Kharagpur News: দলীয় প্রধানকে চুলের মুঠি ধরে, জুতোপেটা ! কাঠগড়ায় দলেরই পঞ্চায়েত সদস্যা, মুখে মাখানো হল কালি !
TMC vs BJP: পঞ্চায়েত অফিসেই তৃণমূলের দুই নেত্রীর মারধরের ছবি প্রকাশ্য়ে। যদিও, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি, এর নেপথ্য়ে নাকি রয়েছে বিজেপি।

- খড়গপুর ২ নম্বর ব্লকে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানকে জুতোপেটা।
- পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বচসা।
- মারধরের সময় মুখে কালি ও চুল ধরে টানাহেঁচড়া।
- তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বিজেপি ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ।
বিশ্বজিৎ দাস, খড়গপুর : খড়গপুরে তৃণমূল বনাম তৃণমূল। পঞ্চায়েতের অফিসের মধ্য়েই নেত্রীদের খণ্ডযুদ্ধ ! তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে চুলের মুঠি ধরে, জুতোপেটা করা হল। মুখে মাখিয়ে দেওয়া হল কালি ! পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, খড়গপুর ২ নম্বর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও ও পুলিশকে সেখানে যেতে হয়। তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রকাশ্যে জুতোপেটা। বেধড়ক মারধর। তৃণমূল পরিচালিত খড়গপুর ২ নং ব্লকের চাঙ্গুয়াল পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য সুজাতা দে-র হাতে মারধর খেলেন তৃণমূলেরই পঞ্চায়েত প্রধান দীপালি সিংহ। অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বাধা দেওয়া নিয়েই বাধে বচসা। যা গড়ায় মারামারিতে। পঞ্চায়েত অফিসের মধ্য়েই তৃণমূল বনাম তৃণমূল। একেবারে খণ্ডযুদ্ধ। এ প্রসঙ্গে চাঙ্গুয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও তৃণমূল নেত্রী দীপালি সিংহ বলেন, "আমাদেরই একজন পঞ্চায়েত সদস্য়, তিনি আমার কাছে এসেছিলেন। এসে বলেছেন ওঁর একটা কাজ...গার্ডওয়ালের একটা কাজ আছে, যেটা উনি এইবার করতে চাইছেন। উনি আগে থেকে পরিকল্পনা করে এসেছিলেন। কালিটা আমার গায়ে ছিটাবে বলে এসেছিলেন। হাতে মেখেছেন, মেখে আমার গালে লাগালেন। কালিটা যখন ঢালবে, আমি এমন ধাক্কা মেরেছি, ওইপাশে গিয়ে ধাক্কাটা লেগেছে।"
চাঙ্গুয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ও তৃণমূল নেত্রী সুজাতা দে বলেন, "একটা চিনেমাটির টব তুলে এনে আমার মাথায় আঘাত করেছে। মাথায় আঘাত করার পর আমাকে চিড়ে দিয়েছে নখ দিয়ে। মুখে কালি লাগিয়েছে আমাকে। জামা ওড়নায় পুরো কালি লাগিয়েছে। অঞ্চল অফিস জিপিতে আমি তালি ঝুলিয়ে রেখেছি। তারপর পাবলিককে ডেকেছি। আমরা সবাই তৃণমূল। ওদের ডাকার পর ওরা এসেছে। জিজ্ঞাসা করেছে আমাদের পঞ্চায়েতের গায়ে কেন হাত তুলেছ ? এটা বলতে তখন ওরা মেরেছে এক-দু ঘা করে।"
পঞ্চায়েত অফিসেই তৃণমূলের দুই নেত্রীর মারধরের ছবি প্রকাশ্য়ে। যদিও, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি, এর নেপথ্য়ে নাকি রয়েছে বিজেপি। দীপালি সিংহ বলেন, "আমি জানি বিজেপি এর পিছনে রয়েছে। বিরোধী দলনেত্রী সেখানে বসেছিলেন। তাঁদেরই প্ররোচনায় প্ল্য়ান করে এসেছিলেন।"
যদিও বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য এবং অঞ্চলের বিরোধী দলনেত্রী সাথী চক্রবর্তী বলেন, "ওদের নিজেদের মধ্য়ে উত্তেজনা হচ্ছে, ওদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হচ্ছে। নিজেদের সমস্য়া নিজেরা না মেটাতে পারলে, তখন কী করছে ? তখন বিজেপিকে টানছে। এটা পুরো মিথ্য়া কথা। নিজেদের ঘরে আগুন লেগেছে, সেই আগুন নেভাতে না পেরে, সেটাকে টার্গেট করেছে বিজেপি প্ররোচনা দিচ্ছে, তার জন্য় হচ্ছে।"
খবর পেয়ে খড়গপুর দু'নম্বর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও দীপঙ্কর রায় ও খড়গপুর লোকাল থানা পুলিশ পৌঁছায়। এরপর স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।






















