Suvendu Adhikari PA Murder : পেশাদার খুনিদের কারা ভাড়া করেছিল? পুলিশের তদন্তে এবার হাড়হিম করা তথ্য !
Chandranath Rath Murder : চন্দ্রনাথ রথের রুটিন সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য না থাকলে এত নিখুঁতভাবে হামলা চালানো সম্ভব হত না বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

কলকাতা : শনিবার ব্রিগেড সমাবেশ ময়দানে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। তার আগেই মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ-কে গুলি করে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এই হামলা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং পেশাদার কায়দায় সংগঠিত। আর সেই কারণেই এখন পুলিশের তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—এই পেশাদার খুনিদের ভাড়া করল কারা?
মাত্র ৫০ সেকেন্ডে শেষ ‘অপারেশন’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো হামলার ঘটনাটি ঘটে মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা বুঝতে পেরেছেন, প্রথমে পরিকল্পনামাফিক রাস্তা আটকে চন্দ্রনাথ রথের স্করপিও গাড়ি দাঁড় করানো হয়। তারপর কয়েকজন আততায়ী মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি ঘিরে ধরে পরপর গুলি চালায়। হামলা শেষ হতেই বাইকে চেপে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা। তদন্তকারীদের মতে, এত কম সময়ে এত নিখুঁতভাবে গোটা অপারেশন চালানো সাধারণ দুষ্কৃতীদের কাজ হতে পারে না। পুলিশের অনুমান, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রশিক্ষিত সুপারি কিলার এবং অন্তত একজন শার্প শ্যুটার।
কালো কাচের ওপার থেকেও নির্ভুল নিশানা
চন্দ্রনাথ রথ যে স্করপিও গাড়িতে ছিলেন, তার কাচ কালো ফিল্মে ঢাকা ছিল। ফলে বাইরে থেকে গাড়ির ভিতরে কে কোথায় বসে রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝার কথা নয়। কিন্তু তবুও আততায়ীরা সরাসরি সেই দিক থেকেই গুলি চালায়, যেদিকে সামনের সিটে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। তার মধ্যে একাধিক গুলি চন্দ্রনাথ রথের বুকে লাগে। পুলিশ ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, অন্তত তিনটি গুলি তাঁর বুক ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারীদের দাবি, গুলি চালানোর ধরন এবং টার্গেট নির্ধারণ দেখে স্পষ্ট যে আততায়ীদের লক্ষ্য ছিল একটাই—চন্দ্রনাথ রথকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করা।
আগেই করা হয়েছিল ‘রেকি’?
ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, এই হামলার আগে কয়েকদিন ধরে রেকি চালানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সুপারি কিলারদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে তাঁর আপ্তসহায়ককে। পুলিশও এখন সেই তত্ত্বকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের ধারণা, চন্দ্রনাথ রথের প্রতিদিনের যাতায়াত, কখন তিনি বাড়ি ফেরেন, কোন রাস্তায় যাতায়াত করেন এবং গাড়িতে কোথায় বসেন—এসব তথ্য আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। কারণ, গুলি চালানো হয়েছে এমন এক জায়গা লক্ষ্য করে, যেখানে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ নিজে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধুমাত্র মুহূর্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই হামলা করা হয়নি। বরং আগে থেকে পরিকল্পনা করে, সময় বেছে এবং টার্গেট চিহ্নিত করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ড্রাইভার নন, মূল লক্ষ্য ছিলেন চন্দ্রনাথ
ঘটনার সময় গাড়িতে আরও দু’জন ছিলেন। একজন ছিলেন চালক এবং আরেকজন অতিরিক্ত ড্রাইভার, যিনি মাঝের সিটে বসেছিলেন। গুলিতে মূল চালকও আহত হন। তবে তদন্তকারীদের বক্তব্য, ড্রাইভার টার্গেট ছিলেন না। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে দিকের জানলা দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে, সেটি ছিল সামনের বাঁদিকের সিটের দিক। সেখানেই বসেছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। বুলেটের অ্যাঙ্গেল, ইনজুরির ধরন এবং কাচে তৈরি হওয়া একমাত্র ছিদ্র দেখে তদন্তকারীরা প্রায় নিশ্চিত যে আততায়ীরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেই নিশানা করেছিল। প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, গাড়ির কালো কাচ ভেদ করে এত নিখুঁতভাবে গুলি চালানো অত্যন্ত দক্ষ শ্যুটারের পক্ষেই সম্ভব।
কার নির্দেশে এল সুপারি কিলার?
এই মুহূর্তে পুলিশের তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—এই পেশাদার খুনিদের নিয়োগ করল কারা? তদন্তকারীরা চন্দ্রনাথ রথের সাম্প্রতিক গতিবিধি, তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ, কোনও হুমকি পেয়েছিলেন কি না এবং তাঁর রুটিন সম্পর্কে কারা জানত, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের পালানোর রুট বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার মোবাইল টাওয়ারের ডেটাও খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, হামলার আগে কোনও সন্দেহজনক বাইক বা গাড়ি এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল কি না।
পুলিশ সূত্রে খবর, হামলাকারীরা স্থানীয় কারও সাহায্য পেয়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, চন্দ্রনাথ রথের রুটিন সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য না থাকলে এত নিখুঁতভাবে হামলা চালানো সম্ভব হত না বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব একে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। শমীক ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছেন, একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং আপাতভাবে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন এভাবে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হল। রাজ্য বিজেপি প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের দাবি, অপরাধীদের খুঁজে বের করতে যে যে স্তরে যা যা করা দরকার, তাই করা হচ্ছে। এখানে যে তৃণমূলের যোগ রয়েছে, সেটা পরিষ্কার। এটা খুঁজে পাওয়া য়াবে।
অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত এই খুনের ঘটনায় কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, হামলার ধরন দেখে পেশাদার সুপারি কিলার জড়িত থাকার সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু কার নির্দেশে এবং কোন উদ্দেশ্যে এই অপারেশন চালানো হল, সেই উত্তর এখনও অধরা।
আরও পড়ুন, 'আমার পাশ দিয়েই ওই খুনি ক্রস করেছিল, তারপর...' শিউরে ওঠা ঘটনা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী
Before You Go
CM Suvendu Adhikari News: জেলে মোবাইল ব্যবহার, কড়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী; তদন্তভার CID-কে




















