Sukanta Majumdar : 'নবান্নে গিয়ে ফিশ ফ্রাই আর কফি খেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরবেন না', 'ভাল কংগ্রেসিদের মোদির হাত ধরার' আহ্বান সুকান্তর
West Bengal Assembly Election 2026 : কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা ভোটের লাইনে দাঁড়াবে পশ্চিমবঙ্গবাসী। তার আগে আক্রমণের মধ্য়েই আহ্বান জানানোও চলছে।

সুদীপ চক্রবর্তী, ঐশী মুখোপাধ্যায় ও কৃষ্ণেন্দু অধিকারী : ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে 'ভাল কংগ্রেসি', কমিউনিস্ট এমনকী তৃণমূলের একাংশকেও বিজেপির ছাতার তলায় আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন বিজেপি নেতাদের একাংশ। যদিও, এপ্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা মোহিত সেনগুপ্তর প্রতিক্রিয়া, বিজেপিতে যাওয়া আত্মহত্যার শামিল। আর সিপিএমের কটাক্ষ, এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বিজেপিতে লোকবলের অভাব রয়েছে।
কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা ভোটের লাইনে দাঁড়াবে পশ্চিমবঙ্গবাসী। তার আগে আক্রমণের মধ্য়েই আহ্বান জানানোও চলছে। কোথাও কমিউনিস্ট, কোথাও 'ভাল কংগ্রেসি'-দের বিজেপির হাত ধরার আহ্বান জানাচ্ছেন সুকান্ত মজুমদার, মিঠুন চক্রবর্তীর মতো বিজেপি নেতারা। বুধবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় উপস্থিত ছিলেন সুকান্ত মজুমদার। সেখান থেকেই প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্তকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, "মোহিত সেনগুপ্ত সাহেবের হাত ধরে কংগ্রেসটা টিমটিম করে জ্বলছে। মোহিতদা-সহ কংগ্রেসের যারা ভাল মানুষ আছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে যারা সরাতে চান, হারাতে চান, তাঁদেরকে বলি, নবান্নে গিয়ে ফিশ ফ্রাই আর কফি খেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি সরাতে হয়, নরেন্দ্র মোদির হাত ধরুন।"
কিন্তু বিজেপির আহ্বান সটান খারিজ করে দিয়ে পাল্টা দিদি-মোদি সেটিংয়ের অভিযোগে সরব হয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মোহিত সেনগুপ্ত! তিনি বলেন, "আজকে এত লোক সারা ভারতবর্ষ জুড়ে অ্যারেস্ট হয়, তার থেকে ১০ গুণ মমতা ব্যানার্জি আর অভিষেক ব্যানার্জি অন্যায় করেছেন। তাঁদেরকে অ্যারেস্ট করতে পারছে না? ওনার কথাতে আমি জাত-ধর্ম শেষ করে, কংগ্রেস ছেড়ে আমি যাব বিজেপিতে? যে দলটা একটা মুসলিম বিদ্বেষী দল। বিজেপিতে আমি গেলে এটা আত্মহত্যার শামিল হবে।"
বুধবার বীরভূমের দুবরাজপুরে, বিজেপির জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কমিউনিস্টদের বিজেপির ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানান মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "যারা কমিউনিস্ট আছেন, তাঁদের মধ্যে যারা হিন্দু আছেন, তাঁদের মধ্যে, যাদের হিন্দুত্ব বেঁচে আছে, তাঁদেরও বলছি, কংগ্রেসকেও বলছি। এমনকী তৃণমূলকেও বলছি। তৃণমূলের যেসব হিন্দু ভাইবোনরা আছেন, যারা দুর্নীতি করেন না, যাদের মধ্যে বিবেক আছে, তাঁদেরকেও বলছি। আসুন, একসাথে এক ছাতার নীচে এসে ভোট করে এই সরকারকে তাড়াই।"
এ প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, "বিজেপি যে যোগ্যতাহীন, সেই কারণে নিজেরা কোনও কিছু করতে পারবে না বলে এখন বাকি সবাইকে ডাক দিচ্ছে এটা পরিষ্কার। আর দুই, এর সঙ্গে সঙ্গে এটাও পরিষ্কার যে তৃণমূলের নেতারা দলে দলে গিয়ে বিজেপিতে ভরে গেছেন। ফলে, তৃণমূলের নেতাদের নিয়ে বিজেপি। এখন সেই কারণে...যেহেতু ধরা পড়ে গেছেন, এখন বাকিদেরও বলছেন তোমরা সবাই এসো।"
গত কয়েক বছরে ভোট এলেই পশ্চিমবঙ্গে দলবদল নতুন কিছু নয়। কখনও বিজেপি থেকে তৃণমূলে। কখনও তৃণমূল থেকে বিজেপিতে। কিন্তু প্রান্তে বসে থাকা সিপিএম-কংগ্রেসের নেতারা এবার এই প্রবণতায় কখনও গা ভাসান কি না, সেটাই দেখার।
























