Midnapore Saline Controversy:'স্যালাইন প্রয়োগেই প্রসূতির মৃত্যু,' সন্দেহ ১৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির
West Bengal News: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিষিদ্ধ স্যালাইন প্রয়োগে প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় কাণ্ড। এছাড়া আরও চার প্রসূতির অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিষিদ্ধ স্যালাইন প্রয়োগে প্রসূতির মৃত্যু। যা নিয়ে সরগরম রাজ্য। এবার SSKM হাসপাতালে বৈঠকে বসছে স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, স্যালাইন থেকেই মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে ১৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
মেদিনীপুর মেডিক্য়াল কলেজে মৃত্যু হয়েছে প্রসূতি মামণি রুইদাসের। পৃথিবীর আলো দেখা মাত্রই মাতৃহারা হয়েছে সদ্যোজাত। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিষিদ্ধ স্যালাইন প্রয়োগে প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় কাণ্ড। এছাড়া আরও চার প্রসূতির অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই আবহে আজ রবিবার SSKM হাসপাতালে বৈঠকে বসছে স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল। গতকাল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে তদন্তে যান তাঁরা। আজ SSKM-এর বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিকর্তা ও স্বাস্থ্যসচিবেরও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাকা হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী নন্দী ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধানকে।
স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের কমিটির অনুমান, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতিদের অসুস্থতার কারণ রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন ব্যবহার। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, যে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে এবং যাঁরা অসুস্থ, তাঁদের এই স্যালাইনই দেওয়া হয়েছিল। যাঁরা CCU-তে ভর্তি রয়েছেন, এই স্যালাইন ব্যবহারের পর তাঁদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমেছে। ভেঙে যাচ্ছে রক্ত কণিকা।শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণও কমছে। কিডনিতে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ৩ প্রসূতির ডায়ালিসিস চলছে। স্যালাইন রহস্য ভেদে প্রসূতিদের থেকে নমুনা নিয়ে বায়োপসি করা হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, প্রসবের পরে দেওয়া অক্সিটোসিন ইঞ্জেকশন ও রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না। হিউম্যান এরর, নাকি কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন? পাল্লা ভারী রাসায়নিক বিক্রিয়ার দিকে। তবে মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্যালাইন গুলি দীর্ঘদিন বাক্সবন্দী হয়ে পড়ে থাকায় কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়েছিল কি না, ছত্রাক জন্মেছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে যা স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ জনের তদন্তকারী দল। সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ, হাসপাতালে ঢুকে প্রথমে প্রিন্সিপালের অফিসে চলে যান তদন্তকারী দলের সদস্যরা। সেখানে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল-সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় দু ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠকের পর তদন্তকারী দলের সদস্যরা চলে আসেন মেদিনীপুর মেডিক্যালের প্রসূতি বিভাগের CCU-তে। এই CCU তেই ভর্তি রয়েছেন শেখ আজাদ আলির ভাগ্নি। যিনি বৃহস্পতিবার কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু প্রসবের পরেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতিদের স্যালাইন ছাড়াও আরও কী কী ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, তার নমুনা সংগ্রহ করেন তদন্তকারী দলে থাকা ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের অধিকারিকরা।






















