Suvendu Adhikari : 'স্টেশনে বসে থাকেন রোজ ...' প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, বাড়ছে চিকিৎসা ভাতা
'মনে হয়েছে, প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে যা বিগত সরকার করেননি। ' - বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বললেন শুভেন্দু অধিকারী।

কলকাতা : বিধানসভা থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, পূর্ববর্তী সরকার বিভিন্ন সময়ে বিধায়কদের বেতন, ভাতা এবং নানা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি নিয়ে নানা পদক্ষেপ করেছে। কিন্তু প্রাক্তন বিধায়কদের ক্ষেত্রে কোনওরকম অর্থনৈতিক সুরক্ষা বা সহযোগিতার বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার এবার সেই কাজটিই করবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা একসময় জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি এই সরকার দেখবে। সেই কথা ভেবেই তাঁর ঘোষণা, প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা বাড়ানো হল ।
এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বিভিন্ন সময় বয়স্ক প্রাক্তন বিধায়কদের খুব সাধারণ জীবন কাটাতে দেখেছেন। হয়ত যে সুযোগ-সুবিধে গুলো তাঁদের পাওয়ার কথা, তাঁরা পাননি। বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ' আমি নিজে বেশ কিছু প্রাক্তন বিধায়ককে আমি দেখেছি ...ভিন্ন ভিন্ন দলের, তাঁরা অত্যন্ত সততা নিষ্ঠা নিয়ে তাঁদের বিধায়কের কার্যকাল অতিবাহিত করেছেন।' তিনি এক্ষেত্রে দুজনের কথাও বলেন। প্রথমে উল্লেখ করেন, অবিভক্ত মেদিনীপুরের মহিষাদল কেন্দ্রের প্রাক্তন বাম বিধায়ক দীনবন্ধু মণ্ডলের কথা বলেন । মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'তাঁকে দেখেছি, এখনও প্রত্যেক দিন সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করেন, বাজার থেকে আনাজ, জিনিসপত্র কেনাকাটা করেন, লোকের সঙ্গে বসে এক বেঞ্চিতে চা খান। '
সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাসন্তির প্রাক্তন বিধায়ক ও মন্ত্রী সুভাষ নস্করের কথা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন, তিনি স্টেশনে বসে আছেন। তাঁকে স্টেশনে একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করেছে। তিনি রোজ বাজার করেন। তারপরে স্টেশনে এসে বসেন। রেলের বেঞ্চিতে বসে চা খান। হকারদের কাছ থেকে খবরের কাগজ নিয়ে পড়েন। তারপরে বাড়ি চলে যান। এগুলো দেখার পরে তাঁর মনে হয়েছে, প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে যা বিগত সরকার করেননি।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আমাদের প্রাক্তন বিধায়কদের যে চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা ছিল, সেটা বাড়িয়ে দশ হাজার টাকা করা হবে। কিন্তু তার জন্য পরবর্তী অধিবেশনে আইন সংশোধন করতে হবে।
এছাড়াও এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রত্যেক বিধায়ক তাঁর নিজের বিধানসভাকেন্দ্রে সেবাকেন্দ্র চালু করবেন। সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সেবাকেন্দ্র চালানো হবে। যে সেবাকেন্দ্র চালু হবে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে তার নাম রাখতে হবে।






















