Barasat Municipality: দলের নির্দেশে, নাকি ব্যক্তিগত কারণে ? বারাসাত পুরসভার প্রধানের পদত্যাগ-পর্ব ঘিরে বিতর্ক
TMC News: একের পর এক পুরসভার প্রধান, উপপ্রধানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তরফে এই নির্দেশ আসার পর থেকে দলের অন্দরেই তুঙ্গে উঠেছে তরজা।

সমীরণ পাল, বারাসাত : কেন পদত্যাগ করলেন বারাসাত পুরসভার প্রধান। দলের নির্দেশে ? নাকি ব্যক্তিগত কারণে ? এই নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই শোনা যাচ্ছে দ্বিমত। এদিকে বনগাঁর পুরপ্রধানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এবার ডেডলাইন বেঁধে দিল দল।
একের পর এক পুরসভার প্রধান, উপপ্রধানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তরফে এই নির্দেশ আসার পর থেকে দলের অন্দরেই তুঙ্গে উঠেছে তরজা। আর এরই মধ্যে এবার বারাসাত পুরসভার প্রধানের পদত্যাগ-পর্ব ঘিরে তৈরি হল বিতর্ক। ব্যক্তিগত কারণে বারাসাত পুরসভার পুরপ্রধান পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করল স্থানীয় নেতৃত্ব। অন্যদিকে উল্টো দাবি করলেন বিদায়ী পুরপ্রধান। বারাসাতের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, "বারাসাতের পুরপ্রধান পদত্যাগ করেছেন। উনি ব্যক্তিগত কারণ লিখেছেন। আমাদের কিছু বলেননি। এটা ওঁর নিজস্ব ব্যাপার। ওঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কারণ নিয়মটা হচ্ছে, আইনটা হচ্ছে যে উনি পদত্যাগপত্রটা দিয়েছেন উপ পুরপ্রধানকে এবং উপপুরপ্রধান সেটা অ্যাকসেপ্ট করেছেন।"
যদিও বারাসাত পুরসভার বিদায়ী পুরপ্রধান অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, "আমার যিনি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তিনি সকালবেলা আমাকে ফোন করে বললেন, ওঁর কাছে দলের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে ওপরতলা থেকে যে আমি যেন ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে রিজাইন করি। ভাইস চেয়ারম্যানের কাছেই তো রেজিগনেশনটা দিলাম।"
এই চাপানউতরের মাঝেই বৈঠক ডেকে নতুন পুরপ্রধান কে হবেন, তার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে দল। বারাসাত পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তাপস দাশগুপ্ত বলেন, "ব্যক্তিগত কারণে আজ তিনি পদত্যাগ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার নোটিসে আমরা SDO এবং DM-এর পারমিশন নিয়ে বোর্ড মিটিং ডাকি। বোর্ড মিটিংয়ে আমি প্রিসাইড করি। এবং আমরা নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে শ্রী সুনীল মুখার্জিকে নির্বাচিত করি।" এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সদস্য তাপস মিত্র বলেন, "বারাসাতের সাংসদ কাকলি দেবী বলছেন তিনি ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছেন দলের কাছে ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে। আবার অশনি মুখার্জি বলছেন তিনি দলের নির্দেশে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্বটা এমন এক জায়গায় রয়েছে যে আসল সত্যটা কিন্তু কেউ স্বীকার করছেন না।"
বারাসাত পুরসভায় যখন এই পরিস্থিতি, তখন উত্তর ২৪ পরগনায় আরেক পুরসভায় আবার পুরপ্রধানকে পদত্যাগের জন্য 'ডেডলাইন' বেঁধে দিল দল। বৃহস্পতিবার বনগাঁ পুরসভার প্রধান গোপাল শেঠকে পদত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় দলের তরফে। কিন্তু এরপরও তিনি পদত্যাগ না করায় এবার সময় বেঁধে দিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হল। এই নিয়ে শনিবার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকও করেন বনগাঁর তৃণমূল জেলা সভাপতি। সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, "আগামী ৭ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৫.১১.২৫ তারিখের মধ্যে পদত্যাগপত্র যথাস্থানে প্রদান করে দলীয় নির্দেশকে মান্যতা দেবেন। অন্যথা দল আপনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। এই চিঠিটা আজকে ওঁর কাছে পাঠানো হচ্ছে।" এ প্রসঙ্গে বনগাঁ পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডল বলেন, "২২টা ওয়ার্ডের মানুষ যেন পুর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং বনগাঁর মানুষ যেন পুর পরিষেবাটা পান। না হলে কিন্তু আন্দোলন কোথাও থেমে থাকবে না।"
























