Fake Voter: তালিকায় জ্বলজ্বল করছে নাম, বাস্তবে হদিশই নেই এইসব 'ভূতুড়ে ভোটার'-দের !
Faker Voters: ভোটার তালিকায় নাম জ্বলজ্বল করছে। নামের পাশাপাশি রয়েছে পরিচয়, ঠিকানা, বয়স, EPIC নম্বর-সহ সব তথ্য। কিন্তু বাস্তবে সেই বুথে এরকম কোনও ব্যক্তিবিশেষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

রানা দাস ও রঞ্জিত হালদার : ২০২৬- এর বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে এখন নতুন উদ্বেগ 'ভূতুড়ে ভোটার'। বিভিন্ন জেলার ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে অদ্ভুত সব বিষয়। ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, অথচ বাস্তবে তাঁদের হদিশই নেই। কেউ পাকাপাকি ভাবে স্থানান্তর হয়েছেন অন্যত্র। কেউ বা মারা গিয়েছেন। অথচ তাঁদের নাম দিব্যি রয়েছে ভোটারদের নামের তালিকায়।
ভোটার তালিকায় নাম জ্বলজ্বল করছে। কোথাও রাখি খাতুন, বিউটি খাতুন। আবার কোথাও আবদুল রহমান সর্দার, সাকিব খান, ফতেমা বিবি। নামের পাশাপাশি রয়েছে পরিচয়, ঠিকানা, বয়স, EPIC নম্বর-সহ সব তথ্য। কিন্তু বাস্তবে সেই বুথে এরকম কোনও ব্যক্তিবিশেষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি যাঁরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৪-৫ দশক ধরে বাস করছেন, তাঁরাও এইসব নামের ভোটারদের চিনতে পারছেন না। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট বিধানসভা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভায় এরকম ভুতূড়ে ভোটারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে।
বিহারে প্রথম দফার ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের পর বাদ যাওয়া ৬৫ লক্ষের মধ্যে ৩৬ লক্ষের বেশিই এমন ভোটার ছিল যাঁরা হয় পাকাপাকিভাবে স্থানান্তর করেছেন অথবা এলাকায় গিয়ে তাঁদের কোনও খোঁজ মেলেনি। বাংলার ক্ষেত্রে তাহলে সেই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, এই প্রশ্ন উঠছে। ভোটার লিস্টে যেন ভুরি ভুরি 'মিস্টার ইন্ডিয়া'! তালিকায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন। নাম, পরিচয়, ঠিকানা, বয়স, EPIC নম্বর- সবই রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে কারও টিকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা থেকে শুরু করে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট, ছবিটা সর্বত্র একই। একাধিক জায়গায় ভূতুড়ে ভোটারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে ইতিমধ্যেই।
মঙ্গলকোট বিধানসভার বৈঁচি গ্রাম। বিজেপির অভিযোগ এই গ্রামে ৫ জন সংখ্য়ালঘুর নাম রয়েছে। যাদের এই গ্রামে কোনও অস্তিত্ব নেই। নাম রয়েছে রাখি খাতুন, বিউটি খাতুন, রোশিনা খাতুন, সফিউদ্দিন শেখ, আলেনুর বেগম। অথচ গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই নামের কেউ ওই গ্রামে থাকেনই না। তাহলে এরা কারা? মঙ্গলকোটের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি দেবজিৎ দে- র কথায়, 'বাংলাদেশি রোহিঙ্গা ভোটার এখানে আমাদের ভোটার লিস্টে ঢুকে যাচ্ছে। এই ৫ জনের এখানে কোনও অস্তিত্বই নেই।'
অন্যদিকে, সুশান্ত পাঁজা, তৃণমূল নেতা ও কর্মাধ্যক্ষ, পঞ্চায়েত সমিতি, কাটোয়া ১ বলছেন, 'কী করে যে নামটা ঢুকে গেল এটা নির্বাচন কমিশনই বলতে পারবেন। তারা বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে আমাদের এখানে এই নাম ক'টা ঢুকিয়ে দিয়ে যাতে আমাদের তৃণমূল দলকে বদনাম করা যায় সেটা ওরা চেষ্টা করছে।' তৃণমূল-বিজেপির দোষারোপের পালার মধ্য়েই কী বলছেন বুথ লেভেল অফিসার? মিনতি চট্টোপাধ্যায়, বুথ লেভেল অফিসার, ২৭৬ নম্বর বুথ (সরগ্রাম) জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক জানিয়েছেন, বিষয়টা তদন্ত করে দেখা হবে।
এ তো গেল মঙ্গলকোটের কথা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তথ্য়-তালাশ করতে গিয়েও একই ছবি দেখা গিয়েছে। ভোটার তালিকা বলছে, ইকবাল সর্দার, আবদুল রহমান সর্দার, সাকিব খান, ফতেমা বিবি এরা সকলেই এই বুথের ভোটার। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন চেনেনই না। বেলেগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদ্যাধরী পল্লির বাসিন্দাদের দাবি, ভোটার তালিকায় এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁদের নাম বা ছবি দেখে চেনা তো দূরের কথা, কস্মিনকালে এই নামের কেউ এলাকায় আদৌ কোনওদিন ছিলই না। সব মিলিয়ে ভুতুড়ে ভোটার নিয়ে বিতর্ক দিনে দিনে বাড়ছে।






















