West Bengal Election: ভোটের আগে বেআইনি জমায়েতের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি, অমান্য করলেই গ্রেফতার
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও মিছিল, সভা বা জমায়েত করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারের মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে

রুমা পাল, কলকাতা : রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বারবার অশান্তি ও উত্তেজনার জেরে এবার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে বেআইনি জমায়েতের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অমান্য করলে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও মিছিল, সভা বা জমায়েত করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারের মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শুধু তাই নয়, CEO দফতর-এ যাওয়ার ক্ষেত্রেও আগে থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও রাজনৈতিক সংগঠন বা গোষ্ঠী অনুমতি ছাড়া সেখানে জমায়েত করতে পারবে না।
অনুমতি ছাড়া মিছিল-সভা নিষিদ্ধ
বিশেষ করে, তৃণমূলপন্থী সংগঠন BLO অধিকার রক্ষা কমিটি-র ধর্নামঞ্চ নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিশন। CEO দফতরের কাছে ফের মঞ্চ বেঁধে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা হলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাসপেনশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গল ও বুধবার দফায় দফায় অশান্তির পর ইতিমধ্যেই CEO দফতরের বাইরে তৈরি দুটি বিক্ষোভমঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বড় সিদ্ধান্ত! অভিযুক্তদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
এছাড়া নির্বাচনের আগে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত এবং অপরাধমূলক অতীত থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্টেট পুলিশ নোডাল অফিসারের কাছে এই সংক্রান্ত আপডেটেড স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর ১২টার মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এতে রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র, পুলিশ জেলা ও কমিশনারেটে বর্তমানে কতজন ব্যক্তি নিরাপত্তা পাচ্ছেন, তাঁদের নাম ও পদবী-সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?
অভিযোগ, রাজ্যে এমন বহু ব্যক্তি রয়েছেন যাঁরা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা অপরাধমূলক অতীত থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে জামিন বা প্যারোলে মুক্ত। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সম্ভাব্য হুমকির অভিযোগ তুলে এবং পদমর্যাদার জোরে সরকারি নিরাপত্তা ভোগ করছেন। এই পরিস্থিতিতেই কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কবে থেকে লাগু হবে?
কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, ২ এপ্রিল রাতের মধ্যেই এই ধরনের সমস্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রত্যাহার করতে হবে। অর্থাৎ, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড়সড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।





















