা ঢুকবে। এই কাজ আমরা করছি বলেই আজ থেকে সবার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে। অথচ আমাদেরই দিলেন না'। জনমুখী প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব জনমোহিনী তো বটে। কিন্তু এত টাকা কোথা থেকে আসবে? সরকারি কোষাগারের হালই বা কী হবে? সে প্রশ্নটাও ভাবাচ্ছে।























