Mamata Banerjee: ‘ডিডি গেঞ্জির বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম, দিদিকে চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন মানুষ’, মমতার ধর্নামঞ্চে বললেন প্রতীকউর
Pratik Ur Rahaman: ধর্নামঞ্চে বক্তৃতা করতে উঠলেন প্রতীকউর।

কলকাতা: কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে জোড়াফুলে এসেছেন আগেই। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরানার রাজনীতিতে কার্যতই অভিষেক ঘটল প্রাক্তন সিপিএম তথা অধুনা তৃণমূল প্রতীকউর রহমানের। শনিবার ধর্মতলায় মমতার ধর্নামঞ্চে বক্তৃতা করতে ওঠেন তিনি। সেখানে শুধুমাত্র দলনেত্রীর ভূয়সী প্রশংসাই করলেন না তিনি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলকে জয়ী করতে আহ্বান জানালেন সকলকে। জানিয়ে দিলেন, ’২৬-এ মমতার হারলে সংবিধানের জন্য দেশবাসীর লড়াইও হেরে যাবে। (Pratik Ur Rahaman)
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে SIR-বিরোধী লড়াইকে আরও জোরাল করে তুলছেন মমতা। তৃণমূল নেতৃত্বে সঙ্গে ধর্মতলায় লাগাতার ধর্নায় তিনি। শনিবার সেই ধর্নামঞ্চে বক্তৃতা করতে উঠলেন প্রতীকউর। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দলের হয়ে আজই প্রথম প্রকাশ্যমঞ্চে বক্তৃতা করতে ওঠেন তিনি। সেই বক্তৃতায় আগাগোড়া বিজেপি, RSS এবং নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেন তিনি। অন্য কেউ নয়, SIR-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূলই একমাত্র মুখ বলে জানিয়ে দিলেন। (Mamata Banerjee)
এদিন মমতার ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতীকউর সরাসরি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন। তৃণমূল নেতৃত্বের সুরেই জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন। বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারের প্রচুর জ্ঞান, কাণ্ডজ্ঞানটুকু নেই শুধু। মানুষের কাজ করতে দায়বদ্ধ থাকার কথা যে কমিশন, সেটা করেন না। যেনতেন প্রকারে বিজেপি-র দালালি করতে হবে, মানুষকে হয়রান করতে হবে, বিজেপি-র স্লোগানকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বাস্তবায়িত করতে হবে। তাই যত নাম আছে কেটে দাও।”
নির্বাচনী লড়াইয়ে পেরে না উঠে, ঘুরপথে বিজেপি SIR করছে বলেও দাবি করেন প্রতীকউর। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি-র নেতারা দিল্লি গিয়ে হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন, যে ‘পশ্চিমবঙ্গে জিততে পারছি না’। দিল্লির নেতৃত্ব জানতে চান, ‘’টাকা-পয়সা দিয়েছি, গাড়ি দিয়েছি, বডিগার্ড দিয়েছি, তাও কেন জিততে পারছো না?’ জবাবে বলা হল, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রচুর রোহিঙ্গা এসেছে বলে পারছি না’। তাই কমিশনকে পাঠানো হল যে বেছে বেছে নাম কেটে দাও। ভ্যানিশ কুমার যতই চেষ্টা করুন, তৃণমূলকে ভ্য়ানিশ করতে পারবেন না। গ্যারান্টি দিয়ে বলে যাচ্ছি, ‘২৬-এর পর পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মানুষ পদ্মকে ভোটবাক্সে ভ্যানিশ করে দেবেন। কী অদ্ভুত বিষয়, স্লোগান তোলা হচ্ছে ‘হিন্দি, হিন্দু, হিন্দুস্তান, মুসলিম যাও পাকিস্তান’, আর তাতে স্ট্য়াম্প দিচ্ছে কমিশন।”
এর আগে NRC, CAA-র সময় ‘কাগজ নহি দিখায়েঙ্গে’ স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা। SIR-এ সেই কাগজ নিয়েই লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এদিন প্রতীকউরের মুখে সেই পুরনো স্লোগান ফিরে আসে।। ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, দেশভাগের সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন স্বেচ্ছায় এই দেশে থেকে গিয়েছিলেন। ‘বাই চান্স’ নয়, মুসলিমরা ‘বাই চয়েস’ ভারতীয়। তাই ইংরেজের আনুগত্য মেনে নেওয়া বিজেপি, আরএসএস-কে কেন কাগজ দেখাতে হবে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
’২৬-এর লড়াই কঠিন মেনে নিয়েই প্রতীকউর বলেন, “আমাদের সামনে কঠিন লড়াই। লড়াই করতে হবে। সেই লড়াই লড়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তৃণমূল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়ে চলেছেন।” মমতার প্রশংসা করতে গিয়ে প্রতীকউর যোগ করেন, “ছোটবেলায় টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখতাম, ডিডি গেঞ্জি, চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দিদি একটা ব্র্যান্ড। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন আছেন, ওরা জানে, পশ্চিমবঙ্গ জয় করা তো দূর, সীমানায় ঘেঁষতে পারবে না। কারণ জব তক টাইগার মরা নহি, তব তক টাইগার হারা নহি। বাংলার বাঘিনী এখনও জেগে আছেন। এই লড়াই যদি আমরা হেরে যাই, শুধু এই মানুষটি হেরে যাবেন না, ভারতে সংবিধান বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হার হবে। সংবিধান জিতলে দেশ জিতবে, মানুষ জিতবেন।”
প্রতীকউর বক্তৃতার সময় মমতার পাশাপাশি, মঞ্চে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রাও। প্রতীকউরের ঝাঁঝাল ভাষণ শুনে মুখে হাসি ছিল দু’জনেরই। মমতাও প্রশংসা করেন প্রতীকউরের। জল ঢেলে গলা ভেজানোর পরামর্শও দেন।























