Suvendu Adhikari: এবার এই বিষয়গুলিতে কড়া সিদ্ধান্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
Suvendu On CBI: ধাপে ধাপে নয়, রেখে রেখে নয়, একসঙ্গে একাধিক কড়া সিদ্ধান্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর

সুমন ঘড়াই ও রুমা পাল, কলকাতা: এবার থেকে রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য সরকারের কোনও অনুমোদন নিতে হবে না কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। দুর্নীতি হঠাতে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে কী জানালেন নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী ?
ধাপে ধাপে নয়, রেখে রেখে নয়, একসঙ্গে একাধিক কড়া সিদ্ধান্ত। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে, সেই ঘুঘুর বাসা ভাঙতে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আজকে আমরা CBI-কে তিনটি দফতরের আধিকারিকরা যারা দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অনুমোদন আমরা দিয়ে দিলাম।' এবার থেকে রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য সরকারের কোনও অনুমোদন নিতে হবে না কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। কার্যত ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হল CBI, ED-র মতো তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে।
মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যে সমস্ত আধিকারিকরা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে CBI বা অন্য়ান্য় কোর্ট নিযুক্ত তদন্তকারী সংস্থা, তারা চার্জশিট দিয়ে তাদেরকে পানিশমেন্ট, দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদন নিতে হয় আইন অনুযায়ী। বিদায়ী সরকার ও বিদায়ী সরকারের মুখ্য়মন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অনুমোদন আটকে রেখেছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও আধিকারিকদের বাঁচানোর জন্য়। এটাতে শিক্ষা দফতরের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি রয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি রয়েছে এবং কোঅপারেটিভের ক্ষেত্রে আমরা আজকে সেটা দিয়ে দিলাম।
তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে শিক্ষা থেকে পুরসভায় নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি সামনে এসেছে। গ্রেফতার হয়েছেন একের পর এক হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি আমলা। স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দিয়ে CBI জানায়, পুরো ষড়যন্ত্রটি তৎকালীন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর সহ-ষড়যন্ত্রীদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। যাঁরা হলেন SSC-র তৎকালীন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য, SSC-র প্রাক্তন চেয়ারপার্সন শর্মিলা মিত্র, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তৎকালীন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, SSC-র উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিন্হা,SSC-র তৎকালীন সচিব ও চেয়ারম্যান অশোককুমার সাহা, SSC-র প্রোগ্রাম অফিসার পর্ণা বসু এবং সমরজিৎ আচার্য-সহ অনেকে।
এবার তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল। রাজ্য়পালের অনুমতি নিয়ে, চারটি মামলায় এদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর ছাড়পত্র দিল রাজ্য়ের বিজেপি সরকার। তিনটি মামলায় SSC-র প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিন্হা, প্রাক্তন চেয়ারম্য়ান সুবীরেশ ভট্টাচার্য, সৌমিত্র সরকার ও অশোক সাহা , মধ্য়শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্য়াণময় গঙ্গোপাধ্য়ায় এবং SSC-র প্রাক্তন প্রোগ্রাম অফিসার সমরজিৎ আচার্য ও পর্ণা বসুর বিরুদ্ধে বিচার চালাতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আর একটি মামলায় এই ৭ জনের পাশাপাশি SSC-র আরেক প্রাক্তন চেয়ারপার্সন শর্মিলা মিত্রর বিরুদ্ধেও বিচার চালাতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য় সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এরা সরকারি আধিকারিকের পদে থেকেও, অসৎভাবে অন্য়ায্য় সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। CBI তদন্তে যে তথ্য় উঠে এসেছে, তাতে সন্তুষ্ট হয়ে এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন অনুয়ায়ী বিচার প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষেত্রে সায় দিয়েছেন রাজ্য়পাল। অন্য় কোনও আইনে বিচার চালাতে হলে সেই ছাড়পত্রও দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতির মামলাতেও CBI-এর চূড়ান্ত চার্জশিটে নাম ছিল রাজ্য সরকারের এক আমলার। সূত্রের দাবি, সেখানে, অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে রাজ্য সরকারের আমলা, IAS অফিসার জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু এইসব সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ট্রায়ালই শুরু করা যায়নি। কারণ এতদিন রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে হলে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হত।
তৎকালীন তৃণমূল সরকারের অনুমতি না মেলায় একাধিক আমলার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুই করা যায়নি।রাজ্যে পালাবদলের পরই সেই নিয়ম তুলে দিল বিজেপি সরকার।সরকার বদলের পর এবার কি দুর্নীতির তদন্তে নতুন গতি আসবে?























