Swarup Biswas : বিপাকে বিশ্বাস ব্রাদার্স ! স্বরূপকে সঙ্গে নিয়ে সুরুচি সংঘ ক্লাবে হানা পুলিশের, 'গুপ্ত'ঘরের পর কীসের খোঁজ ?
দাদা অরূপ বিশ্বাসকে যখন মেসি কাণ্ডের তদন্তের জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ, ঠিক তখন ভাই স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার। একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরূপকে নিয়ে সুরুচি সঙ্ঘ ক্লাবে পুলিশ।

কলকাতা : বদলেছে সরকার, বদলেছে বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া। দুর্নীতি থেকে তোলাবাজি, যারা যারা জড়িত সকলেই শাস্তি পাবেন, এমনই আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এই জালে ফেঁসেছেন তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রীরা। একে একে ধরা পড়ছেন পুলিশের কাছে। ফাঁস হচ্ছে তাদের কারনামা। আর এই তালিকায় যুক্ত হয়ে বড় বিপাকে 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'। দাদা অরূপ বিশ্বাসকে যখন মেসি কাণ্ডের তদন্তের জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ, ঠিক তখন ভাই স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার। তোলাবাজি থেকে খুনের চেষ্টা, একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবার এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে সুরুচি সঙ্ঘ ক্লাবে পৌছালো পুলিশ।
স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে সুরুচি সঙ্ঘ ক্লাবে হানা দিল পুলিশ। সোমবারই স্বরূপ বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে হানা দিয়েছিল পুলিশ। তোলাবাজি মামলায় ধৃত স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে তল্লাশিতে তাঁর বাসভবনে গিয়ে পুলিশের নজরে পড়ে আরেকটি ঘর। স্বরূপ বিশ্বাসের ফ্ল্যাটের ভিতরে 'গুপ্ত'ঘর। সূত্রের খবর, ওই ঘরের দরজা বন্ধ, লাগানো বিশেষ ডিজিটাল লক। তালা খোলার জন্য মিস্ত্রি নিয়ে আসা হলেও, ডিজিটাল লক খোলা যায়নি। এবার মঙ্গলবার সুরুচি সঙ্ঘ ক্লাবে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। ধৃত স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, খুনের চেষ্টা, ভয় দেখানো, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে, অস্ত্র আইনে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর কার্যত ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে গেল বিশ্বাস ব্রাদার্সের সাম্রাজ্য। গ্রেফতার হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। এক ভাই পলাতক, অন্য ভাই পুলিশের জালে। মূলত স্বরূপের নাম ভুরি ভুরি অভিযোগ আসে টলি পাড়া থেকে। স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন এক মেকআপ আর্টিস্ট। অভিযোগকারিণী জানান, ''আমাদের একটা গিল্ড আছে। যেটা মেকআপ গিল্ড। আমি তারই একজন সহকারী। এই মেকআপ গিল্ড-এর যে সেক্রেটারি, বাপি মালাকার আমায় দীর্ঘদিন কাজ দেন না। ২০১৭ থেকে ২০১৯ আমায় ব্যান করা হয়েছে।'' '' উনি আমায় বলেছিলেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গেলে প্রিয় মানুষ হতে হয়। প্রিয় মানুষ বলতে, উনি, স্বরূপ বিশ্বাস ও সঙ্গে যারা আছে সবার কথা বলছেন। দীর্ঘদিন অত্যাচার চলে, আমি গিয়ে কাজ চাইতাম। পায়ে ধরেও কেঁদেছি উনার (বাপি মালাকার)। আপনি কাজ না দিলে আমি সংসারটা চালাতে পারছি না। আমি উনার বিরুদ্ধে চিঠি দিই স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে। সেই চিঠি তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ফোন আসে।''
আরও পড়ুন - 'কম্প্রোমাইজ করো, মেয়ে সাপ্লাই দাও...', স্বরূপ বিশ্বাসের 'স্বরূপ' ফাঁস করলেন অভিযোগকারিণী
তিনি আরও জানান, ''পরের দিন বাড়ি এসে বলে, যে চিঠিটা দিয়েছ সেটা তুলে নাও। যদি না তোলো, তাহলে স্বরূপ ও বাপি মিলে তোমায় খুন করে দেবে। এবং এমন ভাবে মারা হবে, যেটা দেখান হবে তুমি নিজে আত্মহত্যা করেছো। আমি তখন বললাম, আমি চিঠি তুলব না, কিন্তু এর শেষ দেখে ছাড়ব। যখন দেখল আর পেরে উঠছে না, তখন আমায় বলছে, তোমার তো বয়স হয়ে গেছে, তুমি কম্প্রোমাইস করো, মেয়ে সাপ্লাই দাও। স্বরূপ বিশ্বাস ও বাপি মালাকারের সঙ্গে কম্প্রোমাইস করে কাজটা নাও। ওদের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করো না। পেরে উঠবে না।''






















