RG Kar Case : 'এলাকার লোক কথা বলে না, বাজারে কিছু কিনতে গেলে...'বিস্ফোরক অভয়ার বাবা
অভিযোগ, মেয়ে চলে যাওয়ার পর, যেহেতু তাঁরা বিচারের দাবিতে অনড়, প্রতিবাদে এককাট্টা, তাই তাঁরা আজ সমাজে একঘরে। তাঁদের কোণঠাসা করেছে তৃণমূল।

সমীরণ পাল, কলকাতা : আর জি করকাণ্ডের এক বছর। এক বছর আগে ঠিক এইদিনেই তাঁদের জীবনে নেমে এসেছিল ঘন অন্ধকার। যে আঁধারের শেষে আলোর দিশা তাঁরা খুঁজে পাননি আজও। কলকাতা থেকে দিল্লি, বারবার ছুটেছেন বিচারের আশায়। মেলেনি স্বস্তি। ন্যায়বিচারের দাবিতে আজও তাঁরা পথে। গন্তব্য নবান্ন। যদিও পুলিশের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ, নবান্ন এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা আছে। সেখানে কোনও অভিযান করা যাবে না। জমায়েতের জন্য বিকল্প দুটি জায়গার উল্লেখ করেছে পুলিশ। এদিন নবান্ন অভিযানের আগে নিজেদের ভয়াবহ পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন মৃত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। অভিযোগ, মেয়ে চলে যাওয়ার পর, যেহেতু তাঁরা বিচারের দাবিতে অনড়, প্রতিবাদে এককাট্টা, তাই তাঁরা আজ সমাজে একঘরে। তাঁদের কোণঠাসা করেছে তৃণমূল।
নির্যাতিতা মৃত চিকিৎসকের বাবার অভিযোগ, তাঁরা সমাজে কার্যত একঘরে। রাস্তায় দেখা হলেও এলাকার মানুষজন কথা বলে না। বাজারের কিছু জিনিস কিনতে গেলে বিক্রেতা ১০ বার চিন্তা করে। এরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছে তৃণমূল। পুরো সমাজে কার্যত একঘরে তাঁরা। নবান্ন অভিযানের আগে ফের বিস্ফোরক দাবি করল অভয়ার পরিবার। RG কর-কাণ্ডে বিচারের দাবিতে আজ নবান্ন অভিযান রুখতে কলকাতা-হাওড়া জুড়ে তৎপর পুলিশ। রাস্তায় সুউচ্চ ব্যারিকেড থেকে জলকামান, ড্রোন সবেরই ব্যবস্থা রয়েছে। এরই মধ্যে অভয়ার বাবার হুঁশিয়ারি, 'মানুষের আন্দোলনের সামনে সব ব্যারিকেড উড়ে যাবে। নবান্ন অভিযানে অসুবিধা না হলে, আমরা কালীঘাট চলো অভিযানে যাব'। তিনি বললেন, প্রথম থেকে যাঁরা তাঁর মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধের প্রতিবাদে আন্দোলনে যুক্ত, তাঁদের নোটিস পাঠাচ্ছে পুলিশ। ভয় দেখানো হচ্ছে।
'তৃণমূলের একঘরে করার' অভিযোগকে এক্কেবারে উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, এখন রাজ্যে এমন সংস্কৃতি নেই, এ ধরনের জিনিস 'CPM এর আমলে হত'।
অন্যদিকে অভয়ার মায়ের বক্তব্য, ' মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের ভয় পেয়েছেন। আমরা তো অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছি না, আমরা বিচারের দাবিতে যাচ্ছি। উনি ভয় পেয়েছেন, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে থ্রেট কালচার চালু করেছেন। বিচারের দাবিতে আমাদের লড়াই চলতেই থাকবে। সিবিআই বলছে সঞ্জয় রায় একাই দোষী। আমরা বলেছি, দেশের ১৪০ কোটি মানুষকে যদি বিশ্বাস করাতে পারেন তাহলে আমরা মেনে নেব। '


















