TMC News: তৃণমূলে বিদ্রোহী দেব, সায়নী ঘোষও, ১৯ জন মিলে চিঠি লোকসভার স্পিকারকে, তালিকায় আর কে কে?
TMC Rebel MPs Write to Speaker: দিল্লিতেও ঘর ভাঙল তৃণমূলে। ১৯ জন বিদ্রোহী সাংসদ চিঠি দিলেন স্পিকারকে।

কলকাতা: দেশের সংসদেও ভেঙে খান খান তৃণমূল। বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন ১৯ জন সাংসদ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন তাঁরা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেই তিঠিতে সই রয়েছে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের, হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিদ্রোহী হয়েছেন ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, জুন মালিয়াও। শতাব্দী রায় একদিন আগেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন এবিপি আনন্দে। তাঁরও সই রয়েছে চিঠিতে। (TMC Rebel MPs Write to Speaker)
যে ১৯ জন সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন, তাঁরা হলেন- কাকলি ঘোষদস্তিদার, জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের খান, পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, মিতালি বাগ, দেব, কালীপদ সোরেন, জুন মালিয়া, অরূপ চক্রবর্তী, শর্মিলা সরকার, শত্রুঘ্ন সিন্হা, অসিত কুমার মাল, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনাকে হাতে ধরে রাজনীতিতে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (TMC News)
আরও পড়ুন: কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছে তৃণমূল? জবাব এড়ালেন অধীর, আব্দুল মান্নান বললেন, ‘নর্দমার জল…’
এই ১৯ জন বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে চার জন বিশেষ করে নজর কাড়ছেন, শত্রঘ্ন সিনহা, মিতালি বাগ, মালা রায় এবং সায়নী ঘোষ। মালা রায় দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ। মমতা একদা দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ ছিলেন। সেই দক্ষিণ কলকাতায় মালাকে দাঁড় করানো হয়েছিল। মমতার একসময়ের কেন্দ্র যাদবপুরে প্রার্থী হয়েছিলেন সায়নী। শত্রুঘ্নকে শুধু প্রার্থী করাই নয়, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে মমতার পাশে জায়গা হতো তাঁর। শত্রুঘ্নর মেয়ে সোনাক্ষী সিনহাও মঞ্চ আলো করে উপস্থিত ছিলেন সেই সময়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তালিকায় নাম রয়েছে তারকা সাংসদ দেবেরও। গতকালই সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, "দিদি যতদিন আছেন, আমি দিদির।" নতুন তৃণমূলে যাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে বলেছিলেন, "মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের জন্য আমার ভালবাসা সারাজীবন থাকবে। নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন, সঙ্গে আছি। ভবিষ্যতে কী হবে, আমি এখন কিছু বলতে চাই না। আমি যদি দিল্লি গিয়ে থাকে, আজ যে এখানে উপস্থিত রয়েছি, তা তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে। ঘাটালের যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা একটা বিশ্বাস থেকে ভোট দিয়েছেন যে, এই লোকটা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আমি সেই স্বপ্ন নিয়ে শুভেন্দুদার কাছে এসেছি, যিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। ল অফ দ্য ল্যান্ড মানতে হবে আমাদের। চেয়ারের সম্মান রয়েছে। আমি এটা অবিশ্বাস করতে পারব না যে শুভেন্দু অধিকারী আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন। আমাকে তো মানতে হবে! আমাকে কেন, আমাদের সবাইকে মানতে হবে। আমার কাজটা কী? রাজ্যে এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার। তাদের হাত ধরে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পূরণের দায়িত্ব আমারই। আমার পুরো বিশ্বাস..রাজ্যের এই সরকার, শুভেন্দুদা এবং কেন্দ্রীয় সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যে উদ্যোগী হয়েছে, আমরা যে টার্ম সেট করেছিলাম, ২০২৯ সালের আগেই তা শেষ হোক।"
আরও পড়ুন: বড় ‘অফার’ সনিয়া গাঁধীর, কংগ্রেসে মিশে যাবে তৃণমূল? মমতা-অভিষেক কী পদ পেতে পারেন?
এই গোটা ঘটনায় শুধুমাত্র মমতা নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগঠন যেহেতু সং নির্ভর, তাই কুই মাস্টার ক্লাউনের মতো প্রতিনিধিত্ব করেন ওখানে। সং আছে কিন্তু গঠন নেই, যার ফল হচ্ছে মালা রায়, সায়নী ঘোষ। সংটা যে আরও বৃদ্ধি হয়েছে, বোঝা যাচ্ছে। সং বৃদ্ধি হওয়ার ফলে গঠন আরও বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যাঁকে ক'দিন আগে মহিলা সভানেত্রী করেছেন, যাঁকে যুবসভানেত্রী করেছেন, তাঁরা আজ যা চলছে, তাতে অধিকাংশ সাংসদদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, মতামত জানিয়ে দিয়েছেন।"
এমন পরিস্থিতিতে মমতাপন্থী তৃণমূলের কী হবে, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেসে মিশে যাতে পারে তারা। দিল্লি সফরে গিয়ে দফায় দফায় সনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মমতা এবং অফিস। সনিয়া মমতাকে কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে খবর। কংগ্রেসে তাঁদের বড় পদ দেওয়া হতে পারে বলেও সামনে আসছে। যদিও কংগ্রেস বা তৃণমূল, কোনও পক্ষই এ নিয়ে কিছু জানায়নি এখনও পর্যন্ত।
Before You Go
Ashapur Brinjal GI Tag : আমের পর এবার বেগুনেও বাজিমাত! GI ট্যাগ পেল মালদার আশাপুর বেগুন






















