Kunal Ghosh: ভোটে লড়ছেন কুণাল ঘোষ, ৫৭ বছর বয়সে এই প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইয়ে, এই আসনে প্রার্থী করল তৃণমূল...
TMC candidate Kunal Ghosh constituency name : মঙ্গলবার তাঁর নাম ঘোষণা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটায় প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। ভোটের ময়দানে আগমন ঘটল তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদকের। মঙ্গলবার তাঁর নাম ঘোষণা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিচ্ছিলেন কুণাল। এমনকি আগের সাফল্য ছাপিয়ে যাবে বলেও দাবি করছিলেন। তবে তিনি যে প্রার্থী হতে পারেন, তার ইঙ্গিত দেননি একটি বারও। আজ সরাসরি তাঁর নাম ঘোষণা করলেন অভিষেক। (Kunal Ghosh TMC Candidate)
কুণালকে যে বেলেঘাটায় প্রার্থী করা হল, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১১ সাল থেকে সেখানে তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন পরেশ পাল। কাঁকুড়গাছিতে নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকারকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। গত বছর বন্ডের বিনিময়ে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করে কলকাতা হাইকোর্টে। এবার আর পরেশকে টিকিট দিল না তৃণমূল। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হল কুণালকে। (TMC Candidate List Announcement)
২০১২ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন কুণাল। তৃণমূলের মুখপাত্রর ভূমিকা পালন করেছেন আগে। বর্তমানে দলের রাজ্য সম্পাদকও তিনি। তবে ভোটের ময়দানে এই প্রথম দেখা যাবে কুণালকে। তিনি প্রার্থী হতে পারেন বলে কার্যত টেরই পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে এনে চমক দেওয়া হল কি না, প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মমতা বলেন, "অনেকগুলো নতুন মুখ এসেছে এবার। দেবাংশু আছে, তৃণাঙ্কুর আছে। তন্ময় ঘোষ আছেন, সাংবাদিক দেবদীপ ঘোষ এবং কুণাল ঘোষও আছেন। সব ক্ষেত্র থেকেই প্রার্থী রেখেছি।" কুণাল সম্প্রতি অভিনয়েও পা রেখেছেন। সেই আবহেই গুরুদায়িত্ব চাপল তাঁর কাঁধে।
আগাগোড়াই জোড়াফুল শিবিরের অংশ কুণাল। মমতার ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তৃণমূলে কম ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি কুণালকে। ২০১২ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করে তৃণমূল। কিন্তু ২০১৩ সালে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে। ওই বছরই ১৪ এপ্রিল সারদা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। সেই সময় সারদা মিডিয়ার প্রধান ছিলেন কুণাল। ২৩ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
জেলবন্দি থাকাকালীন একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেন কুণাল। এমনকি সারদার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা যদি কেউ পেয়ে থাকেন, তিনি মমতা বলেও দাবি করেন। প্রায় তিন বছর জেলবন্দি ছিলেন কুণাল। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে মুক্তি পান। সারদার কাছ থেকে প্রাপ্ত বেতনের ২.৬৭ কোটি টাকাও ফেরত দেন কুণাল। এর পরও তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের জুলাই মাসে তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দলের রাজ্য সম্পাদক নিযুক্ত হন।
তবে এর পরও দলের অন্দরে বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন কুণাল। ২০২৪ সালে দলের একাধিক ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেন। দলে 'স্বার্থপর', 'অযোগ্য', 'গ্রুপবাজি' করা বহু লোক রয়েছে, তারা ভোটের সময় মমতা এবং অভিষেকের কাঁধে ভর করে জিতে যায় বলে দাবি করেন। কলকাতার প্রভাবশালী নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন। সেই নিয়ে তাঁকে শোকজ নোটিস ধরায় তৃণমূল। অভিমানে দলের মুখপাত্রের পদ ছেড়ে দেন কুণাল। রাজ্য সম্পাদক পদের অধিকারী হলে যে উল্লেখ ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়, তাও সরিয়ে দেন। তবে উপনির্বাচনের আগে নীরবে ফের প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। সম্প্রতি ধর্মতলায় মমতার SIR-বিরোধী ধর্নামঞ্চেও ছিলেন কুণাল। গতকাল পর্যন্তও দলের হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। আর আজই প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হল তাঁর।





















