TMC News: হালিশহরে পুলিশ লকআপে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওতের মৃত্যুতে এবার তদন্তে সিআইডি
Birju Keot Death: ৮ অগাস্ট ভোররাতে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। কল্যাণীতে নিয়ে গেলে বিরজু কেওতেকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হালিশহর: পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু তৃণমূলকর্মীর (TMC Worker death)। হালিশহরে পুলিশ লকআপে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওতের (Birju Keot) মৃত্যুতে এবার তদন্তে সিআইডি।
৬ অগাস্ট তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তৃণমূলকর্মীকে। তোলাবাজি, মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগে এই বিরজু কেওতকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। সেখানেই বিরজুর মৃত্যু হয়। ৮ অগাস্ট ভোররাতে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। কল্যাণীতে জেএনএম হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে গেলে বিরজুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওত কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জিনি শর্মার স্বামী। পাশাপাশি, প্রাক্তন পুরপ্রধান ও তৃণমূল নেতা কমল অধিকারীর ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত ছিলেন বিরজু। পুলিশ সূত্রে দাবি, শনিবার ভোরে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওত। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কল্যাণীর JNM হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
৯ অগাস্ট মৃত কর্মীর বাড়িতে দেখা করতে যান প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। হালিশহরে যাওয়ার পথে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ-হামলা হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জুতো, চটি, বোতল। ঠিক পরের দিনই হালিশহরে পৌঁছেছিলেন বর্তমান মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর স্ত্রীকে চাকরি ও ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করেন। পাশাপাশি সুবিচারের আশ্বাসও দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সেদিন পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে শোনা গিয়েছিল, 'মৃত্যু নিয়ে কাউকে রাজনীতির সুযোগ দেননি পরিবারের লোকেরা ... পরিবার সরকারের উপর আস্থা রেখেছে।' এটিকে তিনি সরকারের বড় পাওনা বলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, 'পুলিশি হেফাজতে শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। পুলিশি হেফাজতে মারা গেছেন, এটা সত্যি। তবে কতটা অত্যাচার হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে বোঝা যাবে'
পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল যে পুলিশ লকআপে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে তাঁকে। এবার সেই তৃণমূলকর্মীর মৃত্যুতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল। শুভেন্দু অধিকারী ১০ অগাস্ট মৃতের পরিজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেখানে দাঁড়িয়েই জেলাশাসকের নেতৃত্বে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এতদিন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে তদন্ত করা হচ্ছিল। তবে খবর অনুযায়ী কয়েকদিন আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে সিআইডি গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখবে। পারিবারিক তথ্যপ্রমাণ, হালিশহর থানা এবং লক আপের সিসিটিভি ফুটেজ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই সিআইডি তদন্ত শুরুও করেছে।
সেরা শিরোনাম






















