Teachers' Protest : 'জাতীয় লজ্জার দিন, আর কত নিম্নগামিতা দেখব' শিক্ষকদের উপর লাঠিচার্জের ঘটনায় সরব মোনালিসা
পুলিশের মধ্যে গেঞ্জি পরা লোকেরা লাঠি হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এরা কারা, প্রশ্ন মোনালিসার

কলকাতা : প্রতিবাদী শিক্ষকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় সমালোচনার ঢেউ দিকে দিকে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবারও রক্ত ঝরল শিক্ষকদের। চামড়ায় পড়ল লাঠির আঘাতের দাগ। কেউ কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে গোপনাঙ্গে আঘাত করারও অভিযোগ করলেন। এমন এক দিনে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল বিভিন্ন মহল থেকে।
মোনালিসা মাইতির বক্তব্য
তারা সুন্দরী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোনালিসা মাইতি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন। বললেন, 'আমার কাছে এই দিনটা জাতীয় লজ্জার দিন। স্বাধীন ভারতে নিরীহ, অস্ত্রহীন, কর্মহীন শিক্ষকদের লাঠিপেটা করা হচ্ছে,কবে এ ঘটনা আমরা দেখেছি। ভবিষ্যতে দেখতেও চাই না। আমার আবেদন সকলের কাছে, এর তীব্র নিন্দা যেন সমাজের সব স্তর থেকে হয়। পুলিশের মধ্যে গেঞ্জি পরা লোকেরা লাঠি হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এরা কারা। এরা কী সেই চটি পরা পুলিশেরই কোনও এক দল, আর কত নিম্নগামিতা আমরা দেখব '
শিক্ষকদের লাঠি-ঘাড়ধাক্কা-ঘুষি
সাত দফা দাবিতে চাকরিহারাদের বিকাশ ভবন অভিযান ঘিরে বহস্পতিবার উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি । ভেঙে ফেলা হয় মেন গেট। হুড়মুড়িয়ে বিকাশভবনে ঢুকে পড়েন আন্দোলনকারীরা। ধস্তাধস্তির মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক মহিলা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, মূল ভবনের শাটার নামিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। বাকি গেটগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর রাত নামতেই আন্দোলনকারীদের সরাতে মারমুখী চেহারা নেয় পুলিশ। লাঠিচার্জ করে, গলাধাক্কা দিয়ে চাকরিহারাদের সেখান থেকে বার করে দেয় পুলিশ। একাধিক চাকরিহারা আন্দোলনকারী রক্তাক্ত হন। একদিকে হকের চাকরি যাওয়ার যন্ত্রণা, তারওপর লাঠি-ঘাড়ধাক্কা-ঘুষি। বাংলায় শিক্ষকদের এই দশার নিন্দায় সরব হন বহু মানুষ।
পুলিশের ব্যাখ্যা
যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ এদিন যথেষ্ট সংযতই ছিল। 'ওই চত্বরে অনেক অফিস আছে, সেই সব অফিসের কর্মচারীরা বেরোতে চাইছিলেন। যতবার আমরা আবেদন করেছি, ততবার আন্দোলনকারীরা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। যখন কর্মচারীদের বাইরে বেরনোর রাস্তা করে দেওয়া হচ্ছিল, তখন আন্দোলনকারীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। ৭ ঘণ্টা ধরে যখন ৫০০ থেকে ৬০০ কর্মচারীকে আটকে রাখা হয়, তখন সেই আন্দোলন গণতান্ত্রিক থাকে না'
শুধু তাই নয়, রক্তাক্ত আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই মামলা রুজু করে পুলিশ। বিকাশ ভবনের গেট ভেঙে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায়, চাকরিহারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, পুলিশকে মারধর, সরকারি কর্মচারীদের আটকে রাখার ধারা যোগ করে মামলা রুজু হয়েছে।






















