North 24 Parganas News : উন্নয়নের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লুঠ এই তৃণমূল নেতার ! কী অভিযোগ ব্যবসায়ীদের ?
Businessmens protest for Money Return : মুচলেকা দিয়ে বস্ত্রহাটের উন্নয়নের নাম করে বিপুল টাকা অনুদান নেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা ফেরতের দাবিতে পুরপ্রধানকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন ব্যবসায়ীরা।

উত্তর ২৪ পরগনা : একদিকে যখন তৃণমূলের রাজ্য স্তরের নেতা ও কাউন্সিলরা এক এক করে ইস্তফা দিচ্ছেন, ঠিক তখন জেলার নেতারা কাটমানির টাকা ফেরত দিতে ময়দানে নেমে পড়েছেন। কিছু জায়গায় নিজে থেকে ফেরত দিলেও, কিছু জায়গায় আবার টাকার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষরা। এবার হাবড়ার পুরপ্রধানকে ঘেরাও করলেন সেই এলাকার ব্যবসায়ীরা। বাড়িতে ঢুকে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায়। অভিযোগ, মুচলেকা দিয়ে হাবরার জয়গাছি সুপার মার্কেট বস্ত্রহাটের উন্নয়নের নাম করে বিপুল টাকা অনুদান নেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা ফেরতের দাবিতে পুরপ্রধানকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পরে পুরপ্রধান নারায়ণ সাহা টাকা ফেরতের মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান। ব্যবসায়ীরা জানান, পূর্বতন সরকারের উদ্যোগে হাবড়ার জয়গাছি সুপারমার্কেট চত্বরে ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। ওই ভবনটিকেই পুরসভা বস্ত্রহাট নাম দিয়েছে। জয়গাছি এলাকায় রাস্তার পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যে বস্ত্র ব্যবসায়ীরা বেচাকেনা করতেন, তাঁদের স্থায়ী জায়গায় একটি দোকান ঘর দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ওই ভবনটি নির্মাণ করেছিল। দোকান দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পুরসভার পক্ষ থেকে ৭৪ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দু'টি ভাগে এক লক্ষ টাকা অনুদান নেওয়া হয়েছিল। ওই টাকায় বস্ত্র হাটের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি।
আরও পড়ুন - টাকা ফেরত দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা ! চাইলেন ক্ষমা, ঘটনা কী ?
বস্ত্রহাটের দোকান বন্টন নিয়েই বিতর্কে সূত্রপাত। সরকার বদল হওয়ার পর বস্ত্রহাটের ওই ব্যবসায়ীরা টাকা ফেরত-এর দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাবড়ার পুরপ্রধান নারায়ণচন্দ্র সাহার বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, অবিলম্বে টাকা ফেরত দিতে হবে। ব্যবসায়ীরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা পুরপ্রধানকে ঘেরাও করে রাখেন। অবশেষে, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে পুরপ্রধান একটি মুচলেকা লিখে দিয়েছেন। তারপর বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ঘেরাও তুলে নেন।
বিজেপি নেতা অভি দাস বলেন, 'পুরপ্রধান বস্ত্রহাটের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু উন্নয়ন হয়নি। তাই, ব্যবসায়ীদের হয়ে আমরা পুরপ্রধানের বাড়িতে টাকা ফেরত চাইতে যাই।' পুরপ্রধান নারায়ণচন্দ্র সাহার দাবি , 'বস্ত্রহাটের ব্যবসায়ীদের নাম পরিবর্তনের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনও টাকা নিইনি। পুরসভার উন্নয়নের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা টাকা ফেরত চেয়েছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমরা ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত দিয়ে দেব।' যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, 'টাকা নারায়ণ সাহা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। উন্নয়নের নামে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়েছে যেটা তাদের ফেরত দিতেই হবে।'





















