Singur: ২০২৬ ভোটের আগে ফের প্রাসঙ্গিক সিঙ্গুর! ২০১১-র নির্বাচনে কীভাবে ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে হুগলির এই অঞ্চল? ফিরে দেখা...
Singur : অনেকের মতে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতেই পারেননি, সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন কত বড় আঘাত হানতে পারে তাঁর সাম্রাজ্যে! তৃণমূলস্তরে যে কী অসন্তোষ দানা বেধেছে...

কলকাতা : ফের সিঙ্গুর । শিরোনামে। ১৮ বছর পর ফের ভোটের আগে আলোচনায় সিঙ্গুর। সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রীর সভা। স্বপ্ন ডানা মেলা শুরু করেছিল ১০ বছর আগে। ২০০৬ সালের ১৮ মে। সপ্তম বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনেই রতন টাটাকে পাশে নিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছিলেন, সিঙ্গুরে হবে ছোট গাড়ি তৈরির কারখানা। কিন্তু, জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়েই বাধে বিপত্তি! সম্ভ্রান্ত জনপদে শুরু হয় অশান্তি। আন্দোলন-পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাস। বাম আকাশে জমতে শুরু করে কালো মেঘ। কিন্তু, তারপরও কারখানায় অনড় ছিলেন বুদ্ধদেব। অনেকের মতে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতেই পারেননি, সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন কত বড় আঘাত হানতে পারে তাঁর সাম্রাজ্যে! তৃণমূলস্তরে যে কী অসন্তোষ দানা বেধেছে, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের মতোই তা ঠাওর করে উঠতে পারেনি আলিমুদ্দিনও! এই সিঙ্গুর নন্দীগ্রামই বামদুর্গের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিল। দেখে নেওয়া যাক ১৫ বছর আগে কী কী ঘটেছিল।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের আগে যেমন, হুগলির এই জনপদ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল, তেমনি ১৫ বছর পর আরও একটা বিধানসভা ভোটের আগেও ফের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে সিঙ্গুর। সৌজন্যে নরেন্দ্র মোদির সভা। তারিখটা ২০০৬-এর ১১ মে। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে 'সারপ্রাইজের' কথা বলেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সিঙ্গুরের মাটিতে টাটার কারখানা গড়ার কথা বলেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই বছর ১৮ মে, সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরির ঘোষণা করেন রতন টাটা। ওই বছর ২০ জুলাই জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। এরপরই জোর করে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগে, সিঙ্গুর জীবন জীবিকা রক্ষা কমিটির ব্যানারে শুরু বিক্ষোভ । ৩ ডিসেম্বর তিন ফসলি জমিতে কারখানা গড়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ ২৮ ডিসেম্বর, ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন তিনি। ২০০৮-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি, রতন টাটা ঘোষণা করেন, ওই বছর অক্টোবরে কারখানা থেকে ন্যানো গাড়ি বের হবে৷ কিন্তু ২৪ অগাস্ট, জমি ফেরতের দাবিতে সিঙ্গুরে ধর্না শুরু হয়। ৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ শাসক-বিরোধীর বিবাদ মেটাতে রাজভবনে রাজ্যপালের উপস্থিতিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হয়। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও বদল হয়নি। এক মাসের মধ্যেই ৩ অক্টোবর, ষষ্ঠীর দিন সিঙ্গুর থেকে কারখানা সরানোর ঘোষণা করেন রতন টাটা৷ সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে গুজরাতের সানন্দে ন্যানো কারখানা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল টাটা গোষ্ঠী।
রাজ্যে পালাবদলের পরিবর্তনের পর, ২০১১-র ২০ মে, শপথ নেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা। সিঙ্গুরের জমি ফেরাতে, ওই বছর ১৪ জুন,
বিধানসভায় পাস হয় সিঙ্গুর জমি পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিল-২০১১। ২০ জুন, বিলে স্বাক্ষর করেন রাজ্যপাল। প্রণয়ন হয় ‘সিঙ্গুর জমি পুনর্বাসন ও উন্নয়ন আইন-২০১১’-র। জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। শেষমেশ ২০১৬-র ৩১ অগাস্টে সিঙ্গুরের কৃষকদের জমি ফেরতের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
সেই নির্দেশ মেনেই জমি ফেরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিন্তু তারপর? সিঙ্গুর এখনও সেই তিমিরেই।






















