Suvendu Adhikari on Nandigram: নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর, কোথা থেকে ভোটে লড়তে চান? নিজের পছন্দ জানালেন শুভেন্দু অধিকারী
Suvendu Adhikari: রবিবার ভোটের দিন ক্ষণ ঘোষণার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু।

কলকাতা: ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম, কোন আসন পছন্দ তাঁর? জবাব দিতে গিয়ে নন্দীগ্রামকেই এগিয়ে রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, কে, কোথায় প্রার্থী হবেন, বিজেপি-নেতৃত্বই তা ঠিক করবেন। তবে তাঁকে যদি বেছে নিতে বলা হয়, সেক্ষেত্রে তিনি নন্দীগ্রাম থেকেই লড়তে ইচ্ছুক। রবিবার নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের ঠিক আগে এমনই মন্তব্য করলেন শুভেন্দু। কিন্তু ভবানীপুর নিয়ে যে বেশ কিছু দিন ধরে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে আসছিলেন তিনি? সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি বিরোধী দলনেতা। জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামকে রেখে অন্য কিছু ভাবতে পারেন তিনি। তাহলে কি দুই কেন্দ্র থেকেই এবার ভোটে দাঁড়াবেন শুভেন্দু? নতুন করে জল্পনা উস্কে দিলেন। (Suvendu Adhikari)
রবিবার ভোটের দিন ক্ষণ ঘোষণার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। কোথা থেকে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক জানতে চাইলে বলেন, "আমার ভাবার কিছু নেই। বিজেপি-তে ব্যক্তিগত কিছু হয় না। এটা পিসি-ভাইপোর পার্টি নয়। এখানে ব্যক্তিসিদ্ধান্ত হয় না। এখানে সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত হয়। বিজেপি আমাকে না লড়ালেও ঠিক আছে, লড়তে দিলেও ঠিক আছে।" (Suvendu Adhikari on Nandigram)
তবে এর পরই নিজের পছন্দ বুঝিয়ে দেন শুভেন্দু। বলেন, "আমাকে জিজ্ঞেস করলে বলব, আমি নন্দীগ্রামেই লড়ব। তার পরও বিজেপি যদি বলে, এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে, তা-ই হবে। নন্দীগ্রাম আমার ভদ্রাসন এবং আত্মিক সম্পদ। আমাকে যদি লড়তেই হয়, নন্দীগ্রাম রেখে অন্য কিছু ভাবতে পারি। সেটা আমার অধিকার আছে বলার। দলের কাছে বলেছি, বলবও ভবিষ্যতে। নন্দীগ্রাম নিয়ে কোনও দ্বিমত, দ্বিচারিতা নেই।"
এ নিয়ে শুভেন্দুকে বিঁধেছেন তৃণমূলের অরূপ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি দু'বার ধরাশায়ী হয়েছে। ২০২১ সালে অমিত শাহকে বুঝিয়েছিল 'অব কি বার, ২০০ পার', বাংলার মানুষ পগার পার করে রেখে দিয়েছিল। লোকসভার আগে ৩০ পার বুঝিয়েছিল, বাংলার মানুষ মমতাদিকে ২৯টি আসনে জয়ী করেছিল। শুভেন্দুর এহেন পারফরম্যান্স এবং ছড়ি ঘোরানোতে বিরক্ত হয়ে, পুরনো বিজেপি শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতি করে ওঁর ডানা ইতিমধ্যেই ছেঁটে দিয়েছে। এবার শুভেন্দু টিকিট পাবে কি না, তা নিয়েই সংশয়। নিজে মুখেই যখন বলতে হচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি-তে শুভেন্দু ঠিক কতটা কোণঠাসা। আর ও নিজেও জানে, লোডশেডিং না করলে ২০২১ সালে বিধায়ক হতো না। পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বিভাগ এবার ঠিক করে রেখেছে, নন্দীগ্রামে এবার লোডশেডিং হবে না। এতদিন ডায়লগ দিয়েছে ভবানীপুরে মমতাদিকে হারিয়ে দেখাবে। লেজ গুটিয়ে পালাতে হচ্ছে কেন? কারণ শুভেন্দু জানে, বাংলায় ভরাডুবি হবে বিজেপি-র। SIR নিয়ে বাঙালির সঙ্গে যে অসভ্যতা হয়েছে, বাংলায় কথা বললে যে অত্যাচার হয়েছে, তার মূল নায়ক শুভেন্দু। কলঙ্কিত মিরজাফরকে বাংলার মানুষ হারাবে। তাই অজুহাত তৈরি করে রাখছে যে দল চাইলে দাঁড়াবে। বিরোধী দলনেতা দল চাইলে দাঁড়াবে মানে!"
ভবানীপুর নিয়ে এর আগে বার বার জল্পনা উস্কে দিয়েছেন খোদ শুভেন্দুই। ভবানীপুরে সভা করেছেন, সম্প্রতি সেখানে দোল উৎসবেও যোগ দেন। এমনকি SIR-এ ভবানীপুর থেকে ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ গেলেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতানোর মতো ভোটার ভবানীপুরে আর নেই বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি ২০২১-এ তাঁর কাছে নন্দীগ্রামে যেভাবে হারতে হয়েছিল মমতাকে, ভবানীপুরে তার পুনরাবৃত্তি হবেন বলে দাবি করেন শুভেন্দু। দল চাইলে ভবানীপুরে তিনি প্রার্থী হতে পারেন বলেও জানান প্রকাশ্যেই। সূত্রের খবর, প্রার্থিতালিকা নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসলে, অমিত শাহ, নিতিন নবীনও শুভেন্দুর কাছে পছন্দের আসনের কথা জানতে চান। কিন্তু এদিন ভোটঘোষণার আগে নন্দীগ্রামকেই এগিয়ে রাখলেন শুভেন্দু।
সেরা শিরোনাম




















