Bengal Election 2026 : এবার ভোট-ময়দানে কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল ?
Tumpa Kayal : "ব্যক্তিগত দিক থেকে আমি অনেকটাই দেরি করে ফেলেছি। এবং পুরো শেষের মুখে।"

সমীরণ পাল : এবার ভোট-ময়দানে কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল ? ভোটে লড়তে চেয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর দ্বারস্থ হলেন তিনি।
টুম্পা বলেন, "১২ বছর হয়ে গেছে। এখন আমি ভাবছি যে কোনও একটা রাজনীতির ছত্রছায়ায় এসে আন্দোলন করতে। কারণ, আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি এবং দেখেছি। রাজনীতি ছাড়া আন্দোলন করা অত্যন্ত টাফ ব্যাপার হয়ে গেছে। সেই কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বিজেপি জয়েন করব। সেইমতো দাদার সঙ্গে কথা হল। দু'-তিনদিনের মধ্যে জয়েন করার কথা হয়েছে। তারিখটা জানানো হবে। আমি চাই, রাজনীতির ছত্রছায়ায় এসে আন্দোলন করতে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ব্যক্তিগত দিক থেকে আমি অনেকটাই দেরি করে ফেলেছি। এবং পুরো শেষের মুখে। এখন জানি না কী করবে দল। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই সিদ্ধান্তই আমাকে মেনে নিতে হবে। কারণ, আমি তো অনেক শেষে এসেছি। সেটা দল যেটা মনে করবে সেই সিদ্ধান্ত হবে।"
এরপরই রাজ্য সরকার ও পুলিশকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, "আমরা দেখেছি, রাজ্য সরকারের পুলিশ রাজ্যেরই কথায় চলেছে। রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী যেভাবে ওদের নির্দেশ দিয়েছেন, ওরা সেভাবেই চলেছে। সেই ক্ষেত্রে রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী যেভাবে বলেছেন... রাজ্যের পুলিশরা সেভাবে আমাদের কাজ করেনি। সেইভাবে আমাদের নিরাপত্তা দেয়নি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম ২০১৩ থেকে। এখনও পর্যন্ত সেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাজ্য পুলিশের কথা আমাদের কিছু বলার নেই। কারণ, আমরা দেখেছি, যারা দোষী, যারা ধর্ষণকারী তাদের সাপোর্ট দিতে, তাদের সুরক্ষা দিতে। যারা প্রতিবাদী তাঁদের কখনো সুরক্ষা রাজ্যের পুলিশ দেয়নি।"
২০১৩ সালের ৭ জুন কামদুনির কান্না নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্য়কে। পাঁচিলঘেরা ফাঁকা জমি থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ। গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল তাঁকে। দশদিন পর, ২০১৩-র ১৭ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামদুনিতে যান। আশ্বাস দেন দ্রুত বিচারের। পরবর্তীকালে ব্য়াঙ্কশাল আদালত ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর কামদুনিকাণ্ডে ৩ আসামিরই ফাঁসির সাজা রদ করে কলকাতা হাইকোর্ট। ২ দোষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় ও ৪ জনকে খালাস করে হাইকোর্ট। যা নিয়ে কামদুনিকাণ্ডের প্রতিবাদী ও নিহত ছাত্রীর বান্ধবী টুম্পা কয়াল বলেছিলেন, ''আমরা এই আশা কোনও দিন করিনি, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের পর আমরা এই আশা সত্যিই করিনি।''
প্রসঙ্গত, কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসাবে উঠে এসেছিলেন টুম্পা কয়াল ও মৌসুমী কয়াল।





















