Supreme Court: হেয় করা যাবে না, চলবে না ভেদাভেদ, পড়ুয়াদের আত্মহত্যা ঠেকাতে ১৫ দফা নির্দেশিকা সুপ্রিম কোর্টের
Students' Suicide Prevention Guidelines: পড়ুয়াদের আত্মহত্যা ঠেকাতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, জানানো হয়েছে।

নয়াদিল্লি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। সেই নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং হস্টেলগুলির জন্য ১৫টি নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত। পড়ুয়াদের আত্মহত্যা ঠেকাতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, জানানো হয়েছে। (Supreme Court)
পড়ুয়াদের মধ্যে আত্মহত্যা ঠেকাতে দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছোট ছোট কেন্দ্রগুলিতেও বাধ্যতামূলক ভাবে মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে বলেছে আদালত। শুক্রবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে শুনানি চলছিল। (Students' Suicide Prevention Guidelines)
পড়ুয়াদের আত্মহত্যা ঠেকাতে উপযুক্ত আইনি বিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতিরা। অন্ধ্রপ্রদেশে সম্প্রতি NEET পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। সেই মামলায় CBI তদন্ত চলছে। আর সেই আবহেই নির্দেশিকা জারি করল আদালত।
আদালত জানিয়েছে—
যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়ার সংখ্যা ১০০ বা তার বেশি, সেখানে কমপক্ষে একজন যোগ্য কাউন্সেলর, মনোবিদ অথবা শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সমাজকর্মী রাখতেই হবে। প্রয়োজনে পড়ুয়াদের যাতে পথ দেখাতে পারেন পেশাদাররা, তার ব্যবস্থা করতে হবে ছোট সংস্থাগুলিকে।
সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সার্বিক মানসিক স্বাস্থ্য নীতি চালু করতে হবে। পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে যে খসড়া ‘উম্মীদ’ প্রস্তাব আনা হয়েছে, সেই অনুযায়ী চলতে হবে। ‘মনোদর্পণ’ এবং সরকারের জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কৌশল অনুযায়ী তৈরি করতে হবে নীতি। প্রতিবছর সেই নীতি পর্যালোচনা করে দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে এবং নোটিস বোর্ডে ঝোলাতে হবে।
In NEET Aspirant's Death Case, Supreme Court Issues Guidelines To Protect Mental Health Of Students In Colleges & Coaching Centres | @mittal_mtn #SupremeCourt #SupremeCourtofIndia https://t.co/0wrpKxw5QP
— Live Law (@LiveLawIndia) July 25, 2025
প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অপটিমাল স্টুডেন্ট-টু-কাউন্সেলরের হার মেনে চলতে হবে। পড়ুয়াদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে, প্রত্যেক দলপিছু একজন কাউন্সেলর বা মেন্টর রাখা হোক। বিশেষ করে পরীক্ষার সময়, নতুন ক্লাসে ওঠার সময়। পড়ুয়াদের ওই সময় আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টারগুলিতে কোনও ভেদাভেদ চলবে না। পরীক্ষার ফলাফলের নিরিখে ভাগ করা যাবে না পড়ুয়াদের, কাউকে অপমান করা যাবে না, খোঁটা দেওয়া যাবে না, পড়ুয়ার সাধ্যের চেয়ে বেশি টার্গেট দেওয়া যাবে না কিছুতেই।
জরুরি পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবা, হাসপাতাল, আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংক্রান্ত হেল্পলাইনের নম্বর লিখে রাখতে হবে সকলের জন্য Tele-MANAS-সহ যে সমস্ত সরকারি পরিষেবা রয়েছে, তার হেল্পলাইন নম্বর হস্টেলে, ক্লাসরুমে, কমন রিয়ায়, ওয়েবসাইটে বড় হরফে লিখতে হবে।
যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিস্থানে হস্টেল রয়েছে, সেখানে ট্যাম্পার প্রুফ সিলিং ফ্য়ান লাগাতে হবে। সহজে ছাদ, ব্যালকনি বা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় উঠে যাতে নিজের ক্ষতি করতে না পারে পড়ুয়ারা, তার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকা দরকার।
জয়পুর, কোটা, সিকার, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং মুম্বইয়ের মতো শহর, যেগুলি কোচিং সেন্টারের হাব, সেখানে উন্নততর মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সেখানে বহু পড়ুয়া ভিড় করেন। সেখানে আত্মহত্যার ঘটনাও বেশি ঘটে। ফলে আত্মহত্যা প্রতিরোধের চেষ্টাও জোরাল হতে হবে।
শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শিক্ষাকর্মী, বছরে দু’বার সকলের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাঁদের প্রশিক্ষণ দেবেন। মানসিক ফার্স্ট এইড, বিপদের ইঙ্গিত বোঝার লক্ষণ, জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপায় তাঁদের বোঝাতে হবে।
যৌন নিগ্রহ, হেনস্থা, ব়্যাগিং এবং অন্যান্য অভিযোগ জমা পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, অভিযোগকারী বা অভিযোগকারিণীর পরিচয় যাতে গোপন রাখা যায়, কেউ যাতে অভিযোগ জানাতে ভয় না পায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। পীড়িত বা পীড়িতার পাশে থাকতে হবে মানসিক ভাবে। কেউ অভিযোগ জানালে, তাকে যাতে হেনস্থা হতে না হয়, সেব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলতে হবে।
দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কোচিং সেন্টার, আবাসিক কেন্দ্র, হস্টেলে নির্দেশিকা কার্যকর, সে যে কোনও বোর্ড বা সংস্থার অধীনেই হোক না কেন। পডুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স যে কাজ করছে এই মুহূর্তে, তার পাশাপাশি এই নির্দেশিকাও কার্যকর হবে। এ নিয়ে বার্ষিক রিপোর্টও প্রস্তুত করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে, যা জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ, UGC, AICTE, CBSE-র কাছে।
কেরিয়ার কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রে পড়ুয়ার পাশাপাশি, তার মা-বাবাকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পড়ুয়ার উপর অবাস্তব কোনও লক্ষ্য় যাতে চাপিয়ে দেওয়া না হয়, পড়ুয়াদের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে ভিন্ন ভিন্ন সুযোগের কথা যাতে জানানো যায়, তার জন্য যোগ্য কাউন্সেল থাকতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে। এক্ষেত্রে সামাজিক-আর্থিক অবস্থার নিরিখে কোনও ভেদাভেদ চলবে না, সকলকে সমান সুযোগ দিতে হবে।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI























