Debraj Chakraborty Arrest: দেবরাজ গ্রেফতার হতেই তরুণজ্যোতির নিশানায় রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়
BJP MLA Tarunjyoti Tiwari: গ্রেফতার হয়েছেন দেবরাজ চক্রবর্তী। তার সূত্র ধরেই এবার রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন TMC MLA তাপস চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ করলেন BJP MLA তরুণজ্য়োতি তিওয়ারি।

কলকাতা : দেবরাজ চক্রবর্তীর সূত্র ধরে কি সামনে আসবে আরও কোনও তৃণমূল হেভিওয়েটের নাম? তোলাবাজি-মামলায় বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এবার আঙুল তুললেন রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই তৃণমূল নেতা।
এ যেন দুর্নীতির মৌচাকে ঢিল। তোলাবাজি, আর্থিক প্রতারণা-সহ একগুচ্ছ অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবারই ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার হয়েছেন দেবরাজ চক্রবর্তী। তার সূত্র ধরেই এবার রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ করলেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্য়োতি তিওয়ারি। 'বছর দুই-তিনেক আগেও তাপস চ্য়াটার্জির হাত থেকে সাইন করা প্ল্য়ানে কাজ হয়েছে', দাবি বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্য়োতি তিওয়ারির। 'বিল্ডিং প্ল্যান দেখার দায়িত্ব আমার ছিল না। যদি হয়ে থাকে আমি বলব অত্যন্ত অনৈতিক, অত্যন্ত অন্যায়। আইন তার নিজের গতিতেই থাকবে' দাবি প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ের।
তরুণজ্যোতির অভিযোগ, 'ওই এলাকায় BMC প্ল্য়ান না, TMC প্ল্য়ান একটা কমন জিনিস ছিল। TMC প্ল্যানটা কী জিনিস? বছর দুই-তিনেক আগেও তাপস চ্য়াটার্জির হাত থেকে সাইন করা প্ল্য়ানে কাজ হয়েছে। কিছু ব্য়াঙ্ক ইনভলভমেন্ট আছে। সেই বিল্ডিং প্ল্য়ানটা আসল না। নকল বিল্ডিং প্ল্য়ান। মানে তাদেরও ইনভলভমেন্ট আছে। এবার তাপস চ্যাটার্জি, দেবরাজ এই সিন্ডিকেট চলত, সাথে BMC-র কিছু ইঞ্জিনিয়ার ছিল তারা যুক্ত ছিল। সিন্ডিকেট ক্রাইমের মধ্যে সবাই আসছে।'
পুলিশ সূত্রে খবর, দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির ৫টি অ্যাকাউন্টের লেনদেন তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানতে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তদন্তকারীরা। দেবরাজ চক্রবর্তী পুলিশের জালে ধরা পড়তেই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট। পুলিশ সূত্রে খবর, বিধানসভা ভোটের আগে, সিঙ্গল ও জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে যেখানে ৫টি ব্যাঙ্কে দেবরাজ-দম্পতি কোটি কোটি টাকার লেনদেন করেছিলেন, সেখানে রাজ্যে তৃণমূল সরকার বিদায় নিতেই তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকেও একরকম ভ্যানিশ হয়ে গেছে বড় অঙ্কের টাকা।
ভোটের আগেও যেখানে অ্যাকাউন্ট থেকে এক থোকে তোলা হয়েছিল ৫০ লক্ষ টাকা, সেখানে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির মোট ৫টি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে পড়ে আছে মাত্র কয়েক হাজার টাকা। প্রশ্ন উঠছে, কোন নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিগুলো কেনা হয়েছিল? কেনই বা ভোটের আগে তড়িঘড়ি তুলে নেওয়া হয় ৫০ লাখ টাকা? আচমকা ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট প্রায় ফাঁকা হল কীভাবে? এই ৫টি অ্যাকাউন্ট যে ব্যাঙ্কগুলিতে তার ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলতে চান তদন্তকারীরা। দেবরাজের গ্রেফতারির দিনেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় অদিতি মুন্সিকে। সেদিন কার্যত কোনওরকম কোঅপারেশন করেননি তিনি। ২টি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ পায়। সেইসঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিও নিয়ে আসেন তদন্তকারীরা। দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে হিসেব বহির্ভূত কয়েকশো কোটি টাকা থাকার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, নিজের এলাকায় ‘তোলাবাজির সাম্রাজ্য’ কায়েম করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। কিন্তু এর শেকড় কতটা গভীরে? তারই খোঁজ চালাচ্ছে বিধাননগর কমিশনারেটের SIT.























