DA Update : আজই ডিএ নিয়ে বড় খবর? বৈঠকে বসছে মন্ত্রিসভা ! তারপরই ঘোষণা হতে পারে ...
সোমবারের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা।

কলকাতা : এক সপ্তাহের মাথায় ফের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari )। গত সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আজ দ্বিতীয় বৈঠক ঘিরে জোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি DA এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। আগেই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা এবং বেতন কমিশন নিয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করবে। ফলে সোমবারের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা।
বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ছিল DA ও সপ্তম বেতন কমিশন
বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির সংকল্পপত্রে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের কেন্দ্রীয় হারে DA দেওয়া হবে। পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশনও কার্যকর করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দল।
প্রেক্ষাপট
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের DA-র ফারাক নিয়ে আন্দোলন চলছে। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, তাঁরা বহু বছর ধরে প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই আবহেই বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি ভোটের সময় বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাপ বেড়েছিল তৎকালীন সরকারের উপর
গত ৫ ফেব্রুয়ারি DA মামলায় বড় নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট ( Supreme Court of India )। আদালত জানায়, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রর ( Indu Malhotra) নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটিও গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি ঠিক করবে মোট কত টাকা বকেয়া রয়েছে। একই সঙ্গে বাকি টাকা কত কিস্তিতে এবং কীভাবে দেওয়া হবে, তাও নির্ধারণ করার কথা বলা হয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ৩১ মার্চের মধ্যে বাকি বকেয়া টাকার প্রথম কিস্তিও মিটিয়ে দিতে হবে।
সময় চেয়েও বিতর্কে জড়ায় তৎকালীন সরকার
আদালতের নির্দেশের পরও তৎকালীন রাজ্য সরকার DA মেটায়নি। বরং ৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের খরচের কারণ দেখিয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল সরকার। এরপর ১৫ মার্চ, বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার মাত্র ৫৫ মিনিট আগে বকেয়া DA দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। যদিও সরকারি কর্মচারীদের একাংশ দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পুরোপুরি মানা হয়নি এবং প্রকৃত বকেয়া DA এখনও মেটানো হয়নি। এই অভিযোগ নিয়েই একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
আজ কী ঘোষণা হতে পারে?
আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে DA-র হার বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় হারে DA কার্যকর করার রোডম্যাপ এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আশা, শুধু DA বৃদ্ধিই নয়, বকেয়া DA মেটানো নিয়েও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে পারে সরকার। পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার জন্য আলাদা কমিটি বা বাস্তবায়ন কাঠামোও ঘোষণা হতে পারে।
সরকারি কর্মচারীদের নজর নবান্নে
সোমবারের বৈঠক তাই শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের DA আন্দোলনের পর নতুন সরকারের ডিএ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সরকারি কর্মচারী থেকে পেনশনভোগী—সকলেই।























