RG Kar case : R G কর কাণ্ডে স্ক্যানারে এই চিকিৎসক ! তদন্ত নিয়ে অনিকেত ও উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় কী জানালেন ?
Inquiry Against Abhik Dey : সরকার বদলের পরই খুলে গেছে 'R G কর ফাইলস'! আর সেই ফাইল খুলতেই স্ক্যানারে এবার অভীক দে। এই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন অনিকেত মাহাতো, উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা : শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই দুর্নীতি ও অপরাধ নিয়ে জিরে টলারেন্স নীতির ঘোষণা করেন। সেই মোতাবেক পুনরায় খোলা আর জি কর কাণ্ডের ফাইল। বাংলার বুকে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যার কাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিন জন পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়। এবার স্ক্যানারে অভীক দে। R G করকাণ্ডের সময় থ্রেট কালচার-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সব অভিযোগ নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, খতিয়ে দেখা হবে কীভাবে সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি হলেন তিনি। আর এই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন অনিকেত মাহাতো, উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়।
সরকার বদলের পরই খুলে গেছে 'R G কর ফাইলস'! আর সেই ফাইল খুলতেই স্ক্যানারে এবার অভীক দে। অভয়া করকাণ্ডের সময় বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সাসপেন্ড হয়েছিলেন তিনি। সেই অভীক দে-র বিরুদ্ধে এবার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দফতর। পাশাপাশি, সার্ভিস কোটায় কীভাবে তিনি SSKM-এ স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেয়েছেন, খতিয়ে দেখা হবে তাও। শনিবার এই দুই নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুন - আর জি কর কাণ্ডে স্ক্যানারে অভীক দে, তদন্তের নির্দেশ রাজ্যপালের, ঠিক কী অভিযোগ ?
কে এই অভীক দে?
সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক অভীক দে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের বর্ধমান মেডিক্যালের রেডিওলজি বিভাগের প্রাক্তন RMO। পরে SSKM হাসপাতালে জেনারেল সার্জারি বিভাগে প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর ট্রেনি হন। অভয়া কাণ্ডের সময় একটি লাল জামা পরে সেমিনার রুমে অর্থাৎ অপরাধ স্থলে তাঁকে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। সেই ছবি ধরা পড়ে সিসিটিভি-তে। নজরে আসেন সকলের। ঘটনাস্থলে কী করছিলেন তিনি? ওঠে প্রশ্ন। এরপর অভীক-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আসতে থাকে ভুরি ভুরি অভিযোগ। বিতর্কের মুখে পড়ে তাঁকে সাসপেন্ড করে স্বাস্থ্য় দফতর। সাসপেন্ড করা হয় রাজ্য় মেডিক্য়াল কাউন্সিল থেকেও।
এই ঘটনা নিয়ে চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো জানান, ''স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে আমাদের আন্দোলন চলাকালীন ৩ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে একটা তদন্ত কমিটি তৈরি হয়েছিল। সেই কমিটিও অভীক দে-কে দোষী সাবস্ত করেছিল, কিন্তু শাস্তি হয়নি। আজ যে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল, তাকে আমি স্বাগত জানাই। আমি চাই এদের কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি হোক। থ্রেট কালচারকে নির্মূল করতে এদের শাস্তি হওয়া জরুরি।''
চিকিৎসক ও বিজেপি বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, ''রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন। তিনি থাকাকালীন এই দুর্বৃত্তদের দের সঙ্গে নিয়ে যেভাবে এই স্বাস্থ্য দফতরকে চালাতেন তিনি নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হয়ে, তার প্রতিফলন কিন্তু আর জি কর কাণ্ডে আমরা দেখতে পেয়েছি। এক একটি হাসপাতাল জুড়ে কোথাও থ্রেট কালচার, কোথাও সিন্ডিকেট, কোথাও দুর্বৃত্তদের অপারেশন চলছে। বিভিন্ন ধরণের ট্রান্সফার, পোস্টিং সব কিছুর মধ্যে দিয়ে যারা যারা এই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডানহাত-বামহাত হয়ে যারা বিভিন্ন ধরণের অন্য়ায় করে গেছে দিনের পর দিন, অন্য়ায় ভাবে MD সিট জোগাড় করেছিলেন।''
আরও পড়ুন - 'মমতার সাহায্যে একটা সিন্ডিকেট...' ! RG কর কাণ্ড নিয়ে বড় মন্তব্য চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ-এর
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট। আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন করা হয় কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসককে। অভিযোগে বিদ্ধ হয় তৎকালীন তৃণমূল সরকার, পুলিশ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর জি করে চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধারের দিন, তৎকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা কৌস্তভ নায়েক, এবং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির তদানীন্তন চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায় যখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তখন তাঁদের ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়েছিলেন অভীক দে। যিনি আর জি কর মেডিক্যালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত ছিলেন।
অভীক দে'র তদন্তের নির্দেশ নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স-এর সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ''ডাক্তার অভীক দে-কে স্বাস্থ্য দফতর সাসপেন্ড করেছিল। অভয়া কাণ্ডের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল এবং হুমকির সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উঠে আসে। সেই সময় সাসপেন্ড করার পর স্বাভাবিক ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যে কোনও কারণে হোক সেটা এতদিন করা হয়নি। আজ আমাদের স্বাস্থ্য দফতর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে যে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমি সেটাকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমি আসা করব এই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।''
তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের পর ভাইরাল হয় আর জি কর মেডিক্য়ালের সেমিনার হলের একটি ভিডিও। মৃতদেহ উদ্ধারের পর যেখানে বহু মানুষের ভিড় দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন লাল জামা পরা এক ব্যক্তি। পুলিশ তাঁকে ফিঙ্গার প্রিন্ট এক্সপার্ট বলে দাবি করলেও, পরে জানা যায়, তিনি অভীক দে। শুধু তাই নয়, রাজ্য়ের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্য়াল কলেজে থ্রেট কালচার চালানোর অভিযোগ ওঠে অভীক দে-র বিরুদ্ধে। এবার সেই অভীক দে'র বিরুদ্ধে দেওয়া হল বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ। এই তদন্তে অনুমতি দিয়েছেন রাজ্যপাল। RSS-পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল মেডিকোস অর্গানাইজেশন বা NMO এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।






















