Samik Bhattacharya Exclusive : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসবেন নাকি ? সুমন দে-কে যা বললেন শমীক ভট্টাচার্য...
ABP Ananda Exclusive : বিপুল জনাদেশের প্রত্যাশা পূরণের রোড ম্যাপ কী ? কী ভাবছে বিজেপি ?

কলকাতা : "অন্ধেরা ছুটেগা, সুরজ নিকলেগা, কমল খিলেগা।" ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল, ভারতীয় জনতা পার্টি তৈরি হওয়ার পর, মুম্বই-এ প্রথম অধিবেশনে, দলের প্রথম সভাপতি অটলবিহারী বাজপেয়ী ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন। তার ছেচল্লিশ বছর পর, অটলবিহারী বাজপেয়ী যাঁর সেক্রেটারি ছিলেন, সেই জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমি পশ্চিমবঙ্গে অবশেষে পদ্ম ফুটল। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর রাজনৈতিক যাত্রাপথে যা অন্যতম সাফল্য। তিনি দলের একাদশতম রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড় উঠল। পশ্চিমবঙ্গে এখন ক্ষমতায় বিজেপি। রাজ্যে সরকার প্রতিষ্ঠার পর এবিপি আনন্দর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন দে'র (Suman De) সঙ্গে এবিপি আনন্দর স্টুডিওয় মুখোমুখি শমীক ভট্টাচার্য। বিপুল জনাদেশের প্রত্যাশা পূরণের রোড ম্যাপ কী ? কী ভাবছে বিজেপি ? মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের দিনই এবিপি আনন্দর স্টুডিওয় এসে খোলাখুলি উত্তর দিলেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। দিনকয়েক আগেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাম-অতিবামকে আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
সুমন দে : রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার কথা যদি বলি, তাহলে কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আমার ওইরকম রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতা নেই । লেফ্ট এবং আল্ট্রা-লেফ্টকে তিনি পাশে চেয়েছেন। বলেছেন, রোজ বিকাল ৪টে থেকে ৬টা অবধি তিনি বাড়িতে থাকবেন। সবার সঙ্গে কথা বলার জন্য। যাবেন নাকি একদিন, দেখা করে আসবেন ? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসবেন নাকি ?
শমীক ভট্টাচার্য : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার যদি কোনও সময় হয়, আমরা তো বিশ্বাস করি না ওটাই। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সম্বন্ধে কোনও কদর্য শব্দ ব্যবহার হোক...আমি যেহেতু করিনি, আমি প্রত্যেককে বলেছি এই শব্দ করবে না (ব্যবহার)। তবে, লেফ্ট আর আল্ট্রা-লেফ্ট তো ওঁর সঙ্গেই ছিল। উনি যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন অন্যতম চাবিকাঠি তো ছিল আল্ট্রা-লেফ্টরা। তারা এখন শেষ। মাওবাদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাদের যদি কেউ পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, আমরা করতে দেব না। বামেদের তো নিয়ে গিয়ে উনি অফিস খোলার ব্যবস্থা করেছিলেন। বলেছিলেন, বাড়ান..শক্তি হোক। কিন্তু, ওঁর সেটা কাজ করেনি। তারা যদি যায়...যাবে। তাদের উদ্দেশ্য। মহম্মদ সেলিম আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। Samik Bhattacharya ABP Ananda Exclusive Interview with Suman DE
প্রেক্ষাপট...
এবারের ভোটে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল। নিজের ঘরের মাঠ ভবানীপুরে হেরেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বিধায়ক পদ গেছে। ক্ষমতা গেছে। মুখ্য়মন্ত্রীর চেয়ার গেছে। শনিবার, ব্রিগেডের মেগা অনুষ্ঠানে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্য়দিকে, ভোটে সব হারিয়ে, এখন জোটের কথা মনে পড়েছে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের। এতদিন কথায় কথায় যাদের আক্রমণ করতেন, এখন বিজেপিকে রুখতে সেই বাম এবং অতিবামেদেরই পাশে আসার ডাক দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলনেত্রী বলেছেন, "জোট বাঁধুন, আমরা সবাই চাই একটা যৌথ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হোক, যে প্ল্যাটফর্মে সব রাজনৈতিক দল যারা বিজেপির বিরুদ্ধে, এমনকী আপনারা যদি বলেন বামপন্থীরা, আমার কোনও ইগো নেই, আমি সবাইকে নিয়েই চলতে চাই এবং আজকে যা অবস্থা বিজেপিকে যদি রুখতে হয়, বামপন্থী সবাইকে, অতিবাম সবাইকে আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস, আমরা কথা দিচ্ছি, জাতীয় দলের সবাইকে, যার যতটুকু শক্তি আছে, দিল্লিতেও যেমন আমরা লড়াই করব, তেমনই বাংলাতেও আসুন আমরা জোট বাঁধি। যদি কোনও রাজনৈতিক দল এব্যাপারে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান, আমি বিকালে ৪ টে থেকে ৬টা পর্যন্ত অফিসে আছি। আমাকে জানাবেন। আমি নিশ্চয়ই আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।"
























